
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা যেন শেষ হওয়ার নয়। লিওনেল মেসি তো বটেই, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও দিয়েছেন বার্তা। কেউ সামাজিক মাধ্যমে, কেউবা চিরকুট ঝুলিয়ে, কেউ আবার খোলাচিঠিতে নিজের মনের কথা প্রকাশ করেছেন। এবার প্রকাশিত হলো কিলিয়ান এমবাপ্পের খোলাচিঠি।
বিস্তারিত পড়ুন
বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে এখনো আলোচনা শেষ হয়নি। ম্যাচ শেষে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার ক্ষমা প্রার্থনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন স্পেনের মিডফিল্ডার দানি ওলমো। একই সঙ্গে সাবেক ডিফেন্ডারকে মিথ্যাবাদী বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফুটবল দল যার যার দেশে ফিরেছে। তবে ফাইনালের আগমুহূর্তে কী কী ঘটেছে, তা নিয়ে এখনো চলছে আলোচনা। এবার জানা গেল স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নামার আগে সতীর্থদের দেওয়া লিওনেল মেসির এক বিশেষ উপহার সম্পর্কে।

বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া যোগ দিয়েছেন চিলির ক্লাব কোলো কোলোয়। বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত ঔজ্জ্বল্যের সুবাদে আরও পাঁচ তারকা পেতে পারেন নতুন ঠিকানা

এই তো গত রোববারের ঘটনা। নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর লিওনেল মেসির চোখ দিয়ে অঝোরে ঝরতে থাকে পানি। ভক্ত-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দিয়েছেন এক আবেগঘন বার্তাও। দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর এবার জনসমক্ষে এলেন আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ড।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করলেও আর্জেন্টিনা দলের লড়াকু পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পুরো দল, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

রূপকথার বিশ্বকাপ অভিযান এবার ভোজিনিয়াকে নতুন ঠিকানায় এনে দিল। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বমঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নজর কাড়ার পর চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।


নিউজার্সির মিঠে বিকেলে মাঠের দুই প্রান্তে একই সঙ্গে দুটি দৃশ্য দেখা গেল। এক প্রান্তে লিওনেল মেসি বসে আছেন, চোখে তাঁর অশ্রুর ধারা। প্রিয় সতীর্থ ‘দিবু’ মার্তিনেস একবার ওঠানোর চেষ্টা করলেন, মেসির যেন ওঠার শক্তিও নেই। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত মেসি বসেই রইলেন। আরেক প্রান্তে লামিনে ইয়ামাল, মাঠেই শুয়ে পড়েছেন। খ

ফাইনালের আগে নিউইয়র্ক যেন প্রায় দখলেই নিয়ে ফেলেছিল আর্জেন্টাইনরা। নিউজার্সি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেও যথারীতি তাঁদের দাপট। কিন্তু এই দাপটে কি আর চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায়? আধিপত্য দেখাতে হয় মাঠে। সেটাই স্পেন দেখিয়েছে। ফাইনালে শুরু থেকে নিউজার্সিতে প্রতিষ্ঠা লা রোহাদের রাজত্ব। পাসিং, প্রেসিং, বলের দখল, আক্রম

বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন উপস্থিত সাংবাদিকদের নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়াম ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন ফিফার কর্মকর্তারা। সেদিন খুব কাছ থেকে নিউজার্সি স্টেডিয়ামের অন্দর দেখার সুযোগ হয়েছিল। ড্রেসিংরুম, ডাগআউট থেকে শুরু করে ঘন ঘাসের বুননে তৈরি সবুজ মাঠের কাছে দাঁড়িয়ে সেদিন ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন ছিল...
বিশ্বকাপের কোন দল কেমন
























১৯৩০ থেকে ২০২২·এক নজরে ইতিহাসের সংখ্যা
আসর সম্পন্ন
ফিফা বিশ্বকাপ
মোট গোল
গড় ২.৮২ গোল/ম্যাচ
মোট ম্যাচ
১৯৩০–২০২২
হোস্ট জয়
নিজ মাঠে শিরোপা
লিওনেল মেসি
১৮কিলিয়ান এমবাপ্পে
১৬মিরোস্লাভ ক্লোসা
১৬রোনালদো
১৫গের্ড মুলার
১৪জাস্ত ফন্টেইন
১৩সর্বোচ্চ গোলের আসর:
২০২২ (কাতার) | ১৭২ গোল
৬৪ ম্যাচ | চ্যাম্পিয়ন: আর্জেন্টিনা

এক আসরে সর্বোচ্চ গোল:
জাস্ত ফন্টেইন (ফ্রান্স, ১৯৫৮) | ১৩ গোল

গোল্ডেন বল জয়ী
২০১৪: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
২০১৮: লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া)
২০২২: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)

ছবিতে ছবিতে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের কিছু ঘটনা, ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ফ্রান্সকে হারিয়ে ১৬ বছর পর ফাইনালে স্পেন

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো সেমিতে আর্জেন্টিনা, নরওয়েকে থামিয়ে দিল ইংল্যান্ড

বেলজিয়ামকে কাঁদিয়ে সেমিতে স্পেন

মরক্কোকে কাঁদিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

অবিশ্বাস্য জয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা, শেষ আটে সুইজারল্যান্ডও

রোনালদোর কান্নাভেজা বিদায়, যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দিল বেলজিয়াম

বিশ্বকাপ জয়ের পর মাঠেই হাঁটু গেড়ে মোনাজাত, ইয়ামালের আবেগঘন দৃশ্য ভাইরাল









ট্রাই মানে ‘তিন’, আর স্প্যানিশ ভাষায় ওন্ডা শব্দের অর্থ ‘ঢেউ’। তিন আয়োজক দেশের ফুটবলের ঢেউয়ে মেতে উঠবে পুরো বিশ্ব। আয়োজক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার প্রতি সম্মান রেখে বলের নকশায় লাল, সবুজ ও নীল রং ব্যবহৃত হয়েছে। চার প্যানেলের নকশা বলে ঢেউয়ের মতো জ্যামিতি তৈরি করেছে; যা নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য দেখায়। প্যানেলগুলো মিলে বলের মাঝে একটি ত্রিভুজ তৈরি করেছে। এ ছাড়া বলে তিন দেশের প্রতীক খোদাই করে তুলে ধরা হয়—কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল ও যুক্তরাষ্ট্রের তারকা। বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলে রাখা হয়েছে সোনালি রংয়ের আভাও।
অ্যাডিডাসের তৈরি এই বলে ব্যবহৃত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও।চার প্যানেলের নকশায় থাকা গভীর সেলাই, বলের গতিপথে সমানভাবে টান সৃষ্টি করে। ফলে বাতাসে থাকার সময় বলের স্থিতিশীলতা বেড়ে যায়। খোদাই করা প্রতীকগুলো ভেজা ও আর্দ্র পরিবেশে বলের গ্রিপ আরও শক্ত করে তুলবে।
গত বিশ্বকাপের মতো এবারও বলের ভেতর থাকছে ৫০০ হার্জ সেন্সরের চিপ; যা রেফারির সিদ্ধান্তকে নির্ভুল হতে সহায়তা করে। বিশেষ করে অফসাইড ও হ্যান্ডবলের ক্ষেত্রে বলের নড়াচড়ার প্রতিটি মুহূর্ত রিয়েল টাইমে ভিএআরের কাছে পাঠায়। চিপটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার সিগনাল পাঠায়, যা একটি প্যানেলের নিচে বসানো। বলের অন্য তিনটি প্যানেল চিপযুক্ত প্যানেলের ভারসাম্য রক্ষা করে।

পূর্বাপর জানা না থাকলেও একনজর দেখেই যে কেউ বলে দিতে পারবে এটি ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। ২০২৬ সালের ‘২৬’ সংখ্যাটাকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে তার ওপর বিশ্বকাপের ট্রফি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অফিশিয়াল লোগোয় আয়োজনের সাল ও ট্রফির ব্যবহার এই প্রথম। বাইরের এজেন্সির সহায়তা নিয়ে এই লোগোর ডিজাইন করেছে ফিফার ব্র্যান্ড টিম। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এই তিন দেশের মোট ১৬টি ভেন্যুতে হচ্ছে বিশ্বকাপ। প্রতিটি আয়োজক শহর নিজেদের স্বকীয়তা তুলে ধরতে ‘২৬’ লেখাটায় নিজেদের মতো করে রং ও আইকোনোগ্রাফির ব্যবহার করতে পারবে।

ম্যাপল, জায়ু ও ক্লাচ—এই তিন মিলিয়েই এবারের মাসকট। টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক তিন দেশের প্রতিনিধিও তারা। ম্যাপল দ্য মুজ কানাডার, জায়ু দ্য জাগুয়ার মেক্সিকোর আর ক্লাচ দ্য বাল্ড ইগল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি।
কানাডার সব প্রদেশ ও অঞ্চল ঘুরে বেড়িয়ে মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করাই ম্যাপলের কাজ। শহুরে সাজ ও সংগীতপ্রেমী ম্যাপল একজন নিবেদিত গোলরক্ষকও। সৃজনশীলতা, দৃঢ়তা আর স্বকীয়তা ধরে রাখার মধ্য দিয়ে জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছে সে। মাঠে যেমন গোল বাঁচানোর অসাধারণ ক্ষমতা আছে, তেমনি তার হৃদয় শক্তি ও নেতৃত্বগুণে ভরপুর। অসংখ্য গল্প ও অনুপ্রেরণায় মিলিত ম্যাপল কানাডার সংস্কৃতি ও চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণাঞ্চলের জঙ্গল থেকে উঠে এসে জায়ু মেক্সিকোর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও প্রাণবন্ত সংস্কৃতিকে ধারণ করে। তার নামের মধ্যেই শোভা পায় একতা, শক্তি ও আনন্দের বার্তা। মাঠে সে ধুরন্ধর ও ক্ষিপ্রগতির স্ট্রাইকার। মাঠের বাইরে সে নাচ, খাদ্য ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। সীমান্তের বাধা পেরিয়ে জায়ু তাই সাংস্কৃতিক উৎসব, ঐক্য ও সংযোগের প্রতীক।
সীমাহীন কৌতূহল, উৎসাহ ও আশাবাদের সঙ্গে উড়ে বেড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্কৃতি, খেলার মুহূর্ত ধারণ করে ক্লাচ। মাঠে সে একজন নির্ভীক মিডফিল্ডারের মতো উজ্জীবিত করে পুরো দলকে। লক্ষ্য এবং খেলার আবেগের সঙ্গে জীবনকে উজ্জীবিত করার বার্তা নিয়ে উড়ে বেড়ায় সে।

আটলান্টা মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়াম

ডালাস

সিয়াটল স্টেডিয়াম

কানসাস সিটি

নিউজার্সি স্টেডিয়াম

বোস্টন

ফিলাডেলফিয়া

মায়ামি স্টেডিয়াম

লস অ্যাঞ্জেলেস

সান ফ্রান্সিসকো

হিউস্টন স্টেডিয়াম
এক্সপার্ট প্যানেল ও পাঠক ভোট প্রতি ম্যাচ এর পূর্বে যুক্ত হবে।