ফুটবলবিশ্বে বরাবরই নিউজিল্যান্ডের পরিচয় লড়াকু এক ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ না হেরেও গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখনো অমলিন। তবে এরপর দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষা, বারবার বাছাইপর্বের শেষ বাধা পার হতে না পারার আক্ষেপ আর হৃদয়ভঙ্গ—সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে অল হোয়াইটরা।
ফিফার নতুন নিয়মে ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে প্রথমবারের মতো সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করা হয়েছে এবার; সেটা যেন নিউজিল্যান্ডের জন্যই। ওই অঞ্চলে তাদের বুড়ো আঙুল দেখানোর সামর্থ্য নেই কোনো দলেরই। বাছাইপর্বে তাহিতি, ভানুয়াতু কিংবা ফিজির মতো দলগুলোকে উড়িয়ে সেটাই আরও একবার প্রমাণ করল ড্যারেন বেজলির দল। ফাইনালে নিউ ক্যালেডোনিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে। তবে মূল মঞ্চের লড়াইটা যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, সেটা বেশ ভালোই জানা তাদের। আগামী জুনে উত্তর আমেরিকায় ‘জি’ গ্রুপে ইরান, মিসর ও বেলজিয়ামের মতো প্রতিপক্ষকে সামলাতে হবে কিউইদের।
র্যাঙ্কিংয়ে ৮৫ নম্বরে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিউইদের পারফরম্যান্স আশা দেখাচ্ছে বেশ। মার্চে চিলির বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। নরওয়ের মতো শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে ড্র করা নিউজিল্যান্ড এখন আর শুধু অংশ নিতেই বিশ্বকাপে যাচ্ছে না। ডিফেন্ডার মাইকেল বক্সালের ভাষায়, ‘আমরা অনেকবার হৃদয়ভঙ্গের শিকার হয়েছি, কিন্তু এবার আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।’
নিউজিল্যান্ডের নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন অনেকাংশেই নির্ভর করছে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ইরানের বিপক্ষে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচের ওপর। এরপর মিসর এবং সবশেষে শক্তিশালী বেলজিয়ামের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে তাদের। ১৯৮২ আর ২০১০ সালের পর এটি তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ। আগের দুই আসরে কোনো জয়ের স্বাদ না পাওয়া নিউজিল্যান্ড এবার চায় ইতিহাসের পাতা নতুন করে লিখতে।
নিউজিল্যান্ডের জাতীয় পাখি ‘কিউই’ উড়তে পারে না ঠিকই, কিন্তু মাঠের ফুটবলে এই কিউইরা এখন ডানা মেলতে প্রস্তুত।
দল:
গোলকিপার:
ম্যাক্স ক্রোকম, অ্যালেক্স পলসেন, মাইকেল উড
ডিফেন্ডার:
টাইলার বিন্ডন, মাইকেল বক্সাল, লিবেরাতো কাচাচে, ফ্রান্সিস দে ভ্রিস, ক্যালান এলিয়ট, টিম পেইন, নান্দো পিনিয়াকার, টমি স্মিথ, ফিন সুরম্যান
মিডফিল্ডার:
লাচলান বাইলিস, জো বেল, ম্যাট গারবেট, এলি জাস্ট, ক্যালাম ম্যাককোয়াট, বেন ওল্ড, অ্যালেক্স রুফার, মার্কো স্টামেনিচ, সারপ্রিত সিং, রায়ান থমাস
ফরোয়ার্ড:
কোস্টা বারবারাউসেস, জেসি র্যান্ডাল, বেন ওয়েইন, ক্রিস উড
.gif)
.gif)































