Ajker Patrika
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
মোহামেদ সালাহ
# ১০রাইট উইং

মোহামেদ সালাহ

মিসর
মিসর
ফ্রী এজেন্ট
জন্ম তারিখ১৫ জুন ১৯৯২
পছন্দের পা
ক্লাবফ্রী এজেন্ট
দলমিসর
গোল
ক্যাপস

পরিচিতি

মিসরের স্বপ্ন সওয়ার সালাহ

আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের একজন মোহামেদ সালাহ গতি, গোল করার ক্ষমতা আর অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতায় তিনি শুধু মিসরের নয়, পুরো আরব বিশ্বের ফুটবল আইকনে পরিণত হয়েছেন। ইউরোপিয়ান ফুটবলের বড় মঞ্চে বছরের পর বছর নিজেকে প্রমাণ করে যাওয়া সালাহ এখন বিশ্বকাপের মঞ্চেও মিশরের সবচেয়ে বড় ভরসা।

ডান প্রান্ত থেকে বাঁ পায়ের কাট-ইনএটাই যেন সালাহর ট্রেডমার্ক। তিনি মূলত রাইট উইঙ্গার হলেও তাঁর খেলার ধরণ অনেকটা ইনসাইড ফরোয়ার্ডের মতো। উইং থেকে ভেতরে ঢুকে গোলের সুযোগ তৈরি করা কিংবা নিজেই ফিনিশিং করাদুই ক্ষেত্রেই সমান কার্যকর। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক তাঁর গতি প্রথম কয়েক কদমের বিস্ফোরক ত্বরান্বিত হওয়া। একবার জায়গা পেয়ে গেলে তাঁকে থামানো খুব কঠিন হয়ে যায়।

সালাহর সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর গোল করার ধারাবাহিকতা। বক্সের ভেতরে কিংবা বাইরেদুই জায়গা থেকেই তিনি নিখুঁত ফিনিশ করতে পারেন। বাঁ পায়ের কার্লিং শট বহুবার ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর অফ দ্য বল মুভমেন্ট অসাধারণ। ডিফেন্স লাইনের ফাঁক খুঁজে নেওয়া এবং সঠিক সময়ে দৌড় শুরু করার দক্ষতা তাঁকে সবসময় বিপজ্জনক করে রাখে।

শুধু গোল নয়, প্লেমেকার হিসেবেও সালাহ অনেক উন্নতি করেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাঁকে কেবল গতিনির্ভর উইঙ্গার বলা হলেও এখন তিনি আক্রমণ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ছোট ছোট পাস, দ্রুত ওয়ান-টু আর কাউন্টার অ্যাটাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে আরও পরিণত ফুটবলার বানিয়েছে।

তবে তাঁর দুর্বলতার জায়গাও আছে। কখনও কখনও খুব ঘন ডিফেন্সের বিপক্ষে সালাহকে ছন্দ হারাতে দেখা যায়। শারীরিকভাবে শক্তিশালী ডিফেন্ডাররা তাঁকে জায়গা না দিলে কার্যকারিতা কিছুটা কমে যায়। এছাড়া ম্যাচের পুরো সময় একই তীব্রতা ধরে রাখা তাঁর জন্য সবসময় সহজ হয় না। বড় টুর্নামেন্টে মিসরীয় দলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও অনেক সময় তাঁর ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।

অর্জনের তালিকায় মোহামেদ সালাহ অনেক আগেই নিজেকে কিংবদন্তিদের কাতারে নিয়ে গেছেন। লিভারপুলের হয়ে তিনি জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, এফএ কাপ ক্লাব বিশ্বকাপসহ অসংখ্য শিরোপা। ইংল্যান্ডের লিগে একাধিকবার গোল্ডেন বুট জয়ের কৃতিত্বও আছে তাঁর। আফ্রিকান বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারও জিতেছেন একাধিকবার। দেশের জার্সিতে তিনি মিসরকে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে তুলেছেন এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরানোর অন্যতম নায়ক হয়েছেন।

বর্তমান ফর্মের দিক থেকেও সালাহ এখনও বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের একজন। বয়স বাড়লেও তাঁর ফিটনেস, গতি গোল করার ক্ষুধা খুব একটা কমেনি। বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা এখনও তাঁকে আলাদা করে তোলে। অনেক তরুণ ফুটবলারের কাছে তিনি এখন অনুপ্রেরণার প্রতীকবিশেষ করে আফ্রিকা আরব বিশ্বের খেলোয়াড়দের কাছে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে প্রত্যাশা সবসময়ই আকাশছোঁয়া। কারণ, তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন; তিনি কোটি মানুষের স্বপ্ন, গর্ব আর বিশ্বাসের নাম।

 

অন্যান্য তারকা খেলোয়াড়