ইয়োহান ক্রুইফ, মার্কো ফন বাস্তেন, রুড গুলিত, ডেনিস বার্গক্যাম্প, আরিয়ান রোবেন—চাইলে ডাচ কিংবদন্তি ফুটবলারদের এই তালিকাটাকে অনেক লম্বা করা যায়। বিশ্ব ফুটবলে ছাপ রাখা অনেক ফুটবলারই জন্ম নিয়েছে দেশটিতে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, কখনোই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি নেদারল্যান্ডস।
অথচ বিশ্বকাপে বরাবরই শক্তিধর দল হিসেবে বিবেচিত হয় ডাচরা। নিজেদের সামর্থের প্রমাণ দিয়ে ১৯৭৪, ১৯৭৮ এবং ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালও খেলেছে। কিন্তু একবারও দলটির ভাগ্যে শিকা ছিড়েনি! গতকার কাতার বিশ্বকাপেও সম্ভাবনাময় দল ছিল ডাচরা। উঠেও গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। এই রাউন্ডে টাইব্রেকারে মেসিদের কাছে হেরে হৃদয় ভাঙার হতাশা নিয়ে আরও একবার বাড়ি ফেরেন ডাচরা।
এবার কি বিশ্বকাপে ডানা মেলে ‘কমলা’র সৌরভ ছড়াতে পারবেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং-ভার্জিল ফন ডাইকরা? উত্তরটা সময়ের হাতেই। তবে ‘আমরা পারব’—এমন একটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে দ্বাদশবারের মতো বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবেন ডাচরা।
ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইয়ে অপরাজিত থেকেই চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে রোনাল্ড কোম্যানের দল। ‘জি’ গ্রুপের ৮ ম্যাচের ৬টিতে জয় এবং বাকি দুটোয় ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে তারা। ৮ ম্যাচে ২৫ গোল করে তারা। হজম করে মাত্র ২টি। এই ফর্মটাকে বিশ্বকাপে ধরে রাখতে চায় ডাচরা। অভিযান শুরুর আগে কোচ রোনাল্ড কোম্যান অবশ্য স্বীকার করে নিচ্ছেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স কিংবা স্পেনের মতো ফেবারিট নয় নেদারল্যান্ডস। তবে সেটা ভালো না করার কোনো কারণ হতে পারে না বলেই মনে করেন তিনি, ‘মানুষ হয়তো আমাদের বিশ্বকাপের জেতার মতো ফেভারিট হিসেবে দেখছে না। তবে নেদারল্যান্ডসের আসল শক্তি হলো, আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি, কারণ সেই সামর্থ্য আমাদের আছে।’
এবার ডাচ দলের শক্তির জায়গা তাদের ডিফেন্স; অধিনায়ক ফন ডাইক ছাড়াও দলটির রক্ষণে আছেন নাথান আকে, মিকি ফন ডে ফেন, জুরিয়েন টিম্বার। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং, রায়ান গ্রাভেনবার্খ, তিজাননি রেইন্ডার্সদের নিয়ে গড়া দলটির মধ্যমাঠও বেশ শক্তিশালী। তবে চোটের কারণে দলটি মিস করবে সম্ভবনাময় ম্যাথিয়াস ডি লিটকে।
বল দখলে রাখা, দ্রুত পাসিং ও আক্রমণাত্মক ট্রানজিশনে ফুটবল সুন্দর হয়ে উঠে ডাচদের পায়ে। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে সুইডেনের বিপক্ষে ইয়োহান ক্রুইফের ‘ক্রুইফ টার্ন’, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডেনিস বার্গক্যাম্পের চোখে মায়াঞ্জণ বুলিয়ে দেওয়া ফিনিশিং কিংবা ২০১৪ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ফন পার্সির ‘ফ্লাইং ডাচম্যান’ হয়ে ওঠা দল ছাপিয়ে বিশ্বকাপেরই এক একটি সুন্দরতম মুহূর্ত। এবারও কি এমন কিছু দেখা যাবে ডাচদের খেলায়?
.gif)
.gif)






























