পুনর্জন্মের গল্প লিখতে বিশ্বমঞ্চে দেম্বেলে
ফুটবলে কিছু ক্যারিয়ার আছে, যেগুলোকে এক লাইনে ব্যাখ্যা করা যায় না। উসমান দেম্বেলের গল্প ঠিক তেমনই। তার ফুটবলজীবন যেন দুই ভিন্ন অধ্যায়ের সমন্বয়—একদিকে বিস্ময়কর প্রতিভার ঝলক, অন্যদিকে চোট আর অপূর্ণতার দীর্ঘ অন্ধকার। তবে সেই অন্ধকার পেরিয়ে আবারও আলোয় ফিরেছেন ফরাসি এই উইঙ্গার। আর এখন তার চোখ আরও বড় মঞ্চে—বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে আবার শীর্ষে তোলার স্বপ্নে।
অল্প বয়সেই ইউরোপীয় ফুটবলে দেম্বেলের আবির্ভাব ছিল ঝড়ের মতো। ড্রিবলিং, গতি আর দুই পায়ে সমান দক্ষতায় প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার অসাধারণ ক্ষমতা তাকে আলাদা করে দিয়েছিল খুব দ্রুতই। ছোটবেলার ক্লাব ইভহুতে তার প্রতিভা প্রথম নজর কাড়ে। এরপর স্তাদ রেনের একাডেমিতে আরও পরিণত হয়ে ওঠেন তিনি।
রেনের মূল দলে সুযোগ পাওয়ার পর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। বরুসিয়া ডর্টমুন্ড তাকে দলে টেনে নেয়। জার্মানিতে প্রথম মৌসুমেই নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কাড়েন দেম্বেলে। আর ঠিক পরের বছরই তাকে দলে ভেড়ায় বার্সেলোনা। তখনকার সময়ের অন্যতম বড় ট্রান্সফার ফিতে বার্সেলোনায় যাওয়া তরুণ দেম্বেলেকে ভাবা হচ্ছিল ভবিষ্যৎ ফুটবলের নতুন মুখ।
শুরুটাও ছিল আশাব্যঞ্জক। গতি, ড্রিবলিং আর সৃজনশীলতায় বার্সার আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন তিনি। জিতেছেন লা লিগা, কোপা দেল রে, স্প্যানিশ সুপার কাপ—সবই। কিন্তু ঠিক তখনই তার ক্যারিয়ারে নেমে আসে সবচেয়ে বড় বাধা—চোট।
একের পর এক ইনজুরি যেন থামিয়েই দিচ্ছিল তার অগ্রযাত্রা। মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। ফিটনেস সমস্যা, ধারাবাহিকতার অভাব, এমনকি শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল। একটা সময় মনে হচ্ছিল, হয়তো ইউরোপ যে ‘সুপারস্টার’ দেখেছিল, তিনি আর কখনও নিজের সেরা রূপে ফিরতে পারবেন না।
কিন্তু গল্পটা সেখানেই শেষ হয়নি। ২০২৩ সালে দেশে ফিরে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর যেন নতুন জীবন পান দেম্বেলে। কোচ লুইস এনরিকের অধীনে তিনি হয়ে ওঠেন দলের আক্রমণের প্রাণ। উইং থেকে তার গতিময় দৌড়, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে ওঠা এবং গোল তৈরির ক্ষমতা আবারও ফিরিয়ে আনে সেই পুরোনো দেম্বেলেকে।
২০২৪-২৫ মৌসুম ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়গুলোর একটি। গোল আর অ্যাসিস্টে আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়ে পিএসজিকে প্রথমবারের মতো জেতান চ্যাম্পিয়নস লিগ। সেই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৩ ম্যাচে ৩৫ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট করেন তিনি। দুর্দান্ত ধারাবাহিকতায় জিতে নেন মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত দুই পুরস্কার— ব্যালন ডি’অর এবং ফিফা দ্য বেস্ট।
তবে চলতি মৌসুমে আবারও কিছুটা ভুগিয়েছে চোট। ফিটনেস সমস্যার কারণে পারফরম্যান্সেও প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের শুরু থেকে ধীরে ধীরে আবার ছন্দে ফিরেছেন তিনি। নিয়মিত গোল করছেন, আক্রমণে তৈরি করছেন পার্থক্য। ডান কিংবা বাম—দুই পা দিয়েই সমান স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারেন তিনি। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার কখন কোন দিকে কাট দেবেন, তা অনুমান করাই কঠিন। এক মুহূর্তে ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর উইঙ্গারে পরিণত করেছে।
.gif)
.gif)





