Ajker Patrika
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
চেক প্রজাতন্ত্র
চেক প্রজাতন্ত্র

চেক প্রজাতন্ত্র

প্রধান কোচ: মিরোস্লাভ কোউবেক

ফিফা র‍্যাঙ্কিং

# ৪১

বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ

১০

নিবন্ধিত খেলোয়াড়

২৯

গ্রুপ

গ্রুপ এ

দল পরিচিতি

ফুটবল বিধাতা বোধ হয় চেক প্রজাতন্ত্রের জন্য এক রোমাঞ্চকর চিত্রনাট্য আগেই লিখে রেখেছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট পেতে তাদের যে পথ পাড়ি দিতে হয়েছে, তা কোনো মহাকাব্যিক যুদ্ধের চেয়ে কম নয়। টানা দুটি প্লে-অফ ম্যাচ, দুটিতেই অতিরিক্ত সময়ের স্নায়ুচাপ এবং দুবারই পেনাল্টি শুটআউটের অগ্নিপরীক্ষা—সব বাধা টপকে দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফিরছে চেক প্রজাতন্ত্র।

বাছাইপর্বে চেক প্রজাতন্ত্রের যাত্রাটা মোটেও মসৃণ ছিল না। গ্রুপ ‘এল’-এ ক্রোয়েশিয়ার পেছনে থেকে দ্বিতীয় হওয়া এবং পুঁচকে ফ্যারো আইল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলের সেই অবিশ্বাস্য হার দলটিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছিল। সেই ব্যর্থতায় ইভান হাসেক যখন চাকরি হারালেন, তখন হাল ধরলেন ৭৪ বছর বয়সী কোচ মিরোস্লাভ কোউবেক। তাঁর হাত ধরেই প্রাগের মাটিতে রচিত হলো নতুন ইতিহাস।


প্লে-অফের সেমিফাইনালে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া চেক প্রজাতন্ত্র যখন হারের শঙ্কায়, তখন ত্রাতা হয়ে আসেন প্যাত্রিক শিক এবং অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেচি। নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফিরে পেনাল্টি শুটআউটে জয় পায় তারা। এরপর ফাইনাল প্লে-অফে ডেনমার্কের মুখোমুখি। সেখানেও চিত্রনাট্য বদলায়নি। ২-২ গোলের সমতার পর টাইব্রেকারে ড্যানিশদের তিনটি শট রুখে দিয়ে উল্লাসে মাতে চেকিয়া। ইপেট এরিনার ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঠান্ডায় তখন হাজারো দর্শক জামা খুলে উন্মাতাল উৎসবে মেতেছিলেন। পেনাল্টি জয়ের পর প্রাগের আকাশ লাল হয়ে উঠেছিল ফ্লেয়ারের আলোয়।


শূন্য দশকের সেই সোনালি প্রজন্মের চেকিয়া দল এটি নয়। নেই পাভেল নেদভেদের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ী মহাতারকা, নেই পিওতর চেকের মতো অতন্দ্র প্রহরী। বর্তমান দলের অধিনায়ক ক্রেচি প্রিমিয়ার লিগের তলানির দল উলভসের হয়ে লড়ছেন, টমাস সুচেক লড়ছেন রেলিগেশন বাঁচাতে। অথচ এই ‘সাধারণ’ খেলোয়াড়েরাই তাঁদের অদম্য মানসিকতা, জেদ এবং অনুপ্রেরণা দিয়ে অসাধ্য সাধন করেছেন। বিশেষ করে পাভেল সুলক লিঁও-র হয়ে দারুণ ফর্মে থেকে দলের আক্রমণের মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন। এ ছাড়া লুকাস প্রোভোদের মতো সৃজনশীল মিডফিল্ডার আর টমাস চরীর শারীরিক শক্তির ফুটবলই এখন চেক দলের প্রধান হাতিয়ার।

ইতিহাস বলছে, চেকোস্লোভাকিয়া হিসেবে ১৯৩৪ এবং ১৯৬২ সালে তারা দুবার বিশ্বকাপের রানার্সআপ হয়েছিল। সেই ঐতিহ্য ফেরানো কঠিনই। ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ ‘এ’-তে লড়বে সহআয়োজক মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। বিশ্বকাপে উঠে মিরোস্লাভ কোউবেক যখন অশ্রুসিক্ত নয়নে বলছিলেন, ‘এটি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সাফল্য।’ তখন বোঝা যাচ্ছিল একটি জাতির ২০ বছরের দীর্ঘশ্বাসের মুক্তি।

তারা মাঠের লড়াইয়ে প্রমাণ করেছে, সব সময় সেরা দল জেতে না, দিনশেষে জেতে তারাই যারা জিততে বেশি মরিয়া থাকে। প্রাগের সেই জাদুকরি রাত চেক ফুটবলে এক নতুন সূর্যোদয়ের বার্তা দিয়ে গেল। আসল লড়াই এখন উত্তর আমেরিকার সবুজ গালিচায়, যেখানে ‘আন্ডারডগ’ তকমা নিয়ে আবারও বিশ্বকে চমকে দিতে প্রস্তুত মিরোস্লাভ কোউবেকের শিষ্যরা।

দল

গোলকিপার:

লুকাশ হর্নিচেক, মাতেয় কোভার, ইন্দ্রিখ স্তানেক

ডিফেন্ডার:

ভ্লাদিমির কৌফাল, ডেভিড দৌদেরা, তোমাশ হোলেশ, রবিন হ্রানাচ, শ্তেপান খালৌপেক, ডেভিড জুরাশেক, লাদিস্লাভ ক্রেইচি, ইয়ারোস্লাভ জেলেনি, ডেভিড জিমা

মিডফিল্ডার:

পাভেল বুচা, লুকাশ চের্ভ, ভ্লাদিমির দারিদা, তোমাশ লাদ্রা, লুকাশ প্রোভোদ, মিখাল সাদিলেক, হুগো সোখুরেক, আলেক্সান্দ্র সোইকা, তোমাশ সৌচেক, পাভেল শুল্ৎস, ডেনিস ভিসিনস্কি

ফরোয়ার্ড:

আদাম হ্লোজেক, তোমাশ চোরি, ময়মির খাইটিল, ক্রিস্টোফে কাবোঙ্গো, জান কুখতা, প্যাত্রিক শিক

স্কোয়াড তালিকা (২৯)

মাতেয় কোভার
# গোলকিপার

মাতেয় কোভার

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ইন্দ্রিখ স্তানেক
# ১৬গোলকিপার

ইন্দ্রিখ স্তানেক

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
লুকাশ হর্নিচেক
# ২৩গোলকিপার

লুকাশ হর্নিচেক

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ডেভিড জিমা
# সেন্টার ব্যাক

ডেভিড জিমা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
তোমাশ হোলেশ
# সেন্টার ব্যাক

তোমাশ হোলেশ

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
রবিন হ্রানাচ
# সেন্টার ব্যাক

রবিন হ্রানাচ

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ভ্লাদিমির কৌফাল
# সেন্টার ব্যাক

ভ্লাদিমির কৌফাল

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
শ্তেপান খালৌপেক
# সেন্টার ব্যাক

শ্তেপান খালৌপেক

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
লাদিস্লাভ ক্রেইচি
# সেন্টার ব্যাক

লাদিস্লাভ ক্রেইচি

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ডেভিড জুরাশেক
# ১৪সেন্টার ব্যাক

ডেভিড জুরাশেক

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ইয়ারোস্লাভ জেলেনি
# ২০সেন্টার ব্যাক

ইয়ারোস্লাভ জেলেনি

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ডেভিড দৌদেরা
# ২১সেন্টার ব্যাক

ডেভিড দৌদেরা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
পাভেল বুচা
# সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

পাভেল বুচা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
তোমাশ লাদ্রা
# সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

তোমাশ লাদ্রা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ভ্লাদিমির দারিদা
# সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

ভ্লাদিমির দারিদা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
লুকাশ চের্ভ
# ১২সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

লুকাশ চের্ভ

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
পাভেল শুল্ৎস
# ১৫সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

পাভেল শুল্ৎস

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
লুকাশ প্রোভোদ
# ১৭সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

লুকাশ প্রোভোদ

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
মিখাল সাদিলেক
# ১৮সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

মিখাল সাদিলেক

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
তোমাশ সৌচেক
# ২২সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

তোমাশ সৌচেক

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
আলেক্সান্দ্র সোইকা
# ২৪সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

আলেক্সান্দ্র সোইকা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
হুগো সোখুরেক
# ২৫সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

হুগো সোখুরেক

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ডেনিস ভিসিনস্কি
# ২৬সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

ডেনিস ভিসিনস্কি

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ক্রিস্টোফে কাবোঙ্গো
# স্ট্রাইকার

ক্রিস্টোফে কাবোঙ্গো

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
আদাম হ্লোজেক
# স্ট্রাইকার

আদাম হ্লোজেক

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
প্যাত্রিক শিক
# ১০স্ট্রাইকার

প্যাত্রিক শিক

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
জান কুখতা
# ১১স্ট্রাইকার

জান কুখতা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ময়মির খাইটিল
# ১৩স্ট্রাইকার

ময়মির খাইটিল

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
তোমাশ চোরি
# ১৯স্ট্রাইকার

তোমাশ চোরি

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:

একই গ্রুপের অন্যান্য দলগুলো