Ajker Patrika
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
হ্যারি কেইন
# সেন্টার ফরোয়ার্ড

হ্যারি কেইন

জন্ম তারিখ
পছন্দের পা
ক্লাব
দলইংল্যান্ড
গোল
ক্যাপস

পরিচিতি

 কেইনের কাঁধে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন

ইংল্যান্ড ফুটবলের ইতিহাসে অসংখ্য তারকা এসেছেন, গোল করেছেন, আলো ছড়িয়েছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে খুব কম স্ট্রাইকারই নিজেকে হ্যারি কেইনের মতো ধারাবাহিক, পরিণত ও ভয়ংকর করে তুলতে পেরেছেন। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে তিনি যেন ঠাণ্ডা মাথার এক ঘাতক—সুযোগ পেলেই আঘাত করেন, আর সেই আঘাত বেশিরভাগ সময়ই গিয়ে থামে জালে।

৩২ বছর বয়সেও গোলের জন্য তার ক্ষুধা এতটুকু কমেনি। বরং অভিজ্ঞতা ও পরিণত বোধ তাকে আরও কার্যকর করে তুলেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসা তাই এই হ্যারি কেইনই। দীর্ঘ ৬০ বছরের বিশ্বকাপ অপেক্ষা যদি এবার শেষ হয়, তাহলে তার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন বায়ার্ন মিউনিখের এই গোলমেশিন।

পেশাদার ফুটবলে কেইনের পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। তবে শুরুটা মোটেও রূপকথার ছিল না। টটেনহাম হটস্পারে জায়গা পেতে তাকে ধৈর্য ধরতে হয়েছে, কাটাতে হয়েছে ধার ও অনিশ্চয়তার সময়। কিন্তু ২০১৩-১৪ মৌসুম যেন বদলে দেয় সবকিছু। সেই যে গোল করা শুরু করলেন, এরপর আর থামেননি।

কেইনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ডি-বক্সের ভিড়ে এক মুহূর্তের সুযোগও তিনি নষ্ট করেন না। দুই পায়েই নিখুঁত শট নিতে পারেন, দূর থেকে বুলেট গতির শটে কাঁপিয়ে দিতে পারেন প্রতিপক্ষকে। আবার বাতাসেও সমান ভয়ংকর। হেডে গোল করার দক্ষতা তাকে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ স্ট্রাইকারদের একজন বানিয়েছে।

তবে শুধু গোল করাই নয়, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণেও পারদর্শী কেইন। অনেক সময় তাকে দেখা যায় মাঝমাঠে নেমে এসে আক্রমণ গড়ে তুলতে। তার লম্বা থ্রু পাস কিংবা রক্ষণ চিরে দেওয়া পাস সতীর্থদের জন্য গোলের সুযোগ তৈরি করে দেয় অনায়াসে। এই কারণেই অনেক কোচ ও বিশ্লেষকের চোখে তিনি কেবল একজন স্ট্রাইকার নন, বরং সম্পূর্ণ এক আক্রমণভাগের পরিচালক।

ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকাও কম নয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে ছয় গোল করে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। ইংলিশ প্রিমিয়ারে তিনবার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন, বুন্দেসলিগাতেও জিতেছেন গোল্ডেন বুট। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও ছিলেন যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা।

তবু একটা আক্ষেপ তাঁকে দীর্ঘদিন তাড়া করেছে—ট্রফি। অসংখ্য গোল করেও ক্যারিয়ারের প্রথম বড় শিরোপা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেক বছর। অবশেষে ২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দিয়ে ২০২৪-২৫ মৌসুমে জেতেন প্রথম বড় লিগ শিরোপা, উঁচিয়ে ধরেন বুন্দেসলিগা ট্রফি।

জাতীয় দলের হয়েও কেইনের গল্পটা আবেগের। দুইবার ইউরোর ফাইনালে উঠেও শিরোপা ছুঁতে পারেনি ইংল্যান্ড। ২০১৮ বিশ্বকাপে দলকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে এবার যেন প্রত্যাশার চাপ আরও বেশি। ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ড আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ছয় দশকের সেই দীর্ঘ অপেক্ষা কি এবার শেষ হবে? উত্তরটা সময়ই দেবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, ইংল্যান্ডের স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন এক ব্যক্তি—হ্যারি কেইন।

অন্যান্য তারকা খেলোয়াড়