
বিশ্বকাপের দুই দলের দেখা হয়েছিল দুই দশক আগে, ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে। সেবার শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েও জিনেদিন জিদানের জাদুতে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল ফ্রান্স। দুই দশক পর বিশ্বকাপে আবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। তবে এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা।
বিস্তারিত পড়ুনএক্সপার্ট প্যানেল ও পাঠক ভোট প্রতি ম্যাচ এর পূর্বে যুক্ত হবে।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামার আগে শুরুর একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন না আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে প্রত্যাশা পূরণ না হলেও পরিচিত খেলোয়াড়দের ওপরই আস্থা রাখছেন বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ—এমনটাই জানিয়েছে টিওয়াসি স্পোর্টস।

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর রেফারিং নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। ইংলিশ সমর্থকদের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ তুলেছেন, বিশ্বকাপে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পর টুর্নামেন্টে নিজেদের পছন্দের দল বেছে নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছে, তাঁদের চাওয়া এবারের বিশ্বকাপ জিতুক ইংল্যান্ড।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে চিরচেনা আকাশি-সাদা জার্সিতে নয়, লিওনেল স্কালোনির দল খেলবে নীল-কালো অ্যাওয়ে জার্সিতে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের দুটি স্মরণীয় জয়েও এই অ্যাওয়ে জার্সি পরেছিল আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনা কি রেফারিংয়ে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে এবারের বিশ্বকাপের বিতর্কের শেষ নেই। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কয়েকটি সিদ্ধান্তের পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়ট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তব চিত্রটি কিছুটা ভিন

দেখতে দেখতে শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। গ্রুপপর্ব, সেরা ৩২, শেষ ষোলো এবং কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে এবার সেমিফাইনালের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ভক্তরা। শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড। দলগুলোকে ফাইনালে ওঠার মূলমন্ত্র জানিয়ে দিলেন জার্মান কিংবদন্তি গোলরক্ষক অলিভার কান।


আর্জেন্টিনা দলের যেকোনো কার্যক্রমে সবার আগে যাঁকে খোঁজা হয়, তিনি লিওনেল মেসি। আজ কানসাসের ট্রেনিং সেন্টারেও যথারীতি সংবাদমাধ্যমের চোখ খুঁজছিল মেসিকেই। স্থানীয় সময় বিকেল ৬টায় দলের অনুশীলনে অধিকাংশকেই দেখা গেল। কিন্তু মেসি কোথায়?

সুইসদের বিপক্ষে মেসিদের দারুণ এক জয়ের পর কানসাস স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে দেখা হতেই আর্জেন্টিনার টেলিভিশন টেলেফের সাংবাদিক এমিলিয়ানো লাপোলা ভ্রু বাঁকিয়ে বললেন, ব্রিটিশ মিডিয়া তো ‘খেলা’ শুরু করে দিয়েছে, দেখেছেন? কী খেলা, জানতে চাইলে তাঁর উত্তর, ‘মনস্তাত্ত্বিক খেলা! আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে যত নেতিবাচক

জুস্ত ফঁতেন প্রয়াত হয়েছেন তিন বছর আগে। ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৯ বছর বয়সে মর্ত্যলোক ত্যাগ করেছেন ফরাসি কিংবদন্তি। জীবদ্দশায় তিনি খুব ভালোভাবেই দেখে গেছেন এ গ্রহের লিওনেল মেসি নামের এক ফুটবল জাদুকরকে।
বিশ্বকাপের কোন দল কেমন

























আটলান্টা মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়াম

ডালাস

সিয়াটল স্টেডিয়াম

কানসাস সিটি

নিউজার্সি স্টেডিয়াম

বোস্টন

ফিলাডেলফিয়া

মায়ামি স্টেডিয়াম

লস অ্যাঞ্জেলেস

সান ফ্রান্সিসকো

হিউস্টন স্টেডিয়াম
১৯৩০ থেকে ২০২২·এক নজরে ইতিহাসের সংখ্যা
আসর সম্পন্ন
ফিফা বিশ্বকাপ
মোট গোল
গড় ২.৮২ গোল/ম্যাচ
মোট ম্যাচ
১৯৩০–২০২২
হোস্ট জয়
নিজ মাঠে শিরোপা
লিওনেল মেসি
১৮কিলিয়ান এমবাপ্পে
১৬মিরোস্লাভ ক্লোসা
১৬রোনালদো
১৫গের্ড মুলার
১৪জাস্ত ফন্টেইন
১৩সর্বোচ্চ গোলের আসর:
২০২২ (কাতার) | ১৭২ গোল
৬৪ ম্যাচ | চ্যাম্পিয়ন: আর্জেন্টিনা

এক আসরে সর্বোচ্চ গোল:
জাস্ত ফন্টেইন (ফ্রান্স, ১৯৫৮) | ১৩ গোল

গোল্ডেন বল জয়ী
২০১৪: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
২০১৮: লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া)
২০২২: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো সেমিতে আর্জেন্টিনা, নরওয়েকে থামিয়ে দিল ইংল্যান্ড

বেলজিয়ামকে কাঁদিয়ে সেমিতে স্পেন

মরক্কোকে কাঁদিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

অবিশ্বাস্য জয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা, শেষ আটে সুইজারল্যান্ডও

রোনালদোর কান্নাভেজা বিদায়, যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দিল বেলজিয়াম

ব্রাজিলকে বিদায় করে দিল নরওয়ে, কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড

উড়ন্ত জয়ে কোয়ার্টারে মরক্কো, এমবাপ্পের গোলে শেষ আটে ফ্রান্স

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা

মিসরের সঙ্গে দুর্দান্ত জয়ের পরে কানসাসে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে এল আর্জেন্টিনা









ট্রাই মানে ‘তিন’, আর স্প্যানিশ ভাষায় ওন্ডা শব্দের অর্থ ‘ঢেউ’। তিন আয়োজক দেশের ফুটবলের ঢেউয়ে মেতে উঠবে পুরো বিশ্ব। আয়োজক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার প্রতি সম্মান রেখে বলের নকশায় লাল, সবুজ ও নীল রং ব্যবহৃত হয়েছে। চার প্যানেলের নকশা বলে ঢেউয়ের মতো জ্যামিতি তৈরি করেছে; যা নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য দেখায়। প্যানেলগুলো মিলে বলের মাঝে একটি ত্রিভুজ তৈরি করেছে। এ ছাড়া বলে তিন দেশের প্রতীক খোদাই করে তুলে ধরা হয়—কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল ও যুক্তরাষ্ট্রের তারকা। বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলে রাখা হয়েছে সোনালি রংয়ের আভাও।
অ্যাডিডাসের তৈরি এই বলে ব্যবহৃত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও।চার প্যানেলের নকশায় থাকা গভীর সেলাই, বলের গতিপথে সমানভাবে টান সৃষ্টি করে। ফলে বাতাসে থাকার সময় বলের স্থিতিশীলতা বেড়ে যায়। খোদাই করা প্রতীকগুলো ভেজা ও আর্দ্র পরিবেশে বলের গ্রিপ আরও শক্ত করে তুলবে।
গত বিশ্বকাপের মতো এবারও বলের ভেতর থাকছে ৫০০ হার্জ সেন্সরের চিপ; যা রেফারির সিদ্ধান্তকে নির্ভুল হতে সহায়তা করে। বিশেষ করে অফসাইড ও হ্যান্ডবলের ক্ষেত্রে বলের নড়াচড়ার প্রতিটি মুহূর্ত রিয়েল টাইমে ভিএআরের কাছে পাঠায়। চিপটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার সিগনাল পাঠায়, যা একটি প্যানেলের নিচে বসানো। বলের অন্য তিনটি প্যানেল চিপযুক্ত প্যানেলের ভারসাম্য রক্ষা করে।

পূর্বাপর জানা না থাকলেও একনজর দেখেই যে কেউ বলে দিতে পারবে এটি ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। ২০২৬ সালের ‘২৬’ সংখ্যাটাকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে তার ওপর বিশ্বকাপের ট্রফি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অফিশিয়াল লোগোয় আয়োজনের সাল ও ট্রফির ব্যবহার এই প্রথম। বাইরের এজেন্সির সহায়তা নিয়ে এই লোগোর ডিজাইন করেছে ফিফার ব্র্যান্ড টিম। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এই তিন দেশের মোট ১৬টি ভেন্যুতে হচ্ছে বিশ্বকাপ। প্রতিটি আয়োজক শহর নিজেদের স্বকীয়তা তুলে ধরতে ‘২৬’ লেখাটায় নিজেদের মতো করে রং ও আইকোনোগ্রাফির ব্যবহার করতে পারবে।

ম্যাপল, জায়ু ও ক্লাচ—এই তিন মিলিয়েই এবারের মাসকট। টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক তিন দেশের প্রতিনিধিও তারা। ম্যাপল দ্য মুজ কানাডার, জায়ু দ্য জাগুয়ার মেক্সিকোর আর ক্লাচ দ্য বাল্ড ইগল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি।
কানাডার সব প্রদেশ ও অঞ্চল ঘুরে বেড়িয়ে মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করাই ম্যাপলের কাজ। শহুরে সাজ ও সংগীতপ্রেমী ম্যাপল একজন নিবেদিত গোলরক্ষকও। সৃজনশীলতা, দৃঢ়তা আর স্বকীয়তা ধরে রাখার মধ্য দিয়ে জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছে সে। মাঠে যেমন গোল বাঁচানোর অসাধারণ ক্ষমতা আছে, তেমনি তার হৃদয় শক্তি ও নেতৃত্বগুণে ভরপুর। অসংখ্য গল্প ও অনুপ্রেরণায় মিলিত ম্যাপল কানাডার সংস্কৃতি ও চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণাঞ্চলের জঙ্গল থেকে উঠে এসে জায়ু মেক্সিকোর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও প্রাণবন্ত সংস্কৃতিকে ধারণ করে। তার নামের মধ্যেই শোভা পায় একতা, শক্তি ও আনন্দের বার্তা। মাঠে সে ধুরন্ধর ও ক্ষিপ্রগতির স্ট্রাইকার। মাঠের বাইরে সে নাচ, খাদ্য ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। সীমান্তের বাধা পেরিয়ে জায়ু তাই সাংস্কৃতিক উৎসব, ঐক্য ও সংযোগের প্রতীক।
সীমাহীন কৌতূহল, উৎসাহ ও আশাবাদের সঙ্গে উড়ে বেড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্কৃতি, খেলার মুহূর্ত ধারণ করে ক্লাচ। মাঠে সে একজন নির্ভীক মিডফিল্ডারের মতো উজ্জীবিত করে পুরো দলকে। লক্ষ্য এবং খেলার আবেগের সঙ্গে জীবনকে উজ্জীবিত করার বার্তা নিয়ে উড়ে বেড়ায় সে।