অস্ট্রিয়ার নাম নিলেই চোখে ভেসে ওঠে ১৯৫০-এর দশকের সেই ‘ওয়ান্ডার টিমের’ কথা। সময়ের আবর্তে সেই সোনালি আভা ম্লান হয়েছে আগেই। ১৯৯৮ সালের পর টানা ২৮ বছর বিশ্বমঞ্চে দেখা যায়নি আল্পস-কন্যাদের। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে অন্যতম রোমাঞ্চকর দল হিসেবে ফিরল তারা।
শীতকালীন খেলার দেশ হিসেবে পরিচিত অস্ট্রিয়া এখন ফুটবলের নতুন উন্মাদনায় মেতেছে, যেখানে ভিয়েনার রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে প্রতিটি বসার ঘরে এখন শুধুই বিশ্বকাপের ডামাডোল।
অস্ট্রিয়ার এই আমূল পরিবর্তনের নেপথ্য কারিগরের নাম রালফ রাংনিক। ‘প্রেসিং’ ফুটবলের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর অস্ট্রিয়া ফুটবলের খোলনলচে বদলে দিয়েছেন। গতানুগতিক রক্ষণাত্মক ফুটবল ঝেড়ে ফেলে তিনি দলটিকে শিখিয়েছেন তাঁর চিরচেনা ‘রেড বুল’ স্টাইলের আক্রমণাত্মক ফুটবল। বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবের কোচ হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে রাংনিক অস্ট্রিয়ার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছেন, যা তাঁকে দেশটির ফুটবল-সমর্থকদের কাছে এক সম্মানের আসনে বসিয়েছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বা আরবি লাইপজিগের মতো ক্লাবে যা করতে চেয়েছিলেন, তার পূর্ণ প্রতিফলন এখন দেখা যাচ্ছে অস্ট্রিয়া জাতীয় দলে।
বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার পথটা অস্ট্রিয়ার জন্য ছিল রোমাঞ্চ আর নাটকে ঠাসা। উয়েফা বাছাইপর্বের ‘এইচ’ গ্রুপে তারা শুরু থেকে ছিল অপ্রতিরোধ্য। প্রথম পাঁচ ম্যাচের সব কটিতে জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে তুঙ্গে নিয়ে যায়; বিশেষ করে সান মারিনোর বিপক্ষে ১০-০ গোলের জয়টি ছিল তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। সেই ম্যাচে চার গোল করে কিংবদন্তি টনি পোলস্টারকে টপকে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম খোদাই করেন মার্কো আর্নাউটোভিচ। তবে শীর্ষ স্থান নিশ্চিত করতে তাদের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।
রোমানিয়ার কাছে হেরে কিছুটা পথ হারানো অস্ট্রিয়া শেষ পর্যন্ত ভিয়েনার কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মহানাটকীয়ভাবে জয় পায়। পিছিয়ে পড়েও মাইকেল গ্রেগরিচের ৭৮ মিনিটের সেই ঐতিহাসিক সমতাসূচক গোলটি অস্ট্রিয়াকে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেয়।
অস্ট্রিয়া দলের বর্তমান প্রাণশক্তি হচ্ছে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল। রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা যখন রক্ষণ সামলান, তখন মাঝমাঠে ক্রিস্টফ বাউমগার্টনার ও মার্সেল সাবিৎজার প্রতিপক্ষের বক্সে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন; বিশেষ করে বাউমগার্টনারের সৃজনশীলতা ও গোল করার ক্ষমতা দলটির আক্রমণের মূল চাবিকাঠি। তবে বিশ্বকাপে উত্তর আমেরিকার তীব্র গরমে রাংনিকের উচ্চ গতির ‘গেগেনপ্রেসিং’ ফুটবল কতটা সফল হবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। কারণ, দলের মূল শক্তি আর্নাউটোভিচ, গ্রেগরিচ এবং সাবিৎজার ত্রিশের কোঠা অনেকটা পার করে ফেলেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া রয়েছে গ্রুপ ‘জে’তে। সেখানে তাদের লড়তে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে। ভিয়েনার গ্যালারিতে ফিরে আসা সেই উদ্দীপনা আর খেলোয়াড়দের হাতে থাকা প্রতীকী ‘গোল্ডেন কি-চেইন’ এখন শুধু একটাই প্রতিধ্বনি তুলছে—‘বিশ্বকাপ, আমরা (অস্ট্রিয়া) আসছি!’
দল
গোলকিপার: প্যাট্রিক পেন্ৎস, আলেক্সান্দার শ্লাগার এবং ফ্লোরিয়ান ভিগেলে।
ডিফেন্ডার: ডেভিড আফেনগ্রুবার, ডেভিড আলাবা, কেভিন ডানসো, মার্কো ফ্রিড্ল, ফিলিপ লিনহার্ট, ফিলিপ মভেনে, স্টেফান পশ, আলেক্সান্দার প্রাস এবং মিখায়েল সভোবোদা।
মিডফিল্ডার: ক্রিস্টফ বাউমগার্টনার, কার্নি চুকুয়েমেকা, ফ্লোরিয়ান গ্রিলিচ, কনরাড লাইমার, মার্সেল সাবিৎসার, জাভার শ্লাগার, রোমানো শ্মিড, আলেস্সান্দ্রো শ্যপ্ফ, নিকোলাস সাইভাল্ড, পাওল ভানার এবং প্যাট্রিক ভিমার।
ফরোয়ার্ড: মার্কো আরনাউতোভিচ, মিখায়েল গ্রেগোরিচ এবং সাশা কালাইদজিচ।
.gif)
.gif)































