বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানি নামটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এক দীর্ঘ ইতিহাস। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই বলে দেয় পরিসংখ্যানের পাতায় ডাই মানশাফটদের অবস্থান বেশ সুদৃঢ়। তবে মাঠের বাস্তবতায় জার্মানির ফুটবল এখন দাঁড়িয়ে আছে বৈপরীত্যের মুখে।
একদিকে ১৯৫৪ সালের ‘মিরাকল অব বার্ন’ কিংবা ২০১৪ সালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারানোর স্মৃতি, আর অন্যদিকে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের ক্ষত। এই দুই অবস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল। টানা ১৯ বারের মতো বিশ্বমঞ্চে নামার আগে জার্মান ফুটবল এখন পালাবদল ও রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বাছাইপর্বের শুরুটা জার্মানির জন্য মসৃণ ছিল না। ব্রাতিস্লাভায় স্লোভাকিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে ধাক্কা খাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ায় নাগেলসমানের দল। শেষ ম্যাচে সেই স্লোভাকদেরই ৬-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’র শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে তারা।
তবে এই টিকিট পাওয়ার লড়াই সহজ ছিল না, বরং ছিল চোটজর্জর এক দলের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। জামাল মুসিয়ালা, কাই হাভার্টজ, নিকলাস ফুলক্রুগ ও গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেনের মতো ফুটবলারদের ছাড়াই জার্মানিকে বাছাইপর্ব পার হতে হয়েছে। এই চোটের কারণে দলের গতি যেমন কমেছে, তেমনি কোচকেও বাধ্য করেছে বিকল্প পথ খুঁজতে।
২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের আগে দলের দায়িত্ব নেন নাগেলসমান। ক্লাব ফুটবলে ভিন্ন মেজাজের জন্য পরিচিত এই কোচ জাতীয় দলের ডাগআউটে এসে নিজের কৌশলে পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর অধীনে জার্মানি এখন মাঠের নিয়ন্ত্রণে এবং রক্ষণভাগে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
হান্সি ফ্লিকের আমলের পাসিং ফুটবল থেকে সরে এসে নাগেলসমান দলকে রক্ষণাত্মকভাবে শক্ত করেছেন, তবে কাউন্টার অ্যাটাকের চিরাচরিত জার্মান ধাঁচটি বজায় রেখেছেন। ইয়োশুয়া কিমিখ ও ডেভিড রাউমের মতো ফুলব্যাকরা যখন প্রান্ত ছেড়ে ভেতরের দিকে ঢুকে মিডফিল্ডারের ভূমিকায় খেলেন, তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি হয়।
এই ছকের মূল ভরসা হলেন জামাল মুসিয়ালা এবং ফ্লোরিয়ান ভাইর্টজ। দুই প্লেমেকারের ফর্মের ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বকাপে জার্মানির গতিপথ। তবে ক্লাব বিশ্বকাপে গোড়ালির চোটে পড়া মুসিয়ালা কত দ্রুত নিজের চেনা ছন্দে ফিরবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
হাভার্টজের চোটের কারণে টিম ক্লেইনডিন্স্ট বা নিক ভোল্টমেডদের মতো বিকল্পদের পরখ করতে হচ্ছে নাগেলসমানকে। সব মিলিয়ে, ২০২৫ নেশনস লিগের সেমিফাইনালে পর্তুগালের কাছে হার কিংবা বাছাইপর্বের কিছু পারফরম্যান্স জানান দিচ্ছে, জার্মানি এখনো স্বরূপে ফিরতে পারেনি।
কুরাসাও, আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডরকে নিয়ে গড়া ‘ই’ গ্রুপটি সহজ মনে হলেও, অতীত অভিজ্ঞতা বলছে জার্মানিকে সতর্ক থাকতে হবে। উত্তর আমেরিকার মাটিতে এই মিশন তাই জার্মানির জন্য শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং ফুটবলে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া জায়গা ফিরে পাওয়ার লড়াই।
.gif)
.gif)
































