‘বিগ ডি’ নামে পরিচিত এক প্রাণচঞ্চল শহর ডালাস। খেলাধুলার রোমাঞ্চ, হাজারো দর্শকের উল্লাস আর গৌরবময় ইতিহাসে গড়ে ওঠা এই শহর যেন আমেরিকার স্পোর্টসের হৃদয়। এখানে রয়েছে ১৪টি পেশাদার ক্রীড়া দল, যার মধ্যে আমেরিকার পাঁচটি প্রধান স্পোর্টস লিগের প্রতিনিধিত্ব করে ডালাস কাউবয়েজ, ডালাস ম্যাভেরিকস, ডালাস স্টারস, এফসি ডালাস এবং টেক্সাস রেঞ্জার্স। তাই বছরের প্রতিটি সময়ই শহরজুড়ে উৎসবের মতো খেলার আমেজ লেগেই থাকে।
ডালাসের ক্রীড়া ইতিহাস শুরু হয়েছিল বহু বছর আগে। ১৯৩০ সালে নির্মিত কটন বোল স্টেডিয়াম আজও শহরের গর্ব। ইতিহাসের অসংখ্য স্মরণীয় ম্যাচের সাক্ষী এই স্টেডিয়াম ১৯৯৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপেও বিশ্বজুড়ে আসা দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছিল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডালাসের সাফল্যের গল্প আরও উজ্জ্বল হয়েছে। ডালাস কাউবয়েজ পাঁচটি সুপার বোল জিতে ‘আমেরিকার টিম’ নামে খ্যাতি অর্জন করে। টেক্সাস রেঞ্জার্স ২০২৩ সালে জেতে তাদের প্রথম ওয়ার্ল্ড সিরিজ শিরোপা। ডালাস ম্যাভেরিকস ২০১১ সালে হয়েছে এনবিএ চ্যাম্পিয়ন, আর ডালাস স্টারস ১৯৯৯ সালে জেতে স্ট্যানলি কাপ।
শুধু পুরুষদের খেলাই নয়, নারী ও যুব ফুটবলেও ডালাসের অবদান অসাধারণ। এফসি ডালাস ও ডালাস উইংস বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করেছে। ফ্রিসকো শহরে রয়েছে ন্যাশনাল সকার হল অব ফেম এবং যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরনো ও মর্যাদাপূর্ণ যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘ডালাস কাপ’।
এই ক্রীড়া সাম্রাজ্যের কেন্দ্র হলো ডালাস স্টেডিয়াম। টেক্সাসের আর্লিংটনে অবস্থিত এই বিশাল স্টেডিয়ামটি ২০০৯ সালে উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৯৪ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়াম শুধু খেলার মাঠ নয়, যেন আধুনিক স্থাপত্যের এক বিস্ময়। বিশাল ভিডিও ডিসপ্লে, দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম আর অবিশ্বাস্য পরিবেশ দর্শকদের জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা উপহার দেয়।
ডালাস কাউবয়েজের ঘরের মাঠ হিসেবে পরিচিত এই স্টেডিয়াম বহু বড় ইভেন্টের আয়োজন করেছে। সুপার বোল, কলেজ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, এনএফএল ড্রাফট, এনসিএএ ফাইনাল ফোর থেকে শুরু করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ বক্সিং ম্যাচ —কোনো কিছুই বাদ যায়নি। ডালাস শুধু একটি শহর নয়, এটি খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা, গৌরব আর ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীক। তাই তো স্পোর্টস বিজনেস জার্নাল একে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা স্পোর্টস বিজনেস সিটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের যত ম্যাচ ডালাস স্টেডিয়ামে
ম্যাচ নং তারিখ মুখোমুখি সময়
১১ ১৪ জুন নেদারল্যান্ডস-জাপান রাত ২টা
২২ ১৭ জুন ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া রাত ২টা
৪৩ ২২ জুন আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া রাত ১১টা
৫৭ ২৬ জুন জাপান-সুইডেন ভোর ৫টা
৭০ ২৮ জুন জর্ডান-আর্জেন্টিনা সকাল ৮টা
৭৮ ৩০ জুন ই২-আই২ রাত ১১টা
৮৮ ৩ জুলাই ডি২-জি২ রাত ১২টা
৯৩ ৬ জুলাই ৮৩-৮৪ ম্যাচ বিজয়ী রাত ১টা
১০১ ১৪ জুলাই ৯৭-৯৮ ম্যাচ বিজয়ী রাত ১টা
.gif)
.gif)
