ফুটবল মানচিত্রে একসময় যারা ছিল স্রেফ ‘অংশগ্রহণকারী’, সেই পানামা এখন বিশ্ব ফুটবলের নতুন শক্তি। নিস্তব্ধতা ভেঙে গর্জনে মেতে ওঠার এক অনন্য গল্প লিখেছে মধ্য আমেরিকার এই দেশ। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের টিকিট নিশ্চিত করেছে লোস কানালেরোসরা।
একসময় বেসবলে মত্ত থাকা দেশটির এমন ফুটবল-বিপ্লব বিশ্বের কাছে খানিকটা বিস্ময়েরও বটে। রাশিয়া বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ হেরে গ্রুপপর্ব বিদায় নিলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফেলিপে বালয়ের করা গোলটি তাদের ফুটবলের এক নতুন স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছে। তাই তো ৮ বছরের ব্যবধানে আবারও বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে তারা।
অসাধ্যসাধনের কাজটা করেছেন ডেনিশ কোচ থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেন। ডাচ কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফের দর্শনে প্রভাবিত এই কোচ ২০২০ সালের জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর পানামার ফুটবল কাঠামোই বদলে দিয়েছেন। শুরুতে ২০২১ সালের গোল্ড কাপ থেকে বিদায় এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পেরোতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে পানামা ফুটবল ফেডারেশন কোচের ওপর আস্থা হারায়নি। শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল পানামাকে ক্রিশ্চিয়ানসেন একটি বল-দখলভিত্তিক এবং ৩-৪-৩ ফরমেশনের ট্যাকটিক্যাল দলে পরিণত করেছেন। এই আস্থার প্রতিদান হিসেবে পানামা ২০২৩ সালের গোল্ড কাপ এবং ২০২৫ সালের নেশনস লিগের ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার রাস্তাটি পানামার জন্য খুব সহজ ছিল না। কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে নিকারাগুয়া, গায়ানা, মন্টসেরাট এবং বেলিজকে অনায়াসে হারালেও তৃতীয় রাউন্ডে তাদের বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। সুরিনাম ও গুয়াতেমালার সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করার পর খাদের কিনারায় থাকা দলটি ঘুরে দাঁড়ায় নভেম্বরের উইন্ডোতে। গুয়াতেমালার মাঠ থেকে ৩-২ ব্যবধানের এক রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে ফেরার পর, শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে এল সালভাদরকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে তারা। এই জয়ে সুরিনামকে টপকে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ক্রিশ্চিয়ানসেনের দল।
মাঠের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন দলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা আদালবার্তো কারাসকিয়া। তাঁর নিখুঁত পাসিং এবং ড্রিবলিং দলের আক্রমণের গতিপথ নির্ধারণ করে। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন তরুণ কার্লোস হার্ভে। আক্রমণভাগে হোসে ফাজার্দো এবং সিসিলিও ওয়াতারমান জুটি বাছাইপর্বের শেষ রাউন্ডে দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছেন। আনিবাল গদয় ও আলবার্তো কুইন্তেরোর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি দলকে এনে দিয়েছে দারুণ এক ভারসাম্য।
এবারের বিশ্বকাপে পানামা লিখতে চায় ভিন্ন গল্প। গ্রুপ ‘এল’-এ তাদের প্রতিপক্ষ আফ্রিকান শক্তি ঘানা, গত কয়েক আসরের ধারাবাহিক দল ক্রোয়েশিয়া এবং ফুটবলের পরাশক্তি ইংল্যান্ড। ১৭ জুন টরন্টোতে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ মিশন। দলকে উজ্জীবিত করতে মাঠে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো। এরপর ২৩ জুন একই মাঠে ক্রোয়েশিয়া এবং ২৭ জুন নিউ জার্সিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। পানামা খাল একসময় অসম্ভব মনে হয়েছিল। পাহাড় কেটে, জঙ্গল সরিয়ে তৈরি হয়েছিল সেই পথ। পানামার ফুটবলও অনেকটা তেমনই—ধীরে ধীরে নিজের পথ তৈরি করে নিচ্ছে বিশ্বমঞ্চে।
.gif)
.gif)


জেনে নিন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সূচি



























