বিশ্বকাপে ইরানকে কি দেখা যাবে! গত বছরের মার্চে দুবার পিছিয়ে পড়েও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ে সপ্তমবারের মতো জায়গা করে নেয় বিশ্বকাপে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২১ নম্বরে থাকা দলটি অভিজ্ঞতায় টইটম্বুর হলেও মাঠের বাইরের চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সরাসরি যুদ্ধাবস্থা তাদের প্রস্তুতিতে এক বিষণ্ন কালো মেঘের ছায়া ফেলেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি জড়িয়ে পড়া ‘টিম মেলি’র বিশ্বকাপ যাত্রাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তাই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখন যেখানেই যান, একটা প্রশ্ন অবধারিত থাকে—ইরান বিশ্বকাপে খেলবে তো? ইনফান্তিনো অবশ্য নিশ্চয়তা দিচ্ছেন; তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। যুদ্ধাবস্থা চলতে থাকলে শত্রু দেশে গিয়ে খেলার খুব একটা সম্ভাবনা নেইও।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশ নেওয়া উচিত হবে না। এমন এক টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে ফুটবলারদের মনোসংযোগ ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের আকাশে যখন যুদ্ধের ডামাডোল, তখন ফুটবলাররা লস অ্যাঞ্জেলেস আর সিয়াটলের সবুজ গালিচায় দেশের পতাকা ওড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। অবশ্য বিশ্বকাপ সামনে রেখে দক্ষিণ তুরস্কে গিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইরানের ফুটবলাররা।
টিম মেলির এবারের প্রধান অস্ত্র তাদের শক্তিশালী আক্রমণভাগ। দলের সব আলো কেড়ে নিচ্ছেন অলিম্পিয়াকোসের তারকা স্ট্রাইকার মেহেদী তারেমি। বাছাইপর্বে যেভাবে তিনি গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন, তাতে প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য তিনি এক আতঙ্কের নাম। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন অভিজ্ঞ সরদার আজমুন। দুই ফরোয়ার্ডের রসায়ন ইরানের কাউন্টার অ্যাটাকভিত্তিক ফুটবলকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের সমন্বয়টা বেশ দারুণভাবে করেছেন কোচ আমির ঘালেনোই।
দলের গভীরতা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে, যা বড় কোনো টুর্নামেন্টে চেট বা ক্লান্তির কবলে পড়লে ভোগাতে পারে। বিশেষ করে ২০২৫-এর কাফা নেশনস কাপে উজবেকিস্তানের কাছে হার ইরানের দুর্বলতা ফুটিয়ে তুলেছে।
বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে একই গ্রুপে পড়েছে ইরান। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি গত কয়েক আসরের তুলনায় ইরানের জন্য তুলনামূলক সহজ গ্রুপ। বেলজিয়াম দলটিতে বর্তমানে আগের সেই সোনালি প্রজন্মের দাপট নেই, তারা এখন পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মিসরের সঙ্গে লড়াই হবে মূলত মোহামেদ সালাহ বনাম ইরানি রক্ষণের। আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই যদি পূর্ণ পয়েন্ট তুলে নেওয়া যায়, তবে নকআউট পর্বের দরজা ইরানের জন্য অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিই নির্ধারণ করে দেবে ইরানের ভাগ্যের গতিপথ।
প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ আর যুদ্ধের চাপকে জয় করা ইরানের জন্য নতুন কিছু নয়। ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক জয় কিংবা ২০১৮ সালে পর্তুগালকে রুখে দেওয়ার বীরত্বগাথা আজও ফুটবলের চর্চিত বিষয়। লড়াকু মানসিকতা ইরানের ফুটবলের ডিএনএ-তে মিশে আছে। তারেমি-আজমুনরা যদি তাঁদের স্বাভাবিক খেলাটা উপহার দিতে পারেন, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে ইরানের ফুটবলের জন্য এক নতুন ভোরের সূচনা। আগের ছয়টি আসরের কোনোটিতে যে গ্রুপপর্ব পেরোতে পারেনি তারা। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, যুদ্ধ কখন থামবে।
দল
গোলকিপার:
আলিরেজা বেইরানভান্দ, সেয়েদ হোসেইন হোসেইনি, মোহাম্মদ খালিফেহ, পায়াম নিয়াজমান্দ
ডিফেন্ডার:
দানিয়াল আইরি, এহসান হাজসাফি, সালেহ হারদানি, হোসেইন কানানি, শুজা খালিলজাদে, মিলাদ মোহাম্মাদি, আলি নেমাতি, ওমিদ নূরআফকান, রামিন রেজায়িয়ান
মিডফিল্ডার:
রোজবেহ চেশমি, সাঈদ এজাতোলাহি, মেহদি গায়েদি, সামান ঘোদ্দোস, মোহাম্মদ ঘোরবানি, আলিরেজা জাহানবাখশ, মোহাম্মদ মোহেবি, আমির মোহাম্মদ রাজাঘিনিয়া, মেহদি তোড়াবি, আরিয়া ইউসেফি
ফরোয়ার্ড:
আলি আলিপুর, ডেনিস দারাগাহি, হাদি হাবিবিনেজাদ, আমিরহোসেইন হোসেইনজাদে, আমিরহোসেইন মাহমুদি, কাসরা তাহেরি, মেহদি তারেমি
.gif)
.gif)































