বড় বড় শক্তির আড়ালে থেকেও ফুটবলে যারা নীরবে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে যায়, তাদের মধ্যে সুইজারল্যান্ড অন্যতম। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইউরোপের এই প্রতিনিধিরা হাজির হবে টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড নিয়ে। বিশ্বমঞ্চে এমন ধারাবাহিকতা ইউরোপের জার্মানি, স্পেন বা ফ্রান্সের মতো গুটিকয়েক জায়ান্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সেই তালিকায় সুইজারল্যান্ডের নিয়মিত উপস্থিতি তাদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বাছাইপর্বের বাধা সুইজারল্যান্ড পার করেছে অনেকটা অনায়াসেই। মুরাত ইয়াকিনের শিষ্যরা উয়েফা অঞ্চলের গ্রুপ ‘বি’তে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে সুইডেনকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করা এবং কসোভোর সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছিল সুইসদের পরিকল্পিত ফুটবলের প্রতিফলন। বাছাইপর্বের ছয় ম্যাচে মাত্র দুটি গোল হজম করে রক্ষণভাগের যে দৃঢ়তা তারা দেখিয়েছে, তা টুর্নামেন্টের মূল পর্বেও প্রতিপক্ষের জন্য হবে এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
সুইজারল্যান্ড দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলীয় একতা। দলে হয়তো কিলিয়ান এমবাপ্পে বা আর্লিং হালান্ডের মতো কোনো সুপারস্টার নেই, কিন্তু প্রতিটি পজিশনে রয়েছে পরীক্ষিত সব যোদ্ধা। দলের মধ্যমণি এবং অধিনায়ক গ্রানিত জাকা বর্তমানে তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। বায়ার লেভারকুসেনে ট্রেবল জেতার স্বাদ নিয়ে এবার সান্ডারল্যান্ডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে দাপিয়ে বেড়ানো জাকা সুইস ব্রিগেডের প্রাণভোমরা। ৩৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার মাঠের প্রতিটি প্রান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারদর্শী। তাঁর সঙ্গে মাঝমাঠে রেমো ফ্রয়লারের উপস্থিতি দলটিকে দারুণ ভারসাম্য এনে দেয়।
আক্রমণভাগে ব্রিল এমবোলো এবং ড্যান এনডয়ের মতো গতিশীল খেলোয়াড়েরা যেকোনো রক্ষণভাগ ছিঁড়ে ফেলার ক্ষমতা রাখেন। বিশেষ করে তরুণ তুর্কি জোহান মানজাম্বির উত্থান সুইস ফুটবলে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। কোচ মুরাত ইয়াকিন অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশেলে এমন এক স্কোয়াড গড়েছেন, যা বড় বড় দলগুলোর জন্য ‘অস্বস্তিকর’। ইউরো ২০২৪-এ ইতালিকে বিদায় করে দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, কেবল রক্ষণাত্মক ফুটবল নয়, সুযোগ পেলে তারা আক্রমণাত্মক ফুটবলেও সিদ্ধহস্ত। জায়ান্ট কিলার বলে কথা।
সুইজারল্যান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নকআউট পর্বের দেয়াল। ১৯৯৪ সাল থেকে পাঁচবার শেষ ১৬তে পৌঁছালেও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার স্বপ্নটি তাদের জন্য বরাবরই অধরা থেকে গেছে। ১৯৫৪ সালের পর আর শেষ আটে দেখা যায়নি তাদের। তবে এবার গ্রুপ ‘বি’তে কানাডা, কাতার এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে তাদের শক্তিমত্তা বিবেচনা করলে বলা যায়, শেষ ৩২ বা শেষ ১৬ পর্যন্ত যাওয়া তাদের জন্য খুব কঠিন হবে না। কিন্তু সুইস ভক্তদের প্রত্যাশা এবার আরও বেশি।
জেরদান শাকিরির অবসর এবং ইয়ান সমারের প্রস্থান সুইস ফুটবলকে কিছুটা অভিজ্ঞতাহীন করলেও নতুনেরা সেই জায়গা পূরণ করতে প্রস্তুত। উত্তর আমেরিকার এই বিশ্বকাপ হতে পারে সুইজারল্যান্ডের ফুটবলের সোনালি বসন্ত।
দল:
.gif)
.gif)































