টানা ১১টি বিশ্বকাপ খেলা কোনো মামুলি ব্যাপার নয়। এশিয়ার ফুটবলে তাই ধারাবাহিকতার অন্য নাম দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তায়েগুক ওয়ারিয়রদের নিয়ে এখন মিশ্র সুর। একদিকে ২০০২ সালের সেই সোনালি অতীতকে ছোঁয়ার তাগিদ, অন্যদিকে বর্তমান দলের ফর্ম ও প্রজন্মের পরিবর্তন; সব মিলিয়ে কোচ হং মিউং-বো এক কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে।
এশিয়ান বাছাইপর্বে ৬ জয় এবং ৪ ড্র নিয়ে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে কোরিয়া। বিশেষ করে শেষ ম্যাচে কুয়েতকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়াটা ছিল তাদের শক্তিমত্তার মহড়া। কিন্তু বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে লড়াইটা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। গ্রুপ ‘এ’তে তাদের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেকিয়া। কোনো দলই খুব একটা দুর্বল নয়, আবার কেউই অজেয় নয়। এই ভারসাম্যপূর্ণ গ্রুপে কোরিয়াকে টিকে থাকতে হলে গতির সঙ্গে কৌশলের নিখুঁত সমন্বয় ঘটাতে হবে।
বাছাইপর্বের রেকর্ড বই দেখলে মনে হবে কোরিয়া অপ্রতিরোধ্য। তবে ইরাকের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয় বা থাইল্যান্ডের কাছে পয়েন্ট হারানো; মাঠের ফুটবলে প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি শেষ করে দেওয়ার মানসিকতায় কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ও আইভরি কোস্টের কাছে বড় ব্যবধানে হার প্রমাণ করেছে যে এশিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব আর বিশ্বমঞ্চের লড়াইয়ের মধ্যে ব্যবধানটা এখনো বিশাল।
দলের বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা অধিনায়ক সন হিউং-মিন। মেজর লিগ সকারে টানা আট ম্যাচ গোলহীন থাকা সনকে নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। পরিসংখ্যান বলছে, গত মৌসুমের তুলনায় তাঁর গোলমুখে শট নেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে লি কাং-ইনের ফিটনেস সমস্যা। মাঝমাঠের এই দুই কান্ডারির ছন্দহীনতা আক্রমণভাগকে কিছুটা ভোঁতা করে দিয়েছে। রক্ষণভাগে কিম মিন-জে একাই লড়ে যাচ্ছেন।
হং মিউং-বো এখন এক কঠিন পালাবদলের মধ্যে আছেন। সনদের সোনালি যুগের সূর্য যখন অস্তমিত হতে চলেছে, তখন ইয়াং হিউন-জুনদের মতো তরুণদের ওপর ভরসা করা ছাড়া উপায় নেই। হংয়ের লক্ষ্য হলো সনের অভিজ্ঞতা আর তরুণদের উদ্যমকে এক সুতোয় গাঁথা। কোচ হিসেবে তাঁর ট্র্যাক রেকর্ডসমৃদ্ধ; ২০১২ অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ বা কে-লিগে উলসানকে শিরোপা জেতানো তাঁর ফুটবলীয় প্রজ্ঞারই প্রমাণ।
২০০২ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে কোরিয়া চতুর্থ হওয়া ছিল এক অবিশ্বাস্য রূপকথা। সেই রূপকথার পথে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হং। ২০২৬ সালে সেই উচ্চতায় পৌঁছানো হয়তো বাস্তবসম্মত নয়, তবে কোরিয়া সব সময়ই অঘটন ঘটাতে পটু।
২০২৬ বিশ্বকাপে সনের অভিজ্ঞতার চেয়েও দক্ষিণ কোরিয়ার সফলতা নির্ভর করছে হংয়ের কৌশলের ওপর। তারা কি শুধু গতির ওপর ভরসা করবে, নাকি ইউরোপীয় ঘরানার পজেশনাল ফুটবলের সঙ্গে এশিয়ান ত্বরিত কাউন্টার-অ্যাটাকের মিশ্রণ ঘটাবে? যদি কোরিয়া তাদের সেই পুরোনো নির্ভীক ফুটবল স্টাইল ফিরিয়ে আনতে পারে, তবে ২০০২-এর রূপকথা আবারও ফিরে আসা সম্ভব। অন্যথায় অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে বিশ্বমঞ্চে টেকাটা তাদের জন্য পাহাড়সম কঠিন হবে। আন্ডারডগ কোরিয়ার সামনে তাই মিশন ইম্পসিবল।
দল:
গোলকিপার:
সং বম-গিউন, জো হ্যোন-উ, কিম সেউং-গিউ
ডিফেন্ডার:
জেন্স কাস্ত্রপ, লি হান-বম, পার্ক জিন-সেওব, লি কি-হিউক, কিম মিন-জে, কিম মুন-হোয়ান, কিম তে-হিয়ন, লি তে-সেওক, সল ইয়ং-উ, চো ইউ-মিন
মিডফিল্ডার:
লি ডং-গিয়ং, হোয়াং হি-চান, ইয়াং হিউন-জুন, হোয়াং ইন-বম, লি জে-সুং, কিম জিন-গিউ, ওম জি-সুং, বে জুন-হো, লি কাং-ইন, বাইক সেউং-হো
ফরোয়ার্ড:
চো গিউ-সুং, সন হিউং-মিন, ও হিউন-গিউ
.gif)
.gif)































