আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাঁরা এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন, তাঁদের কাছে ব্যাপারটা নিশ্চয়ই অন্য রকম উচ্ছ্বাসের। ব্যালট পেপার দেখতে কেমন; এই কাগজে যে ছাপ্পর দিতে হয়, সেই সিলটা কেমন কিংবা ভোটদান শেষে আঙুলে কালির দাগ দিয়ে দিলে কেমন হবে প্রথম ভোট দেওয়ার অনুভূতি—সবকিছুই একজন নব্য ভোটারের জন্য অজানা। এ কথা অপ্রমাণিত নয় যে বিগত কয়েকবার ভোট দিতে পারেননি দেশের অনেক ভোটার। অনেকেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছেন তাঁদের নামে ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। তবে নতুন বা পুরোনো হোক, সব ভোটারের প্রত্যাশা—এবার অন্তত নিজের ভোট নিজে দেওয়া যাবে। কিন্তু লক্ষ্মীপুরে সম্প্রতি যা হলো, তা বিবেচনা করলে মনে প্রশ্ন উঁকি দেয়—আবারও ভোটারদের হতাশ হতে হবে কি?
কী হলো সেখানে? ৫ ফেব্রুয়ারি আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত এক খবর থেকে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে বানানো হয়েছে ভোটের ছয়টি সিল। হ্যাঁ, যে সিল দিয়ে ভোটাররা ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁদের পছন্দের প্রতীকে ছাপ দেবেন। কিন্তু অবৈধভাবে যে সিলগুলো বানানো হলো, সেগুলো দিয়ে নিশ্চয়ই সাধারণ কোনো ভোটার ভোট দিতে পারবেন না। এটা পরিষ্কার যে ‘অসাধারণ’ কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের কর্মী নিজেদের মসনদে দেখতে অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারবেন!
যিনি সিল ছয়টি প্রস্তুত করেছেন, তিনি ধরা পড়েছেন পুলিশের হাতে। ‘আধুনিক অফসেট অ্যান্ড ডিজিটাল সাইন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি, নাম সোহেল রানা। লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন শরীফ তাঁকে সিল গড়িয়ে দেওয়ার ফরমাশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গোপন খবর পেয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ সিলসহ সোহেলকে আটক করে। কিন্তু সিলের ফরমাশকারী নিজেই লাপাত্তা!
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি অভিযোগের তির সরাসরি জামায়াতের বিরুদ্ধে ছুড়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, জাল ভোটসহ জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্র করার লক্ষ্যে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে সিল তৈরি করিয়েছে। এদিকে একই আসনের জামায়াত প্রার্থী রেজাউল করিম দাবি করেন, সোহেল জামায়াতের কেউ নন! আবার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেছেন, তাঁরা সিলগুলো জব্দের পরপরই শরীফকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন।
ভোটের ময়দানে এমন কাদা ছোড়াছুড়ি খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু অবৈধভাবে সিল প্রস্তুত করার ঘটনা মোটেও স্বাভাবিক নয়। যদি সত্যিই জামায়াত পরিকল্পিতভাবে সিল তৈরির এই ফরমাশ দিয়ে থাকে এবং ধরা পড়ার পর দায় এড়াতে শুধু তাদের কর্মীকে দলচ্যুত করে, তাহলে ব্যাপারটা হবে—রাজায় রাজায় যুদ্ধ, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত! অর্থাৎ, দলের জন্য বলি হতে হবে শরীফ ও সোহেলকে।
তবে এ কথা মিথ্যে নয় যে অবৈধভাবে সিল তৈরি হয়েছে। দলের পরিকল্পনা হোক বা না হোক, অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁদের এমন শাস্তি দিতে হবে যেন ভোটারদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার সাহস আর কখনো কারও না হয়।

নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। সব রাজনৈতিক দল এখন মাঠে। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা—কোথাও চলছে সভা, কোথাও কর্মসূচি, কোথাও ডিজিটাল প্রচার। এই নির্বাচনের মাঠে ক্ষমতাসীন দল আর বিরোধী দল বলে কিছু নেই। ক্ষমতাসীনেরা থাকলে তারা উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কথা বলত। বিপরীতে বিরোধীরা বলত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির কথা। এখন
১৪ ঘণ্টা আগে
১৯৬১ সালের ১৯ মে। সেদিন ভারতের আসামের বরাক উপত্যকায় মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় যে অভূতপূর্ব ও আত্মত্যাগের গাথা রচিত হয়েছিল, আজ তা বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য এবং চিরস্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৫২ সালের ঢাকার রক্তাক্ত ভাষা আন্দোলনের ঠিক ৯ বছর পর আসামের মাটিতে পুনরায় বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ।
১৪ ঘণ্টা আগে
একটি দেশের পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা মূলত নির্ভর করে সেই দেশের নীতিনির্ধারকদের দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক দর্শনের ওপর। রাজনীতি ও পরিবেশকে অনেকে আলাদা ফ্রেমে দেখতে চান, কিন্তু আদতে এ দুটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাষ্ট্রের উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো নির্মাণ ও শিল্পায়ন নীতি সরাসরি প্রকৃত
১৪ ঘণ্টা আগে
কত কিছুই না ঘটছে চারপাশে! চাঁদাবাজি-হাদিয়ার আক্রমণে জনগণ যখন দিশেহারা, তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারার চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ। সে রকমই একটা কাণ্ড ঘটেছে রাজশাহীতে। সুকৌশলে দখলদারির এমন নমুনা আগেও হয়তো দেখা গেছে, কিন্তু এ সংস্কৃতির কি কোনোই পরিবর্তন হবে না?
২ দিন আগে