
নিউজার্সির মিঠে বিকেলে মাঠের দুই প্রান্তে একই সঙ্গে দুটি দৃশ্য দেখা গেল। এক প্রান্তে লিওনেল মেসি বসে আছেন, চোখে তাঁর অশ্রুর ধারা। প্রিয় সতীর্থ ‘দিবু’ মার্তিনেস একবার ওঠানোর চেষ্টা করলেন, মেসির যেন ওঠার শক্তিও নেই। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত মেসি বসেই রইলেন। আরেক প্রান্তে লামিনে ইয়ামাল, মাঠেই শুয়ে পড়েছেন। খানিক পরে উঠে বসলেন। চোখ মুছলেন। ইয়ামালের চোখেও অশ্রু। মেসির চোখে জল শিরোপা ধরে রাখতে না পারার যাতনায়, ইয়ামালের সেটি জয় করার আনন্দে।
দৃশ্যটা ফুটবলে এক বড় বাঁকবদলের ছবি বলা যায়; যেখানে ইয়ামালের শুরু, মেসির হলো সারা। কে জানত, ১৮ বছর আগে তোলা সেই আলোচিত ছবির দুই চরিত্রকে এভাবে দেখা যাবে নিউজার্সি স্টেডিয়ামে।
দেড় মাসের বিশ্বকাপ-যাত্রায় এই প্রতিবেদকের তুলনামূলক সবচেয়ে বেশি কাভার করা হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলকে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ পাঠক-দর্শক যেহেতু এই দুই দলের গল্পই বেশি দেখতে-জানতে চান। ব্রাজিল টুর্নামেন্টের একটু আগেভাগে বিদায় নেওয়ায় মনোযোগের কেন্দ্রে এসে যায় আর্জেন্টিনা। আর আর্জেন্টিনা মানেই মেসি। মেসি কীভাবে অনুশীলন করেন, ওয়ার্মআপ করেন, সতীর্থদের সঙ্গে মেশেন, ম্যাচের পর মিক্সড জোনে কীভাবে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান, সংবাদমাধ্যমকে সামলান, ম্যাচের আগে কী করেন আর ম্যাচে তাঁর জাদু—সবই দেখা হয়েছে সচক্ষে, সূক্ষ্মভাবে।

মেসিকে যত দেখা হয়, ততই মুগ্ধ হতে হয়। এত বড় তারকা, যাঁর ক্যারিয়ারে এত এত সাফল্য—একজন খেলোয়াড় সম্ভাব্য যা যা জিততে চান, সবই জিতেছেন, অথচ তাঁর চলন-বলন কত সাধারণ। মেসিকে দেখার জন্য আকুল আসলে বেশির ভাগ ফুটবলপ্রেমীই। যেখানেই তাঁর উপস্থিতি, সব আলো যেন আর্জেন্টাইন জাদুকরের দিকেই। আধুনিক ফুটবলে একক ব্যক্তিকে ঘিরে কোনো দল চলে না—এ ধারণা কাজ করে না আর্জেন্টিনা দলে। তাদের কাছে মেসিই সব। বিষয়টি এমন, মেসি খেলেন আর্জেন্টিনার জন্য, আর আর্জেন্টিনা দল খেলে মেসির মুখে হাসি ফোটাতে। এই মন্ত্রে, এই সূত্রেই আর্জেন্টিনা ২০২২ বিশ্বকাপ জিতেছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপে উঠে গিয়েছিল ফাইনালে।
নকআউট পর্বে একাধিক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে দিলেও শিরোপার লড়াইয়ে দেখা গেল না দুর্দান্ত আর্জেন্টিনাকে, দেখা গেল না আর মেসি জাদু। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কঠিন ছকে স্প্যানিশ দল প্রায় পুরোটা সময় বোতলবন্দী করে রেখেছিল মেসিকে। বল না এলে যেটা হয়, অধিকাংশ সময় মেসি হেঁটে বেড়িয়েছেন। স্পেনের সাঁড়াশি আক্রমণের বিপরীতে আর্জেন্টিনার ‘লো ব্লক ট্রানজিশন টু অ্যাটাক’ কৌশলও কাজে দেয়নি ফাইনালে। ফাইনালের পুরোটা সময় মনে হলো, একটি দলই শিরোপা জিততে খেলছে—স্পেন। ম্যাচের গতি, ছন্দ ও নিয়ন্ত্রণ—পুরোটা সময় ছিল স্পেনের হাতেই। আর্জেন্টিনা শুধু দৌড়েছে।
ম্যাচ শেষে যখন শিরোপার মঞ্চ তৈরি, জয়ী দল স্পেনের খেলোয়াড়েরা দুই সারিতে দাঁড়ালেন। তাঁদের মাঝে নত শিরে হেঁটে পোডিয়ামে উঠল আর্জেন্টিনা দল। সবার সামনে মেসি। পেছনে তাঁর সতীর্থরা। মঞ্চে রানার্সআপের মেডেল নিয়ে তাঁরা চলে গেলেন আর্জেন্টিনা-সমর্থকে পূর্ণ গ্যালারিটার সামনে। দর্শকেরা যেভাবে তাঁদের মনপ্রাণ উজাড় করে ভালোবাসেন, তাঁদের কী জবাব দেবেন মেসিরা। পুরো আর্জেন্টিনা দল নির্লিপ্ত, ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন দর্শকের দিকে তাকিয়ে। আকাশি-সাদার সমুদ্র আরেকবার গর্জে উঠল নিউজার্সিতে। মেসি কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়েই রইলেন, ক্যামেরা তাক করল তাঁর মুখের দিকে। মেসির চোখে জল ছলছল। কত সাফল্য তাঁর, এই বিশ্বকাপ তো তিনিও জিতেছেন। ৪ বছরের মধ্যে টানা তিনটি বড় শিরোপা (একটি বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা) জিতেছেন। ক্লাব ফুটবলে ভূরি ভূরি সাফল্য। তবু কাঁদছেন কেন মেসি? তাঁর শেষের গানটা যে হলো বড় বিষাদময়।
মেসির শেষের শুরু যখন ব্যর্থতায়, তখন ফুটবল পৃথিবীতে যেন নতুন মহাতারকার আগমন—লামিনে ইয়ামাল। ম্যাচ শেষে ইয়ামালকে বুকে আলিঙ্গন করলেন মেসি। শিরোপা হারিয়ে মেসি যখন কাঁদছেন; সেটাই জিতে ইয়ামাল নাচছেন, গাইছেন। আনন্দে মেতে উঠছেন।
বিশ্বকাপ তো এমনই, আনন্দ-বেদনার এক অনবদ্য কাব্য।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর লিওনেল মেসির অশ্রুসিক্ত মুখ ভক্তদের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। অনেকের দাবি, আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন ৩৯ বছর বয়সী ফুটবলার। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালই মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়—এমনটাই জানিয়েছেন টিওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক গাস্তন এদুল।
২৩ মিনিট আগে
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সবে শেষ হয়েছে। তবে এরই মধ্যে আগামী বিশ্বকাপ নিয়ে শুরু হচ্ছে জল্পনা-কল্পনা। আর্জেন্টিনা ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক হলেও টুর্নামেন্টের আগে তাদের বাছাইপর্ব খেলতে হবে।
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টিনার। সেই হতাশা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি দলটি মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পল। তবে হারের আক্ষেপের পাশাপাশি সমালোচকদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে
আর্জেন্টিনার হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর মাঠেই লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরেছিলেন লামিনে ইয়ামাল। এমন একটি ভিডিও ম্যাচের পরই ভাইরাল হয়েছে। তবে শুধু ইয়ামালই নয়, আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে জড়িয়ে ধরেছিলেন স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ফেরান তোরেসও।
২ ঘণ্টা আগে