পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা শুধু সোনার খনি, কোকো উৎপাদন কিংবা সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যই পরিচিত নয়; দেশটি তার বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্যও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ঘানার খাদ্যসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে স্থানীয় কৃষি, উপকূলীয় মাছ শিকার, ঐতিহ্যবাহী মসলা এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর রান্নার প্রভাবের সমন্বয়ে। এখানকার খাবারে কাসাভা, কাঁচকলা, ভুট্টা, চাল, শিম, চিনাবাদাম, সামুদ্রিক মাছ, আদা, রসুন ও মরিচের ব্যবহার খুবই সাধারণ।
ঘানার মানুষের কাছে খাবার শুধু ক্ষুধা নিবারণের উপায় নয়, বরং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক মাধ্যম। তাই কোনো ঘানাবাসীর বাড়িতে কিংবা রাস্তার ধারের খাবারের দোকানে বসে খাবার খাওয়া মানেই দেশটির সংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় লাভের সুযোগ।
ঘানায় ভ্রমণে গেলে কয়েকটি খাবার অবশ্যই চেখে দেখা উচিত। এগুলো শুধু জনপ্রিয়ই নয়, বরং দেশটির খাদ্য ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।

ফুফু ঘানার সবচেয়ে পরিচিত খাবারগুলোর একটি। কাসাভা ও কাঁচকলা সেদ্ধ করে বিশেষ কাঠের পাত্রে থেঁতলে মসৃণ মণ্ড তৈরি করা হয়। এই মণ্ডকে পরিবেশন করা হয় ঘন চিনাবাদামের স্যুপের সঙ্গে।
স্যুপে সাধারণত খাসি, গরু, মুরগির মাংস কিংবা মাছ ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ ঘানার বিভিন্ন অঞ্চলে এটি দৈনন্দিন খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক ঘানাবাসী মনে করেন, ফুফু না খেলে ঘানার আসল স্বাদই পাওয়া যায় না।
এটি পশ্চিম আফ্রিকার জনপ্রিয় খাবারগুলোর একটি। ঘানা, নাইজেরিয়া, সেনেগাল ও গাম্বিয়ার মধ্যে ‘সেরা জোলোফ কার’—এ নিয়ে দীর্ঘদিনের এক মজার বিতর্ক রয়েছে, যা ‘জোলোফ ওয়ার্স’ নামেও পরিচিত।
ঘানার জোলোফ রাইস তৈরি হয় টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে রান্না করা সুগন্ধি চালের মাধ্যমে। এর সঙ্গে ভাজা মুরগি, মাছ বা গরুর মাংস পরিবেশন করা হয়। রাজধানী আক্রা এবং ব্যাপকোস্টের অনেক রেস্তোরাঁয় চমৎকার জোলোফ রাইস পাওয়া যায়।

বাঁকু হলো গাঁজানো ভুট্টা ও কাসাভার মণ্ড দিয়ে তৈরি একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। এটি সাধারণত গ্রিল করা তেলাপিয়া মাছ এবং মরিচের ঝাল সসের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
ঘানার উপকূলীয় অঞ্চলে সন্ধ্যার পর সমুদ্রতীরবর্তী খাবারের দোকানগুলোতে এই খাবারের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ভোল্টা ও এলমিনা অঞ্চলে এর স্বাদ নেওয়ার আলাদা আনন্দ রয়েছে।
এটি মূলত নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের খাবার হলেও ঘানার খাদ্যসংস্কৃতিতে এটি এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়।
গরু, খাসি কিংবা মুরগির মাংস শিকে গেঁথে চিনাবাদামের গুঁড়া, মরিচ ও বিভিন্ন মসলা মাখিয়ে আগুনে গ্রিল করা হয়। এরপর পেঁয়াজ, টমেটো ও ঝাল সসের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। সন্ধ্যার পর আক্রার ব্যস্ত সড়কগুলোতে সুয়ার দোকানে ভিড় দেখা যায়।
এটি ঘানার জনপ্রিয় সকালের খাবার। চাল ও লাল শিম একসঙ্গে রান্না করে এটি তৈরি করা হয়।
খাবারটির সঙ্গে সাধারণত কাসাভার গুঁড়া, স্প্যাগেটি, সেদ্ধ ডিম, ভাজা কাঁচকলা, সালাদ, মাছ কিংবা মাংস পরিবেশন করা হয়। পুষ্টিকর ও পেটভরা এই খাবার কর্মজীবী মানুষের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়।
কেলেওয়েলে হলো আদা, রসুন, মরিচ ও অন্যান্য মসলা মাখিয়ে ভাজা কাঁচকলা। বাইরে মুচমুচে এবং ভেতরে নরম এই খাবার ঘানার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্ন্যাকসগুলোর একটি।
বিশেষ করে রাতের বাজারে কেলেওয়েলের দোকানগুলো জমজমাট থাকে। অনেক সময় এর সঙ্গে চিনাবাদামও পরিবেশন করা হয়।
ঘানার আরেকটি জনপ্রিয় খাবার হলো রেড রেড। এটি টমেটো ও পাম অয়েলে রান্না করা কালো শিমের তরকারি, যা ভাজা কাঁচকলার সঙ্গে খাওয়া হয়। নিরামিষভোজীদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাবার এবং পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ।
এটি গাঁজানো ভুট্টা দিয়ে তৈরি একধরনের মণ্ডজাতীয় খাবার। কেনকি সাধারণত ভাজা মাছ, মরিচের সস ও শুঁটকি দিয়ে তৈরি চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। উপকূলীয় অঞ্চলে কেনকি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
ঘানার স্ট্রিট ফুড সংস্কৃতি দেশটির সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিরাপদে খাবার উপভোগ করতে চাইলে এমন দোকান বেছে নিন, যেখানে ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে এবং খাবার দ্রুত বিক্রি হয়। এতে তাজা খাবার পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
পানের জন্য সব সময় বোতলজাত বা বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করা ভালো। এ ছাড়া মনে রাখতে হবে, ঘানার অনেক খাবারই বেশ ঝাল। তাই খাওয়ার আগে ঝালের মাত্রা সম্পর্কে জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ঘানা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোকো উৎপাদনকারী দেশ।
ঘানার অনেক খাবারে পাম অয়েল ব্যবহার করা হয়, যা খাবারে স্বতন্ত্র রং ও স্বাদ যোগ করে।
ঘানায় ভ্রমণ মানেই শুধু ঐতিহাসিক দুর্গ, সমুদ্রসৈকত কিংবা সাফারি দেখা নয়; বরং দেশটির রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলোতে বসে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের খাবারের স্বাদ নেওয়াও এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ঘানার খাবার আপনাকে যেমন নতুন স্বাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে, তেমনি পশ্চিম আফ্রিকার সংস্কৃতিকেও কাছ থেকে জানার সুযোগ করে দেবে।

আপনি কি কোনো ক্রিয়েটিভ পেশায় রয়েছেন? মানে বলতে চাইছি, সপ্তাহে এক দিন কি ক্যাজুয়াল লুকে হাজির হওয়ার অভ্যাস রয়েছে? তাহলে এই লেখা আপনার জন্যই। যতই ক্যাজুয়াল হোক, অফিসের সঙ্গে মানানসই এমন পোশাকই তো বেছে নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভালো সমাধান হতে পারে ডেনিম ম্যাক্সি স্কার্ট।
৪ ঘণ্টা আগে
ফুটবল ঘিরে মানুষের আবেগ কতটা গভীর হতে পারে, এর উত্তর জানতে হলে যেতে হবে আর্জেন্টিনার এক অভিনব প্রতিষ্ঠানে। নাম মারাদোনিয়ান চার্চ বা ইগলেসিয়া মারাদোনিয়ানা, যেখানে দেবতা মারাদোনা, ধর্ম ফুটবল। এটি এমন এক সাংস্কৃতিক ও প্রতীকী আন্দোলন, যেখানে কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো মারাদোনা শুধু এক মহান...
৮ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় দুটি পর্যটন দেশ ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড। এই দেশ দুটি আঞ্চলিক বিমান চলাচল হাব হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ক্রমবর্ধমান যাত্রী এবং কার্গো পরিবহনের চাপ সামলাতে দুই দেশই তাদের বিমানবন্দর অবকাঠামো ঢেলে সাজাতে বিপুল বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা হাতে...
১ দিন আগে
মানুষ জ্বর না হলেও যে ‘জ্বরে কাঁপে’, তার নাম বিশ্বকাপ ফুটবল। খুব সম্ভবত, পৃথিবীর সবচেয়ে গোমড়া মুখের মানুষটির মনেও কখনো কখনো দোলা দিয়ে যায় বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। যাঁরা মাঠে খেলা দেখার সুযোগ পাননি, কিংবা খেলাটির প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ না থাকলেও ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ আছে, বিশ্বকাপের...
১ দিন আগে