Ajker Patrika
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
কেপ ভার্দে
কেপ ভার্দে

কেপ ভার্দে

প্রধান কোচ: পেদ্রো লেইতাও ব্রিতো

ফিফা র‍্যাঙ্কিং

# ৬৯

বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ

নিবন্ধিত খেলোয়াড়

২৬

গ্রুপ

গ্রুপ এইচ

দল পরিচিতি

আটলান্টিক মহাসাগরের নীল জলরাশির বুক চিরে জেগে ওঠা ১০টি আগ্নেয় দ্বীপের সমষ্টি কেপভার্দে। মাত্র সোয়া পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এই ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটি এবার বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে লিখেছে অকল্পনীয় রূপকথা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট কেটে তারা যেন দেখিয়ে দিল, ফুটবল কখনো কখনো সীমানাকেও ছাড়িয়ে যায়। কোনো জনসংখ্যাই ক্ষুদ্র নয়, যদি থাকে অদম্য স্বপ্ন। তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে নাম লিখিয়েছে তারা, এমন সাফল্যকে দেশটির রাষ্ট্রপতি তুলনা করেছেন ‘এক নতুন স্বাধীনতা’ হিসেবে।

একসময় ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৮২তম অবস্থানে থাকা দলটি ৭০-এর ঘরে জায়গা করে নিয়েছে, যা তাদের ধারাবাহিক উন্নতির অকাট্য প্রমাণ। কেপভার্দের এই উত্থান কোনো আকস্মিক জাদুর কাঠি নয়, বরং এটি দীর্ঘ কয়েক দশকের এক পরিকল্পিত স্বপ্নের ফসল। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের উপনিবেশ থাকা এই দেশটির নিজস্ব কোনো ফুটবল শক্তি ছিল না। কিন্তু কয়েক বছরে তারা প্রবাসীদের (যাদের ভালোবেসে ডাকা হয় ‘১১তম দ্বীপ’) এক সুতোয় গেঁথেছে। বর্তমান জাতীয় দলের প্রায় ৬০ শতাংশ খেলোয়াড় পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডের মতো উন্নত ফুটবল পরিকাঠামোয় বেড়ে উঠেছেন।


শামরক রোভার্সের ডিফেন্ডার রবার্তো লোপেসের কথাই ধরা যাক, যাঁকে লিংকডইনে একটি মেসেজের মাধ্যমে জাতীয় দলে খেলার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই অজানা মেসেজ থেকে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের স্বপ্নযাত্রার নায়ক।

মাঠের এই লড়াইয়ের নেপথ্য কারিগর কোচ বুবিস্তা। সাবেক অধিনায়ক ও ডিফেন্ডার হিসেবে তিনি এই দলটিকে কাউন্টার অ্যাটাকিংয়ে বানিয়েছেন হিংস্র। পুরো বাছাইপর্বে নিজেদের মাঠে একটি গোলও হজম না করার রেকর্ডটি তাঁদের ‘ডিফেনসিভ সলিডারিটি’র পরিচয় দেয়। দলের সংহতি বাড়াতে তিনি ড্রেসিংরুমে স্থানীয় ভাষা ‘ক্রিওলো’ বলা বাধ্যতামূলক করেছেন, যা ইউরোপের নানা শহর থেকে আসা খেলোয়াড়দের মধ্যে এক অদ্ভুত জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তুলেছে। বাছাইপর্বে ক্যামেরুন এবং অ্যাঙ্গোলার মতো আফ্রিকান পরাশক্তিদের পেছনে ফেলে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করা মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে নিজেদের মাঠে একটি গোলও হজম না করার রেকর্ডটিই বলে দেয় তাঁদের জমাট রক্ষণের কথা।


নভেম্বরে বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে এসওয়াতিনিকে ৩-০ গোলে হারানোর পর রাজধানী প্রাইয়ার রাজপথে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা ছিল দেখার মতো। মাঝরাতের আতশবাজি আর ক্রিওলো গানের সুরে যখন প্রবীণ থেকে তরুণ—সবাই মেতে উঠেছিল, তখন বোঝা যাচ্ছিল এই জয় কেবল ১১ জন ফুটবলারের নয়, বরং বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি কেপভার্দিয়ানের। ডেইলন লিভরামেন্তোর মতো তরুণেরা যখন মাঠের ঘাসে লুটিয়ে পড়ে কাঁদছিলেন, তখন তাঁরা আসলে তাঁদের পূর্বপুরুষদের সেই কঠোর পরিশ্রমেরই প্রতিদান দিচ্ছিলেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে কেপভার্দের গ্রুপে রয়েছে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো অভিজ্ঞ দল। এই বড় মঞ্চে তাদের চ্যালেঞ্জটা অনেক কঠিন। তবে একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র কীভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রতিভাকে দেশীয় আবেগের সঙ্গে একীভূত করে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাতে পারে, কেপভার্দে সেই আধুনিক স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের উদাহরণ। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে আটলান্টিকের ঢেউয়ের মতোই সব বাধা পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব।

দল

গোলকিপার: ভোজিনিয়া, মার্সিও হোজা ও সিজে দুজ সান্তুজ।

ডিফেন্ডার: দিনেই বোর্জেস, সিদনি কাব্রাল, লোগান কস্তা, স্টিভেন মোরেইরা, ওয়াগনার পিনা, জোয়াও পাওলো ফার্নান্দেজ, রুবের্তু পিকু লোপেস, কেলভিন পিরেস, ইয়ানিকে স্টোপিরা তাভারেস।

মিডফিল্ডার: তেল্মু আরকাজু, লারুজ দুয়ার্তে, দেরয় দুয়ার্তে, জামিরু মঁতেইরু, কেভিন পিনা, ইয়ানিক সেমেদু

ফরোয়ার্ড: জিলসন বেনশিমোল, জুভানে কাব্রাল, নুনো দা কস্তা, দাইলন লিভ্রামেন্তু, রায়ান মেন্দেস, গ্যারি রদ্রিগেস, উইলি সেমেদু, হেলিউ ভারেলা

 

স্কোয়াড তালিকা (২৬)

ভোজিনিয়া
# গোলকিপার

ভোজিনিয়া

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
মার্সিও হোজা
# ১২গোলকিপার

মার্সিও হোজা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
সিজে দুজ সান্তুজ
# ২৩গোলকিপার

সিজে দুজ সান্তুজ

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ইয়ানিকে স্টোপিরা তাভারেস
# সেন্টার ব্যাক

ইয়ানিকে স্টোপিরা তাভারেস

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
দিনেই বোর্জেস
# সেন্টার ব্যাক

দিনেই বোর্জেস

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
রুবের্তু পিকু লোপেস
# সেন্টার ব্যাক

রুবের্তু পিকু লোপেস

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
লোগান কস্তা
# সেন্টার ব্যাক

লোগান কস্তা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
জোয়াও পাওলো ফার্নান্দেজ
# সেন্টার ব্যাক

জোয়াও পাওলো ফার্নান্দেজ

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
সিদনি কাব্রাল
# ১৩সেন্টার ব্যাক

সিদনি কাব্রাল

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
স্টিভেন মোরেইরা
# ২২সেন্টার ব্যাক

স্টিভেন মোরেইরা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ওয়াগনার পিনা
# ২৪সেন্টার ব্যাক

ওয়াগনার পিনা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
কেলভিন পিরেস
# ২৫সেন্টার ব্যাক

কেলভিন পিরেস

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
কেভিন পিনা
# সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

কেভিন পিনা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
জামিরু মঁতেইরু
# ১০সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

জামিরু মঁতেইরু

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
দেরয় দুয়ার্তে
# ১৪সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

দেরয় দুয়ার্তে

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
লারুজ দুয়ার্তে
# ১৫সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

লারুজ দুয়ার্তে

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
ইয়ানিক সেমেদু
# ১৬সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

ইয়ানিক সেমেদু

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
তেল্মু আরকাজু
# ১৮সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

তেল্মু আরকাজু

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
জুভানে কাব্রাল
# স্ট্রাইকার

জুভানে কাব্রাল

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
জিলসন বেনশিমোল
# স্ট্রাইকার

জিলসন বেনশিমোল

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
গ্যারি রদ্রিগেস
# ১১স্ট্রাইকার

গ্যারি রদ্রিগেস

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
উইলি সেমেদু
# ১৭স্ট্রাইকার

উইলি সেমেদু

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
দাইলন লিভ্রামেন্তু
# ১৯স্ট্রাইকার

দাইলন লিভ্রামেন্তু

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
রায়ান মেন্দেস
# ২০স্ট্রাইকার

রায়ান মেন্দেস

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
নুনো দা কস্তা
# ২১স্ট্রাইকার

নুনো দা কস্তা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:
হেলিউ ভারেলা
# ২৬স্ট্রাইকার

হেলিউ ভারেলা

ক্লাব:
জন্ম তারিখ:

একই গ্রুপের অন্যান্য দলগুলো