২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর আর বিশ্বমঞ্চে দেখা যায়নি আইভরি কোস্টকে। সেবার গ্রিসের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের এক গোলে চূর্ণ হয়ে যায় সোনালি প্রজন্মের স্বপ্ন। এরপর টানা দুটি বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে থাকার পর ২০২৬ বিশ্বকাপে পা রেখেছে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি।
বাছাইপর্বের ১০টি ম্যাচের একটিতেও হারেনি আইভরি কোস্ট। ৮টি জয় আর ২টি ড্র নিয়ে তারা অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। তাও যৌথভাবে আফ্রিকার মধ্যে প্রথম হয়ে। তবে এর চেয়ে বিস্ময়কর হলো, ১০ ম্যাচে একটি গোলও হজম করেনি। নিশ্ছিদ্র রক্ষণ আর ধারালো আক্রমণের এই মেলবন্ধন তাদের নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়।
এই সাফল্যের নেপথ্যে বড় অবদান কোচ এমেরসে ফায়ের। ২০২৪ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের মাঝপথে তিনি দায়িত্ব নেন। তখন দলটি প্রায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাচ্ছিল। খাদের কিনারা থেকে টেনে তুললেন পুরো দলকে। হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে এনে দেন শিরোপাও। সেই সাফল্যের ধারা বজায় রেখেই বিশ্বকাপের বৈতরণি পার করিয়েছেন তিনি।
ফায়ে এমন এক ৪-৩-৩ ফরমেশন দাঁড় করিয়েছেন, যেখানে গোল করার জন্য দলটি কোনো নির্দিষ্ট একজনের ওপর নির্ভরশীল নয়। বাছাইপর্বে তারা মোট ২৫টা গোল করেছে এবং তা করেছেন ৯ জন আলাদা খেলোয়াড়। দলের মাঝমাঠে মূল দায়িত্ব অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসির কাঁধে। তাঁর অভিজ্ঞতা আর সেকো ফোফানার শক্তিমত্তা দলের মূল চালিকাশক্তি। তবে সমর্থকদের সবটুকু রোমাঞ্চ এখন ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দেকে ঘিরে। ২০ মিলিয়ন ইউরোতে আরবি লাইপজিগে নাম লেখানো এই তরুণ তুর্কি এবং বাজুমানা তেরোর গতি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ তছনছ করতে বড় অস্ত্র হতে পারে।
আইভরি কোস্টের জন্য এবারের বিশ্বকাপ এক অভিশপ্ত ইতিহাস ভাঙার মিশন। অতীতে তাদের বিশ্বকাপ-যাত্রা সব সময়ই গ্রুপপর্বে থেমে গেছে। ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪—টানা তিন আসরে তারা অংশ নিলেও নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি। কখনো আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস, আবার কখনো ব্রাজিল-পর্তুগালের মতো ‘ডেথ গ্রুপে’ পড়ে কপাল পুড়েছে।
এবার তাদের গ্রুপে আছে জার্মানি, ইকুয়েডর ও কুরাসাও। দলটির বর্তমান স্কোয়াডের প্রায় সবাই ইউরোপের বড় লিগগুলোতে খেলছেন। ঘরোয়া লিগের খেলোয়াড় নেই বললেই চলে। এটি প্রমাণ করে যে তাদের দেশের ফুটবলাররা এখন বিশ্ব ফুটবলে কতটা জনপ্রিয়। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের দলটি গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ। তাদের আক্রমণভাগের যেমন গোল করার ক্ষমতা আছে, তেমনি রক্ষণভাগও যথেষ্ট শক্তিশালী।
গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়া ও স্কটল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জয় সেই বার্তাই দিচ্ছে। দীর্ঘ এক যুগের খরা কাটিয়ে তারা যখন উত্তর আমেরিকার মাঠে নামবে, তখন তাদের চোখে থাকবে আফ্রিকার ফুটবলের নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন। আফ্রিকার ফুটবল শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান আবারও প্রমাণ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে দ্য এলিফ্যান্টরা।
দল
গোলকিপার:
ইয়াহিয়া ফোফানা, মোহামেদ কোনে, আলবান লাফঁ।
ডিফেন্ডার:
এমানুয়েল আগবাদু, ক্লেমঁ আকপা, ওসমান দিওমান্দে, গ্যুয়েলা দোয়ে, ঘিসলাঁ কোনাঁ, ওদিলোঁ কসুনু, উইলফ্রিদ সিঙ্গো, এভঁ এনদিকা।
মিডফিল্ডার:
সেকো ফোফানা, পারফে গিয়াগঁ, ক্রিস্ট ইনাওয়া উলাই, ফ্রাঙ্ক কেসি, ইব্রাহিম সাঙ্গারে, জঁ-মিশেল সেরি।
ফরোয়ার্ড:
সিমোঁ আদিংরা, আঞ্জ-ইওয়াঁ বনি, আমাদ দিয়ালো, উমার দিয়াকিতে, ইয়ান দিওমান্দে, এভঁ গেসাঁ, নিকোলা পেপে, বাজারমানা তুরে, এলিয়ে ওয়াহি।
.gif)
.gif)































