Ajker Patrika
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকা
দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রধান কোচ: হুগো ব্রোস

ফিফা র‍্যাঙ্কিং

# ৬০

বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ

নিবন্ধিত খেলোয়াড়

২৬

গ্রুপ

গ্রুপ এ

দল পরিচিতি

রাগবিতে বিশ্বজয়, অ্যাথলেটিকসে বিশ্বরেকর্ড, সাঁতারে অলিম্পিক কিংবা ক্রিকেটে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জয়—সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়াপ্রেমীদের আনন্দের কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃৎস্পন্দনের জায়গা যে ফুটবল, সেখানে তারা পিছিয়ে ছিল অনেকটা সময়।

দীর্ঘ দেড় দশক অপেক্ষার পর অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলে সুদিনের আভাস মিলেছে। ২০১০ সালে নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপের পর আর কখনোই ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে দেখা যায়নি ‘বাফানা বাফানা’দের। ২০২৬ বিশ্বকাপ দিয়ে সেই খরা কাটিয়েছে তারা। আফ্রিকান বাছাইপর্বের নাটকীয়তা পেরিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার এই প্রত্যাবর্তন শুধু ফিরে আসাই নয়, বরং দেশটির ফুটবলের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের এক নবযাত্রা। ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রচেষ্টাতেই আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জেতার পর যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল, গত ১৫ বছর তা ছিল অনেকটা স্তিমিত। সেই অপূর্ণতা দূর করতেই জায়গা করে নিল ২০২৬ বিশ্বকাপ।

দক্ষিণ আফ্রিকার এই নতুন উত্থানের নেপথ্য নায়ক দলটির বেলজিয়ান কোচ হুগো ব্রোস। ২০২১ সালে যখন তিনি দায়িত্ব নেন, দলটি অবস্থা তখন ছিল বেশ ভঙ্গুর। এসেই ভরসা রাখতে শুরু করেন তরুণদের ওপর। থালেন্টে এমবাথা, ওসউইন অ্যাপোলিস এবং এভিডেন্স মাকগোপাদের গড়ে তোলার দায়িত্বটাও কাঁধে নেন এই বেলজিয়ান কোচ। ব্রোসের এই ‘সংস্কৃতি পরিবর্তনের’ ফসল হিসেবেই ২০২৩ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে (আফকন) তৃতীয় হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭৩ বছর বয়সী এই কোচের অভিজ্ঞ হাত ধরেই দলটি আজ বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পাচ্ছে।


বাছাইপর্বের গ্রুপ ‘সি’-তে দক্ষিণ আফ্রিকার পথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। নাইজেরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপরীতে লড়তে হয়েছে তাদের। এমনকি প্রশাসনিক ভুলে এক ম্যাচের পয়েন্ট বাজেয়াপ্ত হওয়ার পরও বাফানা বাফানারা ভেঙে পড়েনি। শেষ ম্যাচে রুয়ান্ডাকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে নিজদের নিয়ে আসে তালিকার শীর্ষে। এমবোম্বেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে সেদিন যে উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল, তা এক দশক ধরে জমে থাকা আবেগের বহিঃপ্রকাশ।

১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০—তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও দক্ষিণ আফ্রিকা কখনোই গ্রুপপর্বের বাধা টপকাতে পারেনি। যদিও প্রতিটি আসরেই তারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। ১৯৯৮ সালে ডেনমার্কের সঙ্গে লড়াই, ২০০২ সালে প্রথম জয় কিংবা ২০১০ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে আয়োজন করে মেক্সিকোর বিপক্ষে সিফিউই শাবালালার সেই অবিস্মরণীয় গোল—সবই দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবলের অমর উপাখ্যান। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রোস এবং তাঁর শিষ্যদের লক্ষ্য আরও বড়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রাখতে চায় তারা। ব্রোসের জন্য পথটা অজানা নয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের জার্সিতে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছেন তিনি। তবে গ্রুপ ‘এল’-এ দক্ষিণ আফ্রিকাকে লড়তে হবে অন্যতম স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো, ইউরোপীয় শক্তি চেক প্রজাতন্ত্র এবং এশিয়ান জায়ান্ট দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের ম্যাচ দিয়েই পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের।

বর্তমান দলটিতে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। গোলপোস্টের নিচে আছেন রনওয়েন উইলিয়ামস, যিনি ২০২৪ সালের বর্ষসেরা আফ্রিকান গোলরক্ষক। মাঝমাঠে তিবোহো মোকোয়েনার নিয়ন্ত্রণ আর আক্রমণে লাইল ফস্টার কিংবা তরুণ মোহউ এনকোতার গতি প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভয় ধরাতে সক্ষম। ফুটবলপ্রেমীদের নাচিয়ে তোলার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকানরা এখন রোমাঞ্চিত। যেমনটা দেখা গিয়েছিল ২০১০ বিশ্বকাপেও।

দল:

গোলকিপার:
রনওয়েন উইলিয়ামস, রিকার্ডো গস, সিফো শেইন, ব্র্যান্ডন পিটারসন

ডিফেন্ডার:
খুলিসো মুদাউ, ওলওয়েথু মাখানিয়া, ব্র্যাডলি ক্রস, থাবিসো মনিয়ানে, থাবাং মাতুলুদি, এনকোসিনাথি সিবিসি, অব্রি মোদিবা, খুলুমানি এনদামানে, ইমে ওকন, সামুকেলে কাবিনি, এমবেকেজেলি মবোকাজি

মিডফিল্ডার:
টেবোহো মকোয়েনা, জেইডেন অ্যাডামস, ব্রুকলিন পোগেনপোল, লেবোহাং মাবোয়ে, থালেন্তে এমবাথা, স্পেপেলো সিথোলে

ফরোয়ার্ড:
ওসউইন অ্যাপোলিস, তশেপাং মোরেমি, এভিডেন্স মাকগোপা, লাইল ফস্টার, ইক্রাম রেইনার্স, রেলেহোবিলে মোফোকেং, থেম্বা জোয়ানে, প্যাট্রিক মাসওয়াঙ্গানি, কামোগেলো সেবেলেলে, থাপেলো মোরেনা, থাপেলো মাসেকো

স্কোয়াড তালিকা (২৬)

রনওয়েন উইলিয়ামস
# গোলকিপার

রনওয়েন উইলিয়ামস

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
সিফো শেইন
# ১৬গোলকিপার

সিফো শেইন

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
রিকার্ডো গস
# ২২গোলকিপার

রিকার্ডো গস

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
থাবাং মাতুলুদি
# সেন্টার ব্যাক

থাবাং মাতুলুদি

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
খুলুমানি এনদামানে
# সেন্টার ব্যাক

খুলুমানি এনদামানে

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
অব্রি মোদিবা
# সেন্টার ব্যাক

অব্রি মোদিবা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
এমবেকেজেলি মবোকাজি
# ১৪সেন্টার ব্যাক

এমবেকেজেলি মবোকাজি

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
সামুকেলে কাবিনি
# ১৮সেন্টার ব্যাক

সামুকেলে কাবিনি

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
এনকোসিনাথি সিবিসি
# ১৯সেন্টার ব্যাক

এনকোসিনাথি সিবিসি

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
খুলিসো মুদাউ
# ২০সেন্টার ব্যাক

খুলিসো মুদাউ

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ইমে ওকন
# ২১সেন্টার ব্যাক

ইমে ওকন

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ওলওয়েথু মাখানিয়া
# ২৪সেন্টার ব্যাক

ওলওয়েথু মাখানিয়া

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
কামোগেলো সেবেলেলে
# ২৫সেন্টার ব্যাক

কামোগেলো সেবেলেলে

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ব্র্যাডলি ক্রস
# ২৬সেন্টার ব্যাক

ব্র্যাডলি ক্রস

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
টেবোহো মকোয়েনা
# সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

টেবোহো মকোয়েনা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
থালেন্তে এমবাথা
# সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

থালেন্তে এমবাথা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ওসউইন অ্যাপোলিস
# সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

ওসউইন অ্যাপোলিস

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
রেলেহোবিলে মোফোকেং
# ১০সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

রেলেহোবিলে মোফোকেং

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
থেম্বা জোয়ানে
# ১১সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

থেম্বা জোয়ানে

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
স্পেপেলো সিথোলে
# ১৩সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

স্পেপেলো সিথোলে

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
জেইডেন অ্যাডামস
# ২৩সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

জেইডেন অ্যাডামস

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
তশেপাং মোরেমি
# স্ট্রাইকার

তশেপাং মোরেমি

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
লাইল ফস্টার
# স্ট্রাইকার

লাইল ফস্টার

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
থাপেলো মাসেকো
# ১২স্ট্রাইকার

থাপেলো মাসেকো

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ইক্রাম রেইনার্স
# ১৫স্ট্রাইকার

ইক্রাম রেইনার্স

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
এভিডেন্স মাকগোপা
# ১৭স্ট্রাইকার

এভিডেন্স মাকগোপা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:

একই গ্রুপের অন্যান্য দলগুলো