আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের শিরোপা জিতবে কারা, তা বলবে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল। তবে বিশ্বকাপ শুরুর বাঁশি বাজার আগেই একটা ইতিহাস গড়ে ফেলেছে কুরাসাও। ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে অবস্থিত মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটি জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপে। ফুটবলের পরাশক্তিদের তুলনায় কুরাসাওকে ‘অণুবীক্ষণ যন্ত্র’ দিয়ে দেখার মতো হলেও বর্ধিত ফিফা বিশ্বকাপ ফরম্যাটের আলোচিত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে দলটি। আয়োজক দেশ হিসেবে যখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, তখন কনক্যাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বের সমীকরণ নাটকীয়ভাবে সহজ হয়ে যায়। আর সেই সুযোগটি শতভাগ কাজে লাগিয়েছে কুরাসাও।
বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার আগে হয়তো অনেকেই নামই শোনেনি ছোট এই দেশটির। কুরাসাও একটি সাবেক ডাচ উপনিবেশ, যা ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস রাজ্যের মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত মর্যাদা পায়। তবে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে এর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর—বিশেষ করে ফুটবলে। জাতীয় দলের মূল স্তম্ভ মূলত নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা খেলোয়াড়েরা। তাঁদের অনেকের কাছেই কুরাসাও ছিল কেবল পরিবারের ইতিহাসের অংশ, ফুটবল ক্যারিয়ারের নয়। কিন্তু নতুন বাছাইপর্বের চক্রে সবকিছু বদলে যায়। আয়োজক তিন দেশ সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা কুরাসাওয়ের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।
কুরাসাওয়ের বংশোদ্ভূত অনেক খেলোয়াড় তাঁদের জাতীয়তা পরিবর্তন করে এই দলে যোগ দেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে দলের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। লিয়ান্দ্রো ও জুনিনহো বাকুনা, ইয়ুর্গেন লোকাডিয়া, তাহিথ চং, সন্টজে হ্যানসেনের মতো অভিজ্ঞ ও মানসম্মত খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত হয় এক শক্তিশালী স্কোয়াড।
কনক্যাকাফ বাছাইপর্বের ‘সি’ গ্রুপে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপে উঠে এসেছে তারা। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দলগুলো অনেক সময় বিশৃঙ্খল খেলে, ধারাবাহিকতা থাকে না তাদের পারফরম্যান্স। কিন্তু কুরাসাও যেন ব্যতিক্রম। টেম্পো নিয়ন্ত্রণ এবং ধৈর্য ধরার এক বিরল মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে তারা। জ্যামাইকা ও ত্রিনিদাদ কনক্যাকাফ অঞ্চলের শক্তিশালী দল হওয়া সত্ত্বেও কুরাসাও ছিল অনেক বেশি ধারাবাহিক। ফল—ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া। বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশও তারা।
ইউরোপিয়ান ধাঁচেই খেলে কুরাসাও। সঙ্গে থাকা ক্যারিবিয়ান ছোঁয়া। সুশৃঙ্খল ও জমাট রক্ষণভাগ দলটির। বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আক্রমণে উঠে যায় তারা। যাঁরা দলটিতে খেলেন, তাঁদের অনেকেই বড় হয়েছেন ডাচ একাডেমিতে।
স্থানীয় ফুটবল সিস্টেম কাজ করে কুরাসাওয়ে, যা বিশ্বকাপের অন্যান্য দলের মতো নয়। সেমি প্রফেশনাল লিগ আছে সেখানে। লিগা এমসিবি হলো ১২ দলের চ্যাম্পিয়নশিপ। এখানকার বেশির ভাগ খেলোয়াড় ফুটবলের পাশাপাশি অন্য চাকরি করেন এবং অবকাঠামোও বেশ সীমিত। জাতীয় দলের মাত্র দুই-তিনজন খেলোয়াড় স্থানীয় লিগে খেলেন। মূলত ডাচ প্রবাসীরাই দলের শক্তি। মূল খেলোয়াড়েরা নেদারল্যান্ডসের আয়াক্স, পিএসভি বা ফেইনুর্ডের মতো বিখ্যাত একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন। এটি মূলত ক্যারিবিয়ান পরিচয়ের আড়ালে ইউরোপীয় ঘরানার এক ফুটবল দল।
প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে এলেও গগনচুম্বী কোনো প্রত্যাশা নেই দলটির। ছোট দ্বীপ দেশ হয়েও তাদের বিশ্বকাপে উঠে আসাটাই একটা গল্প। সেই গল্পটাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই লক্ষ্য ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৮২তম অবস্থানে থাকা কুরাসাওয়ের।
দল
গোলকিপার:
টায়রিক বোডাক, ট্রেভর ডোরনবুশ, এলয় রুম
ডিফেন্ডার:
রিশেডলি বাজোর, জশুয়া ব্রেনেট, রোশন ভান আইজমা, শেরেল ফ্লোরানুস, ডেভেরন ফোনভিল, জুরিয়েন গারি, আরমান্দো ওবিস্পো, শুরান্দি সাম্বো
মিডফিল্ডার:
জুনিনিও বাকুনা, লিয়ান্দ্রো বাকুনা, লিভানো কোমেনেনসিয়া, কেভিন ফেলিদা, আর্জানি মার্থা, টাইরিস নসলিন, গডফ্রিড রোমেরাতো
ফরোয়ার্ড:
জেরেমি অ্যান্টোনিসে, তাহিথ চং, কেনজি গোরে, সোন্তিয়ে হানসেন, গেরভানে কাস্তানিয়ার, ব্র্যান্ডলি কুয়াস, জুর্গেন লোকাদিয়া, জিয়ার্ল মার্গারিথা
.gif)
.gif)































