তারকাদের ছাঁটাই আর কোচের সাহসী জুয়া — দুয়ে মিলেই সাজানো হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড দল । দল ঘোষণা হতেই যে তুমুল ঝড় উঠেছে , তা মূলত বিশ্বকাপের মাঠে ইংল্যান্ডের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে । সেই ১৯৬৬ সালের পর দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে ট্রফিহীন থ্রি লায়নরা এবার বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে এমন এক দল নিয়ে মাঠে নামছে , যেখানে ব্যক্তিগত প্রতিভার চেয়ে দলগত ঐক্য বড় করে দেখা হয়েছে ।
এই শক্তিশালী দলকে বিশ্বকাপ জেতানোর মূল দায়িত্ব এখন জার্মান কোচ টমাস টুখেলের কাঁধে । তবে তাঁর সামনে বড় পরীক্ষা হবে উত্তর আমেরিকার তীব্র গরম ও আর্দ্রতা । এই প্রতিকূল আবহাওয়া সামলাতে দলের সহকারী কোচ অ্যান্থনি ব্যারি একটি বিশেষ গরম - সহনশীল খেলার কৌশল তৈরি
করছেন ।
এবারের বিশ্বকাপের জন্য টুখেল যে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন , সেখানে ব্যক্তিগত বিশ্বমঞ্চে ইংল্যান্ডের অতীত ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড হলেও চূড়ান্ত সাফল্য এসেছে শুধু একবারই । সেই ১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠ ওয়েম্বলিতে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথম ও শেষবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল তারা । এরপর ১৯৯০ ও ২০১৮ সালের সেমিফাইনাল এবং সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের । ছয় দশক ধরে এই সোনালি ট্রফি ইংলিশদের জন্য শুধুই এক অধরা স্বপ্ন হয়ে আছে । এবার নতুন কোচের হাত ধরে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর লক্ষ্য তাদের । বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ড এবার দেখিয়েছে অবিশ্বাস্য দাপট । বাছাইপর্বের আটটি ম্যাচের সব কটিতেই জিতে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে তারা । সবচেয়ে বড় কথা , এই আট ম্যাচের একটিতেও প্রতিপক্ষ দল তাদের জালে কোনো বল জড়াতে পারেনি । শুরুর দিকে অ্যান্ডোরার বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেলেও দিন যত গেছে , ইংলিশদের ধার তত বেড়েছে ; বিশেষ করে সার্বিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ম্যাচটি ছিল তাদের বাছাইপর্বের সেরা পারফরম্যান্স ।
প্রতিভার চেয়ে দলগত ঐক্যকে বড় করে দেখা হয়েছে । আর এই ফর্মুলা মেলাতে গিয়ে দল থেকে বাদ পড়েছেন হ্যারি ম্যাগুয়ার , ফিল ফোডেন , কোল পালমার ও ট্রেন্ট আলেকজান্ডার- আর্নল্ডের মতো তারকারা । কোচের মূল ভরসা এখন অধিনায়ক হ্যারি কেই।
১৭ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে । এরপর ২৩ জুন ঘানা এবং ২৭ জুন পানামার মুখোমুখি হবে তারা । বাছাইপর্বের আট ম্যাচের সব কটিতে জিতে এবং কোনো গোল না হজম করে মূল পর্বে আসা ইংল্যান্ডের বর্তমান ফর্ম বেশ আশা জোগাচ্ছে বেশ । টুখেলের এই ‘ টিম স্পিরিট ' আর কেইনের অভিজ্ঞতা যদি মাঠে এক সুতোয় গাঁথা যায় , তবে ৬০ বছরের খরা কাটিয়ে এবার বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় তোলা ইংল্যান্ডের জন্য অসম্ভব কিছু নয় ।






























