মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত হিউস্টন, যার আরেক নাম স্পেস সিটি। মহাকাশ গবেষণার জন্য যেমন এই শহর বিখ্যাত, তেমনি খেলাধুলার জগতেও এর পরিচিতি অনন্য।
হিউস্টনকে বলা হয় একেবারে ভিন্নধর্মী স্পোর্টস সিটি। এখানে রয়েছে নানা সংস্কৃতির মানুষ আর খেলাধুলার প্রতি অদ্ভুত এক আবেগ। শহরটি ঘিরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী পেশাদার দল হিউস্টন টেক্সানস (এনএফএল), হিউস্টন অ্যাস্ট্রোস (বেসবল), হিউস্টনন ডায়নামো (সকার), হিউস্টন সেবারক্যাটস (রাগবি) হিউস্টন রকেটস (বাস্কেটবল) নিয়ে। প্রতিটি দলই শহরের গর্ব, আর তাদের জয়-পরাজয় যেন পুরো শহরের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।
হিউস্টনের আরেকটি পরিচিত নাম ‘ক্লাচ সিটি’, যার জন্ম হয়েছিল হিউস্টন রকেটসের অসাধারণ পারফরম্যান্স থেকে। ১৯৯৫ সালে এনবিএ ফাইনাল জয়ের পথে তারা অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে আনার সেই গল্প আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। এরপর থেকে এই ক্লাচ সিটি নামটি শুধু রকেটস নয়, বরং শহরের অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গেও জড়িয়ে যায়।
হিউস্টনের খেলাধুলার উন্মাদনা শুধু পেশাদার পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়। এখানে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্রীড়া প্রতিযোগিতা যেমন জনপ্রিয়, তেমনি হাই স্কুল পর্যায়ের খেলোয়াড়রাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করে চলেছে। অনেকেই মনে করেন, এই শহর থেকেই উঠে আসে দেশের সেরা প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদরা।
এই ক্রীড়া উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দু হলো হিউস্টন স্টেডিয়াম। ২০০২ সালে নির্মিত এই স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৭২,০০০। এটি আয়োজন করেছে এমএলএস অল স্টার গেম, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এবং ২০১৬ সালের শতবর্ষী কোপা আমেরিকার তিনটি ম্যাচ। ফুটবলের প্রতি এই স্টেডিয়ামের সমৃদ্ধ ইতিহাস ভবিষ্যতেও আরও বড় বড় ইভেন্ট আয়োজনের ইঙ্গিত দেয়।
হিউস্টন শুধু একটি শহর নয়—এটি এক শক্তি, এক আবেগ, যেখানে প্রতিটি খেলা নতুন গল্প লিখে, আর প্রতিটি জয় শহরের হৃদয়ে গেঁথে যায় চিরদিনের জন্য।
হিউস্টনে বিশ্বকাপের যত ম্যাচ
ম্যাচ নং তারিখ মুখোমুখি সময়
১০ ১৪ জুন জার্মানি-কুরাসাও রাত ১১টা
২৩ ১৭ জুন পর্তুগাল-কঙ্গো রাত ১১টা
৩৫ ২০ জুন নেদারল্যান্ডস সুইডেন রাত ১১টা
৪৭ ২৩ জুন পর্তুগাল-উজবেকিস্তান রাত ১১টা
৬৫ ২৭ জুন কেপ ভার্দে-সৌদি আরব সকাল ৬টা
৭৬ ২৯ জুন সি ১-এফ ২ রাত ১১টা
৯০ ৪ জুলাই ৭৩-৭৫ ম্যাচ বিজয়ী রাত ১১টা
.gif)
.gif)
