সম্পাদকীয়

কত কিছুই না ঘটছে চারপাশে! চাঁদাবাজি-হাদিয়ার আক্রমণে জনগণ যখন দিশেহারা, তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারার চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ। সে রকমই একটা কাণ্ড ঘটেছে রাজশাহীতে। সুকৌশলে দখলদারির এমন নমুনা আগেও হয়তো দেখা গেছে, কিন্তু এ সংস্কৃতির কি কোনোই পরিবর্তন হবে না?
দখলদার দুজনের নামগুলো দেখুন: একজন সরকার জিয়াউর রহমান, অন্যজন জিয়াউর রহমান। তাঁরা দুজনেই কোনো না কোনোভাবে বিএনপির রাজনীতি করেন বলে দাবি করেছেন। সরকার জিয়াউর রহমান রাজশাহী নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শাহমখদুম থানা বিএনপির সদস্য ছিলেন। অন্য জিয়াউর রহমানও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। যাঁর বাড়িটি দখল করা হচ্ছিল, তিনিও বিএনপির একজন নেতা। যাঁরা বাড়িটি দখলমুক্ত করেছেন, তাঁরাও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মানে, ‘আমরা আর মামুরা’ রাজনীতির এক চরম প্রকাশ বটে!
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর অনেকেই ভেবে বসেছিলেন বিএনপির জন্য ক্ষমতায় আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। অন্তর্বর্তী সরকার খুব দ্রুত নির্বাচন দেয়নি। কালক্ষেপণ করার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির মাঠে এসেছে নানা পরিবর্তন। একসময় মনে হয়েছিল, রাজনীতিতে মাইনাস টু ফর্মুলার মতো কোনো ঘটনা ঘটছে কি না। অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত নানা ধরনের সংবাদ খোলাসা হওয়া শুরু করলে সাধারণ জনমনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়। এ রকম জটিল এক রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই অনেকে নিজেদের প্রভাববলয় বিস্তার করার নানা চেষ্টা করেছে। তারই একটি ঘটনা হলো রাজশাহীর এই দখলদারি।
দুই জিয়াউর রহমান ফন্দিটা এঁটেছিলেন ভালোই। ‘জিয়াউর রহমান’ নামটাই হয়তো তাঁদের শরীরে শক্তি দিয়েছিল। তাই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে ভাড়া নিয়ে তাঁরা এই বাড়িতে সাইনবোর্ড আর ব্যানার টানান ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি—বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামের এক সংগঠনের। ভাবা যায়! জিয়া, খালেদা জিয়া—নামগুলোই তো স্থানীয় মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং ভাড়া না দিয়ে দখলের চেষ্টা চলতেই থাকে। বাড়ির মালিকের সন্তান যখন একটি ফেসবুক পোস্টে এই দখলদারির ব্যাপার জানিয়ে একটি পোস্ট দেন, তখনই টনক নড়ে জেলা বিএনপি নেতাদের। বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান মিনু তাঁর কর্মীদের নিয়ে এসে সাইনবোর্ড আর ব্যানার সরিয়ে ফেলেন এবং এই প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্ছেদ করেন।
সরকার জিয়াউর রহমান অবশ্য নিজের পিঠ বাঁচিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন, যা ধর্তব্যের মধ্যে নয়। প্রশ্ন হলো, ক্ষমতার গন্ধ পেতেই একশ্রেণির লোক তার অপব্যবহার শুরু করে দিলে তাদের ঠেকাবে কে? কোনো সংগঠন যদি তার নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না রাখতে পারে, তবে সমূহ বিপদ। রাজশাহী নগরের উপশহর এলাকার এই বাড়িটি না হয় একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে রেহাই পেল, কিন্তু দখলদারেরা যদি শক্তিশালী হতো, তাহলে কি তাদের উচ্ছেদ করা এত সহজ হতো?
দখলদারত্বের রাজনীতির প্রতি জিরো টলারেন্সই কেবল এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু সে মুক্তির দেখা পাবে কি এই দেশটা?

কত কিছুই না ঘটছে চারপাশে! চাঁদাবাজি-হাদিয়ার আক্রমণে জনগণ যখন দিশেহারা, তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারার চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ। সে রকমই একটা কাণ্ড ঘটেছে রাজশাহীতে। সুকৌশলে দখলদারির এমন নমুনা আগেও হয়তো দেখা গেছে, কিন্তু এ সংস্কৃতির কি কোনোই পরিবর্তন হবে না?
দখলদার দুজনের নামগুলো দেখুন: একজন সরকার জিয়াউর রহমান, অন্যজন জিয়াউর রহমান। তাঁরা দুজনেই কোনো না কোনোভাবে বিএনপির রাজনীতি করেন বলে দাবি করেছেন। সরকার জিয়াউর রহমান রাজশাহী নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শাহমখদুম থানা বিএনপির সদস্য ছিলেন। অন্য জিয়াউর রহমানও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। যাঁর বাড়িটি দখল করা হচ্ছিল, তিনিও বিএনপির একজন নেতা। যাঁরা বাড়িটি দখলমুক্ত করেছেন, তাঁরাও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মানে, ‘আমরা আর মামুরা’ রাজনীতির এক চরম প্রকাশ বটে!
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর অনেকেই ভেবে বসেছিলেন বিএনপির জন্য ক্ষমতায় আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। অন্তর্বর্তী সরকার খুব দ্রুত নির্বাচন দেয়নি। কালক্ষেপণ করার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির মাঠে এসেছে নানা পরিবর্তন। একসময় মনে হয়েছিল, রাজনীতিতে মাইনাস টু ফর্মুলার মতো কোনো ঘটনা ঘটছে কি না। অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত নানা ধরনের সংবাদ খোলাসা হওয়া শুরু করলে সাধারণ জনমনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়। এ রকম জটিল এক রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই অনেকে নিজেদের প্রভাববলয় বিস্তার করার নানা চেষ্টা করেছে। তারই একটি ঘটনা হলো রাজশাহীর এই দখলদারি।
দুই জিয়াউর রহমান ফন্দিটা এঁটেছিলেন ভালোই। ‘জিয়াউর রহমান’ নামটাই হয়তো তাঁদের শরীরে শক্তি দিয়েছিল। তাই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে ভাড়া নিয়ে তাঁরা এই বাড়িতে সাইনবোর্ড আর ব্যানার টানান ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি—বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামের এক সংগঠনের। ভাবা যায়! জিয়া, খালেদা জিয়া—নামগুলোই তো স্থানীয় মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং ভাড়া না দিয়ে দখলের চেষ্টা চলতেই থাকে। বাড়ির মালিকের সন্তান যখন একটি ফেসবুক পোস্টে এই দখলদারির ব্যাপার জানিয়ে একটি পোস্ট দেন, তখনই টনক নড়ে জেলা বিএনপি নেতাদের। বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান মিনু তাঁর কর্মীদের নিয়ে এসে সাইনবোর্ড আর ব্যানার সরিয়ে ফেলেন এবং এই প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্ছেদ করেন।
সরকার জিয়াউর রহমান অবশ্য নিজের পিঠ বাঁচিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন, যা ধর্তব্যের মধ্যে নয়। প্রশ্ন হলো, ক্ষমতার গন্ধ পেতেই একশ্রেণির লোক তার অপব্যবহার শুরু করে দিলে তাদের ঠেকাবে কে? কোনো সংগঠন যদি তার নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না রাখতে পারে, তবে সমূহ বিপদ। রাজশাহী নগরের উপশহর এলাকার এই বাড়িটি না হয় একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে রেহাই পেল, কিন্তু দখলদারেরা যদি শক্তিশালী হতো, তাহলে কি তাদের উচ্ছেদ করা এত সহজ হতো?
দখলদারত্বের রাজনীতির প্রতি জিরো টলারেন্সই কেবল এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু সে মুক্তির দেখা পাবে কি এই দেশটা?
সম্পাদকীয়

কত কিছুই না ঘটছে চারপাশে! চাঁদাবাজি-হাদিয়ার আক্রমণে জনগণ যখন দিশেহারা, তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারার চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ। সে রকমই একটা কাণ্ড ঘটেছে রাজশাহীতে। সুকৌশলে দখলদারির এমন নমুনা আগেও হয়তো দেখা গেছে, কিন্তু এ সংস্কৃতির কি কোনোই পরিবর্তন হবে না?
দখলদার দুজনের নামগুলো দেখুন: একজন সরকার জিয়াউর রহমান, অন্যজন জিয়াউর রহমান। তাঁরা দুজনেই কোনো না কোনোভাবে বিএনপির রাজনীতি করেন বলে দাবি করেছেন। সরকার জিয়াউর রহমান রাজশাহী নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শাহমখদুম থানা বিএনপির সদস্য ছিলেন। অন্য জিয়াউর রহমানও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। যাঁর বাড়িটি দখল করা হচ্ছিল, তিনিও বিএনপির একজন নেতা। যাঁরা বাড়িটি দখলমুক্ত করেছেন, তাঁরাও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মানে, ‘আমরা আর মামুরা’ রাজনীতির এক চরম প্রকাশ বটে!
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর অনেকেই ভেবে বসেছিলেন বিএনপির জন্য ক্ষমতায় আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। অন্তর্বর্তী সরকার খুব দ্রুত নির্বাচন দেয়নি। কালক্ষেপণ করার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির মাঠে এসেছে নানা পরিবর্তন। একসময় মনে হয়েছিল, রাজনীতিতে মাইনাস টু ফর্মুলার মতো কোনো ঘটনা ঘটছে কি না। অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত নানা ধরনের সংবাদ খোলাসা হওয়া শুরু করলে সাধারণ জনমনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়। এ রকম জটিল এক রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই অনেকে নিজেদের প্রভাববলয় বিস্তার করার নানা চেষ্টা করেছে। তারই একটি ঘটনা হলো রাজশাহীর এই দখলদারি।
দুই জিয়াউর রহমান ফন্দিটা এঁটেছিলেন ভালোই। ‘জিয়াউর রহমান’ নামটাই হয়তো তাঁদের শরীরে শক্তি দিয়েছিল। তাই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে ভাড়া নিয়ে তাঁরা এই বাড়িতে সাইনবোর্ড আর ব্যানার টানান ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি—বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামের এক সংগঠনের। ভাবা যায়! জিয়া, খালেদা জিয়া—নামগুলোই তো স্থানীয় মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং ভাড়া না দিয়ে দখলের চেষ্টা চলতেই থাকে। বাড়ির মালিকের সন্তান যখন একটি ফেসবুক পোস্টে এই দখলদারির ব্যাপার জানিয়ে একটি পোস্ট দেন, তখনই টনক নড়ে জেলা বিএনপি নেতাদের। বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান মিনু তাঁর কর্মীদের নিয়ে এসে সাইনবোর্ড আর ব্যানার সরিয়ে ফেলেন এবং এই প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্ছেদ করেন।
সরকার জিয়াউর রহমান অবশ্য নিজের পিঠ বাঁচিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন, যা ধর্তব্যের মধ্যে নয়। প্রশ্ন হলো, ক্ষমতার গন্ধ পেতেই একশ্রেণির লোক তার অপব্যবহার শুরু করে দিলে তাদের ঠেকাবে কে? কোনো সংগঠন যদি তার নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না রাখতে পারে, তবে সমূহ বিপদ। রাজশাহী নগরের উপশহর এলাকার এই বাড়িটি না হয় একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে রেহাই পেল, কিন্তু দখলদারেরা যদি শক্তিশালী হতো, তাহলে কি তাদের উচ্ছেদ করা এত সহজ হতো?
দখলদারত্বের রাজনীতির প্রতি জিরো টলারেন্সই কেবল এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু সে মুক্তির দেখা পাবে কি এই দেশটা?

কত কিছুই না ঘটছে চারপাশে! চাঁদাবাজি-হাদিয়ার আক্রমণে জনগণ যখন দিশেহারা, তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারার চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ। সে রকমই একটা কাণ্ড ঘটেছে রাজশাহীতে। সুকৌশলে দখলদারির এমন নমুনা আগেও হয়তো দেখা গেছে, কিন্তু এ সংস্কৃতির কি কোনোই পরিবর্তন হবে না?
দখলদার দুজনের নামগুলো দেখুন: একজন সরকার জিয়াউর রহমান, অন্যজন জিয়াউর রহমান। তাঁরা দুজনেই কোনো না কোনোভাবে বিএনপির রাজনীতি করেন বলে দাবি করেছেন। সরকার জিয়াউর রহমান রাজশাহী নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শাহমখদুম থানা বিএনপির সদস্য ছিলেন। অন্য জিয়াউর রহমানও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। যাঁর বাড়িটি দখল করা হচ্ছিল, তিনিও বিএনপির একজন নেতা। যাঁরা বাড়িটি দখলমুক্ত করেছেন, তাঁরাও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মানে, ‘আমরা আর মামুরা’ রাজনীতির এক চরম প্রকাশ বটে!
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর অনেকেই ভেবে বসেছিলেন বিএনপির জন্য ক্ষমতায় আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। অন্তর্বর্তী সরকার খুব দ্রুত নির্বাচন দেয়নি। কালক্ষেপণ করার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির মাঠে এসেছে নানা পরিবর্তন। একসময় মনে হয়েছিল, রাজনীতিতে মাইনাস টু ফর্মুলার মতো কোনো ঘটনা ঘটছে কি না। অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত নানা ধরনের সংবাদ খোলাসা হওয়া শুরু করলে সাধারণ জনমনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়। এ রকম জটিল এক রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই অনেকে নিজেদের প্রভাববলয় বিস্তার করার নানা চেষ্টা করেছে। তারই একটি ঘটনা হলো রাজশাহীর এই দখলদারি।
দুই জিয়াউর রহমান ফন্দিটা এঁটেছিলেন ভালোই। ‘জিয়াউর রহমান’ নামটাই হয়তো তাঁদের শরীরে শক্তি দিয়েছিল। তাই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে ভাড়া নিয়ে তাঁরা এই বাড়িতে সাইনবোর্ড আর ব্যানার টানান ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি—বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামের এক সংগঠনের। ভাবা যায়! জিয়া, খালেদা জিয়া—নামগুলোই তো স্থানীয় মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং ভাড়া না দিয়ে দখলের চেষ্টা চলতেই থাকে। বাড়ির মালিকের সন্তান যখন একটি ফেসবুক পোস্টে এই দখলদারির ব্যাপার জানিয়ে একটি পোস্ট দেন, তখনই টনক নড়ে জেলা বিএনপি নেতাদের। বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান মিনু তাঁর কর্মীদের নিয়ে এসে সাইনবোর্ড আর ব্যানার সরিয়ে ফেলেন এবং এই প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্ছেদ করেন।
সরকার জিয়াউর রহমান অবশ্য নিজের পিঠ বাঁচিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন, যা ধর্তব্যের মধ্যে নয়। প্রশ্ন হলো, ক্ষমতার গন্ধ পেতেই একশ্রেণির লোক তার অপব্যবহার শুরু করে দিলে তাদের ঠেকাবে কে? কোনো সংগঠন যদি তার নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না রাখতে পারে, তবে সমূহ বিপদ। রাজশাহী নগরের উপশহর এলাকার এই বাড়িটি না হয় একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে রেহাই পেল, কিন্তু দখলদারেরা যদি শক্তিশালী হতো, তাহলে কি তাদের উচ্ছেদ করা এত সহজ হতো?
দখলদারত্বের রাজনীতির প্রতি জিরো টলারেন্সই কেবল এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু সে মুক্তির দেখা পাবে কি এই দেশটা?

বিশ্বজুড়ে এখন ভূমিকম্প চলছে। সেই ভূমিকম্পের উৎস যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত এক ব্যক্তি। এমন ভূমিকম্পে এর আগেও একাধিকবার কেঁপে উঠেছে বিশ্ব। প্রথমবার ভূমিকম্পটা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের কারণে। তবে সেই ভূমিকম্প ভয়ানকভাবে বিশ্বটাকে নাড়িয়ে দেয় ২০১০ সালে ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন নথি ফাঁস করে।
৪ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের অন্তহীন রক্তক্ষয় ও বারুদের গন্ধমাখা বাতাসের গভীরের রাজনীতিকে, নিও-রিয়ালিজম বা নব্য-বাস্তববাদ বা কাঠামোগত বাস্তববাদের আয়নায় দেখলে এক রূঢ় ও নির্মম সত্যের মুখোমুখি হতে হয়। কেনেথ ওয়াল্টজ মনে করতেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি কোনো আবেগের জায়গা নয়, বরং এটি নিরেট কাঠামো বা সিস্টেমের খেলা।
৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এমন পর্যায়ে যে যুদ্ধের আগুন লেগে যাওয়ার জন্য একটি স্ফুলিঙ্গ দরকার মাত্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী অভূতপূর্ব রকম সমরশক্তি জড়ো করেছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনের ‘গানবোট ডিপ্লোমেসির’ ওপর নির্ভরতা যুদ্ধের ঝুঁকি স্পষ্টতই বাড়িয়ে দিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ২১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, চীনের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বাংলাদেশকে বোঝাবেন। তদুপরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ যাতে বাড়তি অস্ত্র ক্রয় করে এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক...
২ দিন আগেএপস্টেইন ফাইলস
রাজিউল হাসান

বিশ্বজুড়ে এখন ভূমিকম্প চলছে। সেই ভূমিকম্পের উৎস যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত এক ব্যক্তি। এমন ভূমিকম্পে এর আগেও একাধিকবার কেঁপে উঠেছে বিশ্ব। প্রথমবার ভূমিকম্পটা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের কারণে। তবে সেই ভূমিকম্প ভয়ানকভাবে বিশ্বটাকে নাড়িয়ে দেয় ২০১০ সালে ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন নথি ফাঁস করে। এর পরের ভূমিকম্পটা আঘাত হানে ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল, পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারি নামে।
এই দুই ভূমিকম্পের পরাঘাত আজও অনুভূত হয়। এর মধ্যেই নতুন করে এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, এপস্টেইনের নথিপত্র প্রকাশ নামে। বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়া আগের দুই ঘটনার সঙ্গে এবারের ঘটনার অবশ্য বড় পার্থক্য আছে। প্রথম ঘটনায় জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের হাত ধরে উইকিলিকস মার্কিন কর্তৃপক্ষের লুকিয়ে রাখা তথ্য ফাঁস করেছে। দ্বিতীয় ঘটনায় ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) ও শতাধিক সংবাদমাধ্যম একযোগে বিশ্বজুড়ে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির আর্থিক কেলেঙ্কারি প্রকাশ করেছে। আর এবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নির্দেশে নথিগুলো প্রকাশ করেছে খোদ মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এপস্টেইনের নথিপত্র প্রকাশের ঘটনায় আমরা এখন জানতে পেরেছি ক্ষমতার জন্য মানুষ কী করতে পারে! পুরো দুনিয়ার ক্ষমতাধরদের দালাল হয়ে ওঠা একজন ব্যক্তি কীভাবে বিভিন্ন দেশের শাসনব্যবস্থায় প্রভাব রাখতে পারেন, সেই সুযোগে তিনি কীভাবে যৌন কেলেঙ্কারি করতে পারেন, কীভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে যৌনতার জন্য শিশু পাচার করতে পারেন। সেই কাজটি তিনি করেছেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার চর্চা সমুন্নত রাখতে দুনিয়াজুড়ে প্রচার চালানো খোদ যুক্তরাষ্ট্রে বসে। এটা ঠিক যেন আলোকিত পৃথিবীর এক অন্ধকার দিক।
জেফরি এপস্টেইন ছিলেন যৌন সহিংসতার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত একজন আসামি। ২০০৮ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একধরনের বোঝাপড়ায় গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের মামলার হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকার যদি তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিত, তাহলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারত। কিন্তু আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফারফা করে তিনি ১৮ মাসের জন্য কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। সেই কারাদণ্ডেও তিনি সপ্তাহে ছয় দিন ১২ ঘণ্টার জন্য অফিস করার সুযোগ পেতেন। এভাবে ১৩ মাস কাটার পর এপস্টেইনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এই লোকদেখানো কারাদণ্ড এপস্টেইনকে শোধরাতে পারেনি। বরং তাঁকে আরও বেপরোয়া করে তোলে। ফলস্বরূপ ২০১৯ সালে তিনি আবার গ্রেপ্তার হন। এবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যৌনতার জন্য শিশু পাচার। এ দফায় আর রেহাই পাবেন না অনুধাবন করেই হয়তো ওই বছরই ম্যানহাটানের কারাগারে আত্মহত্যা করেন এপস্টেইন।
এপস্টেইনসংশ্লিষ্ট নথিগুলো প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বহুদিন ধরে বিতর্ক চলছে। অবশেষে আদালতের নির্দেশে নথিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। এর পর থেকে মূলধারার সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যক্তিগত পরিসরসহ সব জায়গায় এ নিয়েই আলোচনা চলছে। এসব নথিপত্রে কার নাম আসেনি, সেটাই যেন এক গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ধনকুবের ইলন মাস্ক, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—সবার নামই যেন আছে এসব নথিতে।
অবশ্য এপস্টেইন নথিতে নাম থাকা মানেই যে তিনিও শিশু পাচার কিংবা যৌন সহিংসতার অপরাধে অপরাধী, তা কিন্তু নয়। আবার সবাই যে ধোয়া তুলসী পাতা, সেটাও নয়।
এপস্টেইন ফাইলের ঘটনাগুলো কিংবা সেখানে স্পষ্ট হওয়া শিশুর প্রতি চরম নিষ্ঠুরতা বা নৃশংসতা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। এসব বিষয় নিয়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এরই মধ্যে বহু প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে, আরও হবে। এই লেখার উদ্দেশ্য হলো দুনিয়াজুড়ে ক্ষমতাধরেরা কেন এমন একজন দাগি আসামিকে প্রশ্রয় দিলেন, তাঁকে ‘দালাল’ হিসেবে ব্যবহার করে মার্কিন প্রশাসনের বদান্যতা আদায়ের চেষ্টা করলেন, তার ওপর আলোকপাত করা।
এপস্টেইন কেমন মানুষ, তা সবারই জানা ছিল। এপস্টেইনসংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশ হলে কেন কোন রথী-মহারথীর নাম প্রকাশ হবে, তা-ও জানা ছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষের। আর এ কারণেই তারা এসব নথি প্রকাশ নিয়ে গড়িমসি করেছে, করেছে নানা টালবাহানা। কিন্তু আদালতের নির্দেশে শেষ অবধি সেগুলো প্রকাশ করতে হয়েছে। অবশ্য এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। বলা চলে, এপস্টেইনসংশ্লিষ্ট অর্ধেক নথিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। তাতেই পুরো দুনিয়া কেঁপে উঠেছে। বাকি অর্ধেক প্রকাশ হলে যে কী হবে, তা এখনো কল্পনা করা কঠিন।
আমরা যদি এপস্টেইনকে নিয়ে একটু পড়ালেখা করি, তাহলে বুঝতে পারব, তাঁর এমন দানব হয়ে ওঠার পেছনে মার্কিন শাসনযন্ত্রের ভেতরকার মানুষগুলোর সঙ্গে সখ্য বড় ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে যিনিই ক্ষমতায় আসুন না কেন, এপস্টেইনের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। এ কারণেই তাঁর সঙ্গে যেমন ডেমোক্র্যাট নেতা বিল ক্লিনটন, হিলারি ক্লিনটনদের সখ্য ছিল, একইভাবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও রয়েছে সখ্য। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্পর্কে নথিপত্রে যেটুকু এসেছে, তা নিয়ে আমরা একটু ভাবলেই বুঝতে পারি, এপস্টেইন আসলে মার্কিন প্রশাসনযন্ত্রে গেড়ে বসা একটি ‘অসুখ’ ছিলেন। সেই ‘অসুখের’ কাছেই ধরনা দিতে হতো বাকি বিশ্বকে। মোদিকে যেমন ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ভাই অনিল আম্বানির মাধ্যমে এপস্টেইনের কাছে ধরনা দিতে হয়েছে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে, একইভাবে দুনিয়ার অন্যদেরও নানা কারণে এপস্টেইনের কাছে ধরনা দিতে হয়েছে।
এ কারণেই এপস্টেইনকে আমরা ‘অসুখ’ বলছি। কারণ, তিনি মার্কিন প্রশাসনের নিয়োগ করা কেউ ছিলেন না। কিন্তু তিনি মার্কিন প্রশাসনের হয়ে দুনিয়াজুড়ে ‘দালালি’ করতেন। বিশ্বের সব ক্ষমতাধর নানা উদ্দেশ্যে এপস্টেইনের কাছে ধরনা দিতেন। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে এপস্টেইনও সেসব কাজ করে নিজের ফায়দা লুটতেন।
এপস্টেইনের এই নথিপত্র প্রকাশের ঘটনা আসলে আমাদের জন্য, মানবসভ্যতার জন্য একটি সতর্কবার্তা; ক্ষমতাধরদের চরিত্র, প্রকৃত চেহারা চেনার বড় সুযোগ। এপস্টেইনদের এপস্টেইন হয়ে ওঠা ঠেকাতে হলে বিশ্বজুড়েই শাসনব্যবস্থায় সংস্কার জরুরি। না হলে এক এপস্টেইনের বিদায় ঘটবে, অন্য কোনো নামে, অন্য কোনো চেহারায় আরেক এপস্টেইনের আবির্ভাব ঘটবে। এই এপস্টেইন শিশুদের ওপর যে নারকীয় অত্যাচার করেছে কিংবা অত্যাচারের সুযোগ করে দিয়েছে, তার বিচার হওয়াও জরুরি। অনেকে হয়তো বলবেন, এপস্টেইন তো মরেই গেছেন, বিচার হবে কীভাবে? মরণোত্তর বিচার হওয়া সম্ভব, এপস্টেইনের কেলেঙ্কারিগুলোর সঙ্গে জড়িত কিংবা প্রশ্রয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব। এখন দেখার বিষয় আইন ও বিচারব্যবস্থা কী করে!

বিশ্বজুড়ে এখন ভূমিকম্প চলছে। সেই ভূমিকম্পের উৎস যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত এক ব্যক্তি। এমন ভূমিকম্পে এর আগেও একাধিকবার কেঁপে উঠেছে বিশ্ব। প্রথমবার ভূমিকম্পটা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের কারণে। তবে সেই ভূমিকম্প ভয়ানকভাবে বিশ্বটাকে নাড়িয়ে দেয় ২০১০ সালে ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন নথি ফাঁস করে। এর পরের ভূমিকম্পটা আঘাত হানে ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল, পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারি নামে।
এই দুই ভূমিকম্পের পরাঘাত আজও অনুভূত হয়। এর মধ্যেই নতুন করে এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, এপস্টেইনের নথিপত্র প্রকাশ নামে। বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়া আগের দুই ঘটনার সঙ্গে এবারের ঘটনার অবশ্য বড় পার্থক্য আছে। প্রথম ঘটনায় জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের হাত ধরে উইকিলিকস মার্কিন কর্তৃপক্ষের লুকিয়ে রাখা তথ্য ফাঁস করেছে। দ্বিতীয় ঘটনায় ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) ও শতাধিক সংবাদমাধ্যম একযোগে বিশ্বজুড়ে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির আর্থিক কেলেঙ্কারি প্রকাশ করেছে। আর এবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নির্দেশে নথিগুলো প্রকাশ করেছে খোদ মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এপস্টেইনের নথিপত্র প্রকাশের ঘটনায় আমরা এখন জানতে পেরেছি ক্ষমতার জন্য মানুষ কী করতে পারে! পুরো দুনিয়ার ক্ষমতাধরদের দালাল হয়ে ওঠা একজন ব্যক্তি কীভাবে বিভিন্ন দেশের শাসনব্যবস্থায় প্রভাব রাখতে পারেন, সেই সুযোগে তিনি কীভাবে যৌন কেলেঙ্কারি করতে পারেন, কীভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে যৌনতার জন্য শিশু পাচার করতে পারেন। সেই কাজটি তিনি করেছেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার চর্চা সমুন্নত রাখতে দুনিয়াজুড়ে প্রচার চালানো খোদ যুক্তরাষ্ট্রে বসে। এটা ঠিক যেন আলোকিত পৃথিবীর এক অন্ধকার দিক।
জেফরি এপস্টেইন ছিলেন যৌন সহিংসতার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত একজন আসামি। ২০০৮ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একধরনের বোঝাপড়ায় গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের মামলার হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকার যদি তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিত, তাহলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারত। কিন্তু আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফারফা করে তিনি ১৮ মাসের জন্য কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। সেই কারাদণ্ডেও তিনি সপ্তাহে ছয় দিন ১২ ঘণ্টার জন্য অফিস করার সুযোগ পেতেন। এভাবে ১৩ মাস কাটার পর এপস্টেইনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এই লোকদেখানো কারাদণ্ড এপস্টেইনকে শোধরাতে পারেনি। বরং তাঁকে আরও বেপরোয়া করে তোলে। ফলস্বরূপ ২০১৯ সালে তিনি আবার গ্রেপ্তার হন। এবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যৌনতার জন্য শিশু পাচার। এ দফায় আর রেহাই পাবেন না অনুধাবন করেই হয়তো ওই বছরই ম্যানহাটানের কারাগারে আত্মহত্যা করেন এপস্টেইন।
এপস্টেইনসংশ্লিষ্ট নথিগুলো প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বহুদিন ধরে বিতর্ক চলছে। অবশেষে আদালতের নির্দেশে নথিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। এর পর থেকে মূলধারার সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যক্তিগত পরিসরসহ সব জায়গায় এ নিয়েই আলোচনা চলছে। এসব নথিপত্রে কার নাম আসেনি, সেটাই যেন এক গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ধনকুবের ইলন মাস্ক, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—সবার নামই যেন আছে এসব নথিতে।
অবশ্য এপস্টেইন নথিতে নাম থাকা মানেই যে তিনিও শিশু পাচার কিংবা যৌন সহিংসতার অপরাধে অপরাধী, তা কিন্তু নয়। আবার সবাই যে ধোয়া তুলসী পাতা, সেটাও নয়।
এপস্টেইন ফাইলের ঘটনাগুলো কিংবা সেখানে স্পষ্ট হওয়া শিশুর প্রতি চরম নিষ্ঠুরতা বা নৃশংসতা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। এসব বিষয় নিয়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এরই মধ্যে বহু প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে, আরও হবে। এই লেখার উদ্দেশ্য হলো দুনিয়াজুড়ে ক্ষমতাধরেরা কেন এমন একজন দাগি আসামিকে প্রশ্রয় দিলেন, তাঁকে ‘দালাল’ হিসেবে ব্যবহার করে মার্কিন প্রশাসনের বদান্যতা আদায়ের চেষ্টা করলেন, তার ওপর আলোকপাত করা।
এপস্টেইন কেমন মানুষ, তা সবারই জানা ছিল। এপস্টেইনসংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশ হলে কেন কোন রথী-মহারথীর নাম প্রকাশ হবে, তা-ও জানা ছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষের। আর এ কারণেই তারা এসব নথি প্রকাশ নিয়ে গড়িমসি করেছে, করেছে নানা টালবাহানা। কিন্তু আদালতের নির্দেশে শেষ অবধি সেগুলো প্রকাশ করতে হয়েছে। অবশ্য এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। বলা চলে, এপস্টেইনসংশ্লিষ্ট অর্ধেক নথিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। তাতেই পুরো দুনিয়া কেঁপে উঠেছে। বাকি অর্ধেক প্রকাশ হলে যে কী হবে, তা এখনো কল্পনা করা কঠিন।
আমরা যদি এপস্টেইনকে নিয়ে একটু পড়ালেখা করি, তাহলে বুঝতে পারব, তাঁর এমন দানব হয়ে ওঠার পেছনে মার্কিন শাসনযন্ত্রের ভেতরকার মানুষগুলোর সঙ্গে সখ্য বড় ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে যিনিই ক্ষমতায় আসুন না কেন, এপস্টেইনের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। এ কারণেই তাঁর সঙ্গে যেমন ডেমোক্র্যাট নেতা বিল ক্লিনটন, হিলারি ক্লিনটনদের সখ্য ছিল, একইভাবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও রয়েছে সখ্য। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্পর্কে নথিপত্রে যেটুকু এসেছে, তা নিয়ে আমরা একটু ভাবলেই বুঝতে পারি, এপস্টেইন আসলে মার্কিন প্রশাসনযন্ত্রে গেড়ে বসা একটি ‘অসুখ’ ছিলেন। সেই ‘অসুখের’ কাছেই ধরনা দিতে হতো বাকি বিশ্বকে। মোদিকে যেমন ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ভাই অনিল আম্বানির মাধ্যমে এপস্টেইনের কাছে ধরনা দিতে হয়েছে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে, একইভাবে দুনিয়ার অন্যদেরও নানা কারণে এপস্টেইনের কাছে ধরনা দিতে হয়েছে।
এ কারণেই এপস্টেইনকে আমরা ‘অসুখ’ বলছি। কারণ, তিনি মার্কিন প্রশাসনের নিয়োগ করা কেউ ছিলেন না। কিন্তু তিনি মার্কিন প্রশাসনের হয়ে দুনিয়াজুড়ে ‘দালালি’ করতেন। বিশ্বের সব ক্ষমতাধর নানা উদ্দেশ্যে এপস্টেইনের কাছে ধরনা দিতেন। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে এপস্টেইনও সেসব কাজ করে নিজের ফায়দা লুটতেন।
এপস্টেইনের এই নথিপত্র প্রকাশের ঘটনা আসলে আমাদের জন্য, মানবসভ্যতার জন্য একটি সতর্কবার্তা; ক্ষমতাধরদের চরিত্র, প্রকৃত চেহারা চেনার বড় সুযোগ। এপস্টেইনদের এপস্টেইন হয়ে ওঠা ঠেকাতে হলে বিশ্বজুড়েই শাসনব্যবস্থায় সংস্কার জরুরি। না হলে এক এপস্টেইনের বিদায় ঘটবে, অন্য কোনো নামে, অন্য কোনো চেহারায় আরেক এপস্টেইনের আবির্ভাব ঘটবে। এই এপস্টেইন শিশুদের ওপর যে নারকীয় অত্যাচার করেছে কিংবা অত্যাচারের সুযোগ করে দিয়েছে, তার বিচার হওয়াও জরুরি। অনেকে হয়তো বলবেন, এপস্টেইন তো মরেই গেছেন, বিচার হবে কীভাবে? মরণোত্তর বিচার হওয়া সম্ভব, এপস্টেইনের কেলেঙ্কারিগুলোর সঙ্গে জড়িত কিংবা প্রশ্রয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব। এখন দেখার বিষয় আইন ও বিচারব্যবস্থা কী করে!

কত কিছুই না ঘটছে চারপাশে! চাঁদাবাজি-হাদিয়ার আক্রমণে জনগণ যখন দিশেহারা, তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারার চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ। সে রকমই একটা কাণ্ড ঘটেছে রাজশাহীতে। সুকৌশলে দখলদারির এমন নমুনা আগেও হয়তো দেখা গেছে, কিন্তু এ সংস্কৃতির কি কোনোই পরিবর্তন হবে না?
৪ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের অন্তহীন রক্তক্ষয় ও বারুদের গন্ধমাখা বাতাসের গভীরের রাজনীতিকে, নিও-রিয়ালিজম বা নব্য-বাস্তববাদ বা কাঠামোগত বাস্তববাদের আয়নায় দেখলে এক রূঢ় ও নির্মম সত্যের মুখোমুখি হতে হয়। কেনেথ ওয়াল্টজ মনে করতেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি কোনো আবেগের জায়গা নয়, বরং এটি নিরেট কাঠামো বা সিস্টেমের খেলা।
৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এমন পর্যায়ে যে যুদ্ধের আগুন লেগে যাওয়ার জন্য একটি স্ফুলিঙ্গ দরকার মাত্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী অভূতপূর্ব রকম সমরশক্তি জড়ো করেছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনের ‘গানবোট ডিপ্লোমেসির’ ওপর নির্ভরতা যুদ্ধের ঝুঁকি স্পষ্টতই বাড়িয়ে দিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ২১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, চীনের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বাংলাদেশকে বোঝাবেন। তদুপরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ যাতে বাড়তি অস্ত্র ক্রয় করে এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক...
২ দিন আগেআব্দুর রহমান

মধ্যপ্রাচ্যের অন্তহীন রক্তক্ষয় ও বারুদের গন্ধমাখা বাতাসের গভীরের রাজনীতিকে, নিও-রিয়ালিজম বা নব্য-বাস্তববাদ বা কাঠামোগত বাস্তববাদের আয়নায় দেখলে এক রূঢ় ও নির্মম সত্যের মুখোমুখি হতে হয়। কেনেথ ওয়াল্টজ মনে করতেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি কোনো আবেগের জায়গা নয়, বরং এটি নিরেট কাঠামো বা সিস্টেমের খেলা।
মধ্যপ্রাচ্য কেন শান্ত হচ্ছে না, তার উত্তর লুকিয়ে আছে এই অঞ্চলের ‘এনার্কিক বা নৈরাজ্যকর’ চরিত্রের মধ্যে। এই ‘নৈরাজ্য’ মানে বিশৃঙ্খলা নয়, বরং এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে দেশগুলোর কোনো অভিভাবক নেই। ফলে প্রতিটি রাষ্ট্রকেই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেত সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হয়।
নিও-রিয়ালিজমের জনক কেনেথ ওয়াল্টজের থিওরি অব ইন্টারন্যাশনাল পলিটিকস দেখায়, রাষ্ট্রগুলো আসলে এই কাঠামোর হাতের পুতুল। ইসরায়েল যখন গাজা কিংবা লেবাননে হামলা করে, কিংবা ইরান যখন প্রভাববলয় বাড়াতে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে জ্বালানি ও অস্ত্রের জোগান দেয়, তখন তারা আসলে কেউই এককভাবে দোষী বা নির্দোষ হয় না; তারা কেবল টিকে থাকার এক আদিম ও কাঠামোগত লড়াইয়ে লিপ্ত।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গটি কেবল মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং এটি ‘রাষ্ট্রহীন এক জনগোষ্ঠীর’ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, যারা এই কাঠামোগত যুদ্ধে প্রতিনিয়ত পিষ্ট হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবি এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যের সমীকরণে এক বিশাল অস্থিরতা তৈরি করে রেখেছে। কারণ, তাদের প্রতি জনসমর্থন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর জন্য কৌশলগত হাতিয়ার বা ‘লিভারেজ’ হিসেবে কাজ করে।
এই ব্যবস্থার সবচেয়ে ট্র্যাজিক দিক হলো ‘সিকিউরিটি ডিলেমা বা নিরাপত্তা দ্বিধা।’ কোনো রাষ্ট্র যখন আত্মরক্ষার জন্য শক্তি বাড়ায়, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলো সেটাকে হুমকি হিসেবে দেখে। ফলে তারাও পাল্লা দিয়ে অস্ত্র কেনে বা জোট বাঁধে। আজকের মধ্যপ্রাচ্যে ঠিক এটাই ঘটছে। ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ইরানকে বাধ্য করছে পরমাণু সক্ষমতা অর্জনের পথে হাঁটতে কিংবা হিজবুল্লাহর মতো শক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে।
এই অবিশ্বাসের দেয়াল ভাঙার কোনো সহজ উপায় নেই। কারণ, এখানে বিশ্বাস নয়, ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ বা ‘ব্যালেন্স অব পাওয়ারই’ শেষ কথা। আগের দিনগুলোতে এই ভারসাম্য কিছুটা বজায় থাকলেও বর্তমানের একমেরু বা অসম মেরুকরণ অঞ্চলকে আগ্নেয়গিরিতে পরিণত করেছ। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনের সরাসরি একপক্ষীয় অবস্থান এই ভারসাম্যকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। যখন কোনো পক্ষ অতিমাত্রায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তখন যুদ্ধের আশঙ্কা বহুগুণ বাড়ে। কারণ, দুর্বল পক্ষ তখন মরিয়া হয়ে ওঠে, আর শক্তিশালী পক্ষ হয় বেপরোয়া।
এরই মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রথাগত সংঘাতের পথ ছেড়ে নতুন ধরনের ‘ব্যালেন্সিং’ বা ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নিয়েছে। একে বলা হয় ‘ব্যান্ডওয়াগনিং’ বা শক্তিশালী পক্ষে ঝুঁকে পড়া। সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে, তখন তারা আসলে আদর্শের চেয়ে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তাকেই বড় করে দেখে। তাদের ভয় ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব। সুতরাং, ইরানকে মোকাবিলা করতে তারা ইসরায়েল ও আমেরিকার ছত্রচ্ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছে।
সৌদি আরবও এখন এই একই সমীকরণে দাঁড়িয়ে। তারা একদিকে ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান চায় নিজেদের জনমতের কথা ভেবে, অন্যদিকে বাস্তবতার আলোকে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। তাদের কাছে পানি ও তেলের রাজনীতির চেয়েও এখন বড় হয়ে উঠেছে অস্তিত্ব রক্ষা। এ কারণেই সৌদি আরব ক্রমাগত সামরিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
তুরস্কের বিষয়টি এই সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক একটি ‘রাইজিং পাওয়ার’ বা উদীয়মান শক্তি, যারা এই আঞ্চলিক নৈরাজ্যের মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তা এবং প্রভাব বজায় রাখতে একাধারে পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করছে।
নিও-রিয়ালিস্টিক অ্যাপ্রোচে, কোনো রাষ্ট্র যখন অস্তিত্বের হুমকি দেখে, তখন তারা কেবল নিজ শক্তির ওপর ভরসা করে না, বরং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ‘বাফার জোন’ তৈরি করতে চায়। তুরস্ক ঠিক এটিই করছে। একদিকে তারা ন্যাটোর সদস্য হিসেবে পশ্চিমা সামরিক কাঠামোর অংশ, অন্যদিকে সিরিয়া ও ইরাকে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তারা নিজের দক্ষিণ সীমান্তে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে রেখেছে।
ফিলিস্তিন প্রশ্নে তুরস্কের অবস্থান কেবল সহমর্মিতা নয়, বরং আরব বিশ্বের নেতৃত্ব দেওয়ার এবং নিজেদের নৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশলগত প্রয়াস। সৌদি আরব যখন একা বেড়ে ওঠার প্রচেষ্টায় এবং আরব আমিরাত যখন ইসরায়েলের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়েছে, তুরস্ক তখন সেই শূন্যস্থানে দাঁড়িয়ে নিজেকে মুসলিম বিশ্বের প্রধান অভিভাবক হিসেবে জাহির করতে চায়।
অতীতে আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক ছিল চরম বৈরী। কিন্তু বর্তমানের পরিবর্তিত বৈশ্বিক কাঠামোয় তা অনেকটাই স্তিমিত। তুরস্ক বুঝতে পেরেছে ইরান, সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান প্রভাব (যদিও ইরান ক্ষয়িষ্ণু) এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল নীতির মুখে টিকতে হলে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে শত্রুতা কমিয়ে আনাই বুদ্ধিমানের কাজ। ফলে তারা এখন আমিরাত ও সৌদির সঙ্গে বাণিজ্যিক ও সামরিক সহযোগিতার পথে হাঁটছে। ফিলিস্তিন বা সিরিয়া সংকটে তুরস্কের মধ্যস্থতাকারী হয়ে ওঠার চেষ্টা প্রমাণ করে তারা এই অঞ্চলে কেবল একটি দেশ নয়, বরং স্বতন্ত্র শক্তিকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়। তুরস্কের ড্রোনপ্রযুক্তি বা সামরিক সক্ষমতা আসলে সেই ‘ডিটারেন্স’ বা নিবৃত্তীকরণ তৈরি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভারসাম্যকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল দাবার ছকে তুরস্ক এখন এমন চাল দিচ্ছে, যেখানে তারা একই সঙ্গে রাশিয়া, আমেরিকা এবং আঞ্চলিক আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন-সংকটে তুরস্কের অবস্থান এবং কুর্দি বিদ্রোহীদের দমনে তাদের সামরিক অভিযান—সবই আসলে সেই কাঠামোগত বাধ্যবাধকতার অংশ।
ওয়াল্টজের দর্শনে শান্তির পথটি অত্যন্ত অদ্ভুত এবং অনেকের কাছেই হয়তো অনৈতিক মনে হতে পারে। তিনি তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘হোয়াই ইরান শুড গেট দ্য বোম্বে’ এক বিতর্কিত যুক্তি দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি তখনই আসবে যখন ক্ষমতার চূড়ান্ত ভারসাম্য তৈরি হবে। যদি ইসরায়েলের পাশাপাশি ইরানের হাতেও পরমাণু অস্ত্র থাকে, তবে দুই পক্ষই জানবে, যুদ্ধ মানেই পারস্পরিক নিশ্চিত বিনাশ। এই ভয়ই তাদের সংযত করবে। যে রক্তপাত আজ লেবানন বা গাজায় দেখা যাচ্ছে, তা আসলে কাঠামোগত অসামঞ্জস্যের ফল। বড় শক্তিগুলো এখানে কেবল দর্শক নয়, বরং তারা এই সিস্টেমের পরিচালক। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অঞ্চলের শক্তিসাম্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে এই আগুন কেবল স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যসহ ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানও ততক্ষণ মিলবে না, যতক্ষণ না আন্তর্জাতিক কাঠামোতে ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ রক্ষা করার মতো কোনো শক্তিশালী ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে।
সুতরাং মধ্যপ্রাচ্য সংকট মেটানোর পথটি কোনো অলৌকিক সমাধান নয়, বরং এক কঠিন ও দীর্ঘস্থায়ী শক্তির বিন্যাস। যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান, ইসরায়েল, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে ক্ষমতার একটি স্থির সমীকরণ তৈরি না হচ্ছে, ততক্ষণ এই অস্থিরতা চলতেই থাকবে। এই চক্র থেকে বেরোনোর একমাত্র উপায় হলো ক্ষমতার এক নিখুঁত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, যেখানে কোনো পক্ষই অন্যকে সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়ার দুঃসাহস দেখাবে না। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শান্তির পায়রা নয়, বরং ক্ষমতার ভারসাম্যের এক শীতল ও স্থির আবহওয়া দেখা গেলেই কেবল হয়তো এই রক্তপাত থামবে।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্তহীন রক্তক্ষয় ও বারুদের গন্ধমাখা বাতাসের গভীরের রাজনীতিকে, নিও-রিয়ালিজম বা নব্য-বাস্তববাদ বা কাঠামোগত বাস্তববাদের আয়নায় দেখলে এক রূঢ় ও নির্মম সত্যের মুখোমুখি হতে হয়। কেনেথ ওয়াল্টজ মনে করতেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি কোনো আবেগের জায়গা নয়, বরং এটি নিরেট কাঠামো বা সিস্টেমের খেলা।
মধ্যপ্রাচ্য কেন শান্ত হচ্ছে না, তার উত্তর লুকিয়ে আছে এই অঞ্চলের ‘এনার্কিক বা নৈরাজ্যকর’ চরিত্রের মধ্যে। এই ‘নৈরাজ্য’ মানে বিশৃঙ্খলা নয়, বরং এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে দেশগুলোর কোনো অভিভাবক নেই। ফলে প্রতিটি রাষ্ট্রকেই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেত সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হয়।
নিও-রিয়ালিজমের জনক কেনেথ ওয়াল্টজের থিওরি অব ইন্টারন্যাশনাল পলিটিকস দেখায়, রাষ্ট্রগুলো আসলে এই কাঠামোর হাতের পুতুল। ইসরায়েল যখন গাজা কিংবা লেবাননে হামলা করে, কিংবা ইরান যখন প্রভাববলয় বাড়াতে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে জ্বালানি ও অস্ত্রের জোগান দেয়, তখন তারা আসলে কেউই এককভাবে দোষী বা নির্দোষ হয় না; তারা কেবল টিকে থাকার এক আদিম ও কাঠামোগত লড়াইয়ে লিপ্ত।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গটি কেবল মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং এটি ‘রাষ্ট্রহীন এক জনগোষ্ঠীর’ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, যারা এই কাঠামোগত যুদ্ধে প্রতিনিয়ত পিষ্ট হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবি এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যের সমীকরণে এক বিশাল অস্থিরতা তৈরি করে রেখেছে। কারণ, তাদের প্রতি জনসমর্থন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর জন্য কৌশলগত হাতিয়ার বা ‘লিভারেজ’ হিসেবে কাজ করে।
এই ব্যবস্থার সবচেয়ে ট্র্যাজিক দিক হলো ‘সিকিউরিটি ডিলেমা বা নিরাপত্তা দ্বিধা।’ কোনো রাষ্ট্র যখন আত্মরক্ষার জন্য শক্তি বাড়ায়, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলো সেটাকে হুমকি হিসেবে দেখে। ফলে তারাও পাল্লা দিয়ে অস্ত্র কেনে বা জোট বাঁধে। আজকের মধ্যপ্রাচ্যে ঠিক এটাই ঘটছে। ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ইরানকে বাধ্য করছে পরমাণু সক্ষমতা অর্জনের পথে হাঁটতে কিংবা হিজবুল্লাহর মতো শক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে।
এই অবিশ্বাসের দেয়াল ভাঙার কোনো সহজ উপায় নেই। কারণ, এখানে বিশ্বাস নয়, ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ বা ‘ব্যালেন্স অব পাওয়ারই’ শেষ কথা। আগের দিনগুলোতে এই ভারসাম্য কিছুটা বজায় থাকলেও বর্তমানের একমেরু বা অসম মেরুকরণ অঞ্চলকে আগ্নেয়গিরিতে পরিণত করেছ। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনের সরাসরি একপক্ষীয় অবস্থান এই ভারসাম্যকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। যখন কোনো পক্ষ অতিমাত্রায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তখন যুদ্ধের আশঙ্কা বহুগুণ বাড়ে। কারণ, দুর্বল পক্ষ তখন মরিয়া হয়ে ওঠে, আর শক্তিশালী পক্ষ হয় বেপরোয়া।
এরই মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রথাগত সংঘাতের পথ ছেড়ে নতুন ধরনের ‘ব্যালেন্সিং’ বা ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নিয়েছে। একে বলা হয় ‘ব্যান্ডওয়াগনিং’ বা শক্তিশালী পক্ষে ঝুঁকে পড়া। সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে, তখন তারা আসলে আদর্শের চেয়ে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তাকেই বড় করে দেখে। তাদের ভয় ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব। সুতরাং, ইরানকে মোকাবিলা করতে তারা ইসরায়েল ও আমেরিকার ছত্রচ্ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছে।
সৌদি আরবও এখন এই একই সমীকরণে দাঁড়িয়ে। তারা একদিকে ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান চায় নিজেদের জনমতের কথা ভেবে, অন্যদিকে বাস্তবতার আলোকে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। তাদের কাছে পানি ও তেলের রাজনীতির চেয়েও এখন বড় হয়ে উঠেছে অস্তিত্ব রক্ষা। এ কারণেই সৌদি আরব ক্রমাগত সামরিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
তুরস্কের বিষয়টি এই সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক একটি ‘রাইজিং পাওয়ার’ বা উদীয়মান শক্তি, যারা এই আঞ্চলিক নৈরাজ্যের মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তা এবং প্রভাব বজায় রাখতে একাধারে পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করছে।
নিও-রিয়ালিস্টিক অ্যাপ্রোচে, কোনো রাষ্ট্র যখন অস্তিত্বের হুমকি দেখে, তখন তারা কেবল নিজ শক্তির ওপর ভরসা করে না, বরং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ‘বাফার জোন’ তৈরি করতে চায়। তুরস্ক ঠিক এটিই করছে। একদিকে তারা ন্যাটোর সদস্য হিসেবে পশ্চিমা সামরিক কাঠামোর অংশ, অন্যদিকে সিরিয়া ও ইরাকে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তারা নিজের দক্ষিণ সীমান্তে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে রেখেছে।
ফিলিস্তিন প্রশ্নে তুরস্কের অবস্থান কেবল সহমর্মিতা নয়, বরং আরব বিশ্বের নেতৃত্ব দেওয়ার এবং নিজেদের নৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশলগত প্রয়াস। সৌদি আরব যখন একা বেড়ে ওঠার প্রচেষ্টায় এবং আরব আমিরাত যখন ইসরায়েলের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়েছে, তুরস্ক তখন সেই শূন্যস্থানে দাঁড়িয়ে নিজেকে মুসলিম বিশ্বের প্রধান অভিভাবক হিসেবে জাহির করতে চায়।
অতীতে আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক ছিল চরম বৈরী। কিন্তু বর্তমানের পরিবর্তিত বৈশ্বিক কাঠামোয় তা অনেকটাই স্তিমিত। তুরস্ক বুঝতে পেরেছে ইরান, সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান প্রভাব (যদিও ইরান ক্ষয়িষ্ণু) এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল নীতির মুখে টিকতে হলে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে শত্রুতা কমিয়ে আনাই বুদ্ধিমানের কাজ। ফলে তারা এখন আমিরাত ও সৌদির সঙ্গে বাণিজ্যিক ও সামরিক সহযোগিতার পথে হাঁটছে। ফিলিস্তিন বা সিরিয়া সংকটে তুরস্কের মধ্যস্থতাকারী হয়ে ওঠার চেষ্টা প্রমাণ করে তারা এই অঞ্চলে কেবল একটি দেশ নয়, বরং স্বতন্ত্র শক্তিকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়। তুরস্কের ড্রোনপ্রযুক্তি বা সামরিক সক্ষমতা আসলে সেই ‘ডিটারেন্স’ বা নিবৃত্তীকরণ তৈরি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভারসাম্যকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল দাবার ছকে তুরস্ক এখন এমন চাল দিচ্ছে, যেখানে তারা একই সঙ্গে রাশিয়া, আমেরিকা এবং আঞ্চলিক আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন-সংকটে তুরস্কের অবস্থান এবং কুর্দি বিদ্রোহীদের দমনে তাদের সামরিক অভিযান—সবই আসলে সেই কাঠামোগত বাধ্যবাধকতার অংশ।
ওয়াল্টজের দর্শনে শান্তির পথটি অত্যন্ত অদ্ভুত এবং অনেকের কাছেই হয়তো অনৈতিক মনে হতে পারে। তিনি তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘হোয়াই ইরান শুড গেট দ্য বোম্বে’ এক বিতর্কিত যুক্তি দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি তখনই আসবে যখন ক্ষমতার চূড়ান্ত ভারসাম্য তৈরি হবে। যদি ইসরায়েলের পাশাপাশি ইরানের হাতেও পরমাণু অস্ত্র থাকে, তবে দুই পক্ষই জানবে, যুদ্ধ মানেই পারস্পরিক নিশ্চিত বিনাশ। এই ভয়ই তাদের সংযত করবে। যে রক্তপাত আজ লেবানন বা গাজায় দেখা যাচ্ছে, তা আসলে কাঠামোগত অসামঞ্জস্যের ফল। বড় শক্তিগুলো এখানে কেবল দর্শক নয়, বরং তারা এই সিস্টেমের পরিচালক। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অঞ্চলের শক্তিসাম্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে এই আগুন কেবল স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যসহ ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানও ততক্ষণ মিলবে না, যতক্ষণ না আন্তর্জাতিক কাঠামোতে ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ রক্ষা করার মতো কোনো শক্তিশালী ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে।
সুতরাং মধ্যপ্রাচ্য সংকট মেটানোর পথটি কোনো অলৌকিক সমাধান নয়, বরং এক কঠিন ও দীর্ঘস্থায়ী শক্তির বিন্যাস। যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান, ইসরায়েল, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে ক্ষমতার একটি স্থির সমীকরণ তৈরি না হচ্ছে, ততক্ষণ এই অস্থিরতা চলতেই থাকবে। এই চক্র থেকে বেরোনোর একমাত্র উপায় হলো ক্ষমতার এক নিখুঁত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, যেখানে কোনো পক্ষই অন্যকে সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়ার দুঃসাহস দেখাবে না। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শান্তির পায়রা নয়, বরং ক্ষমতার ভারসাম্যের এক শীতল ও স্থির আবহওয়া দেখা গেলেই কেবল হয়তো এই রক্তপাত থামবে।

কত কিছুই না ঘটছে চারপাশে! চাঁদাবাজি-হাদিয়ার আক্রমণে জনগণ যখন দিশেহারা, তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারার চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ। সে রকমই একটা কাণ্ড ঘটেছে রাজশাহীতে। সুকৌশলে দখলদারির এমন নমুনা আগেও হয়তো দেখা গেছে, কিন্তু এ সংস্কৃতির কি কোনোই পরিবর্তন হবে না?
৪ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে এখন ভূমিকম্প চলছে। সেই ভূমিকম্পের উৎস যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত এক ব্যক্তি। এমন ভূমিকম্পে এর আগেও একাধিকবার কেঁপে উঠেছে বিশ্ব। প্রথমবার ভূমিকম্পটা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের কারণে। তবে সেই ভূমিকম্প ভয়ানকভাবে বিশ্বটাকে নাড়িয়ে দেয় ২০১০ সালে ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন নথি ফাঁস করে।
৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এমন পর্যায়ে যে যুদ্ধের আগুন লেগে যাওয়ার জন্য একটি স্ফুলিঙ্গ দরকার মাত্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী অভূতপূর্ব রকম সমরশক্তি জড়ো করেছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনের ‘গানবোট ডিপ্লোমেসির’ ওপর নির্ভরতা যুদ্ধের ঝুঁকি স্পষ্টতই বাড়িয়ে দিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ২১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, চীনের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বাংলাদেশকে বোঝাবেন। তদুপরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ যাতে বাড়তি অস্ত্র ক্রয় করে এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক...
২ দিন আগেআলী আল গারেহ দাঘি

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এমন পর্যায়ে যে যুদ্ধের আগুন লেগে যাওয়ার জন্য একটি স্ফুলিঙ্গ দরকার মাত্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী অভূতপূর্ব রকম সমরশক্তি জড়ো করেছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনের ‘গানবোট ডিপ্লোমেসির’ ওপর নির্ভরতা যুদ্ধের ঝুঁকি স্পষ্টতই বাড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধের আগুন ইরান তথা গোটা অঞ্চলকে গ্রাস করবে, যার জন্য সুদূরপ্রসারী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মূল্য চোকাতে হতে পারে।
ইরানে গণবিক্ষোভের ওপর সাম্প্রতিক সরকারি দমনপীড়নের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে অপসারণের সময় এসেছে। এরপর ট্রাম্প সরকার মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, সহায়ক যুদ্ধবিমান এবং অতিরিক্ত থাড ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করার এই প্রস্তুতির মধ্যে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে পরবর্তী আক্রমণ গত বছরের জুনে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে চালানো হামলার চেয়ে অনেক ভয়াবহ হবে।
মার্কিন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, একটি পছন্দসই চুক্তির জন্য ইরানকে তার পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে হবে। একই সঙ্গে গুটিয়ে আনতে হবে তার আঞ্চলিক প্রভাববলয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তেহরানের মনে বরাবরই গভীর অবিশ্বাস রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এ ধরনের সর্বোচ্চ মাত্রার দাবি তোলা হলে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কমিশনের সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সেই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে চাপাচাপি করাকে তেহরান বিবেচনা করবে ‘লাল রেখা’ হিসেবে। এটি অতিক্রম না করাই ভালো হবে।
এর মানে অবশ্য এই নয় যে একটি স্থায়ী কূটনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছেই। তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মাত্রার এই দাবিকে তার শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তনের সম্ভাব্য হুমকি হিসেবেই ব্যাখ্যা করছে। ট্রাম্প নিজে এবং ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ‘যুদ্ধবাজ’ মনোভাবের নেতারা অনেকবারই তেহরানের শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটানো নিয়ে কথা বলেছেন। এই প্রেক্ষাপটে আরেকটি মার্কিন হামলাকে ইরানের জন্য ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবেই দেখা হবে। এ কারণে তারা আর সংযম দেখাতে উৎসাহিত বোধ না-ও করতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের প্রভাব মূলত নির্ভর করবে আক্রমণের ধরন, মাত্রা এবং লক্ষ্যবস্তুর ওপর। ট্রাম্প সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযানের পক্ষে। এর মধ্যে সম্ভবত থাকবে ইরানের নেতৃত্বের সক্ষমতা হ্রাস করা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সামরিক ঘাঁটি, আইআরজিসি নিয়ন্ত্রণাধীন আধা সামরিক বাহিনী বাসিজ ইউনিট এবং পুলিশ স্টেশনগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করার চেষ্টা থাকবে এর মধ্যে।
সামরিক উপায়ে শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়ার মার্কিন চেষ্টা নিঃসন্দেহে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে এবং আঞ্চলিকভাবে বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনবে। মার্কিন হামলা ইরানের ধর্মভিত্তিক শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূতকরণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি তা আইআরজিসি কর্তৃক দেশের পুরো ক্ষমতা দখল বা এমনকি অভ্যন্তরীণ সংঘাতের দিকেও নিয়ে যেতে পারে দেশটিকে। গত বছরের মতো আক্রমণ করা হলে জনগণ আবার সেভাবে জাতীয় পতাকা নিয়ে দেশের সমর্থনে পথে নামতে পারে। বিভিন্ন কারণে তারা শাসক পরিবর্তনের তৎপরতাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। প্রথমত, ইরানি জনগণ সিরিয়া এবং লিবিয়ার মতো পরিস্থিতির ভয় পায়, যেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থারই পতন ঘটবে। দ্বিতীয়ত, দেশটিতে পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে পারে এমন নির্ভরযোগ্য মধ্যপন্থী বিরোধী শক্তি এখনো নেই। তৃতীয়ত, ইরানে জনগণের মধ্যে জোরদার আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংহতি রয়েছে।
ইরানে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সামরিক বাহিনী এবং আইআরজিসি বাহিনী সুসংগঠিত এবং নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিশেষ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের কাছ থেকে যথেষ্ট সম্পদ পায়। তা ছাড়া, সরকারের প্রতি সমাজের একটা উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন রয়ে গেছে। বিশেষ করে কর্মজীবী শ্রেণির, যাদের সরকারি মহল অনেক সময় ‘বিপ্লবী’ বলে অভিহিত করে থাকে। ইরানের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা শেষ পর্যন্ত সফল হলে এটি দেশশাসনে উত্তরাধিকারের সংকট তৈরি করতে পারে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে। আরও গভীর হতে পারে শাসকগোষ্ঠীর অভ্যন্তরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামরিক-নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে। আইআরজিসির হাতে প্রচুর ক্ষমতা সন্নিবেশিত থাকার কারণে একটি সামরিক-প্রাধান্যপুষ্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বাড়বে।
ইরানকে ভূ-রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার জন্য গৃহযুদ্ধ শুরু করার চেষ্টাও চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গত মাসে টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজের মতো কিছু মার্কিন নেতা ও কর্মকর্তা ইরানি বিক্ষোভকারীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার আহ্বান পর্যন্ত জানিয়েছিলেন। এর পরের ধাপ হতে পারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও অস্ত্র সরবরাহ করা। তাদের মধ্যে রয়েছে মুজাহেদিন-ই খাল্ক (এমইকে), সশস্ত্র কুর্দি গোষ্ঠী পার্টি অব ফ্রি লাইফ অব কুর্দিস্তান (পিজেএকে); তেলসমৃদ্ধ খুজেস্তান প্রদেশের বিচ্ছিন্নতা সমর্থনকারী আরব জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আল-আহওয়াজিয়া; সশস্ত্র গোষ্ঠী জইশ আল-আদল ইত্যাদি।
ওয়াশিংটনের ক্রমাগত উত্তেজনাকর বক্তব্য এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কর্মকাণ্ডের ইতিহাসের মুখে ইরান দৃশ্যত কথিত ‘খ্যাপা লোকের নীতি’ গ্রহণ করেছে: একই সঙ্গে সমঝোতা আর সংঘর্ষের ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে তারা। সম্প্রতি সর্বোচ্চ নেতা খামেনির গরম ভাষণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার একটি কাঠামো গড়ে তোলার আগ্রহের মধ্যে এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। খামেনি তাঁর ভাষণে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ইরানের ওপর সামরিক আক্রমণ ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’ সৃষ্টি করবে। ইরান যে যেকোনো মূল্যে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা ঠেকিয়ে দেওয়াকে প্রধান অগ্রাধিকার মনে করে, সেটাই বোঝানো হয়েছে এ নীতির মধ্য দিয়ে। এমনকি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিণতির ঝুঁকি নিয়ে হলেও।
ইরান বলে দিয়েছে, হামলা হলে তারা প্রতিশোধ নেবে। তার মধ্যে তাদের আঞ্চলিক মিত্র বাহিনীগুলোর সহায়তা থাকবে। এটি ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তা অঞ্চলজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক মন্দার সূত্রপাত করবে। তা ছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে ইরান জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে বা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা করলে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের দাম বাড়বে। জ্বালানির পেছনে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে দেশে দেশে বেড়ে যাবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ।
তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক অভিযান কেবল ইরানের জন্যই নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস দেখিয়েছে এখানে সংঘাত একবার শুরু হলে তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলে। অনেক সময় এমন কিছু ঘটে যা আগে থেকে অনুমান করাও যায় না।
(আল জাজিরা অনলাইনে প্রকাশিত লেখাটি ইংরেজি থেকে অনূদিত)

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এমন পর্যায়ে যে যুদ্ধের আগুন লেগে যাওয়ার জন্য একটি স্ফুলিঙ্গ দরকার মাত্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী অভূতপূর্ব রকম সমরশক্তি জড়ো করেছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনের ‘গানবোট ডিপ্লোমেসির’ ওপর নির্ভরতা যুদ্ধের ঝুঁকি স্পষ্টতই বাড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধের আগুন ইরান তথা গোটা অঞ্চলকে গ্রাস করবে, যার জন্য সুদূরপ্রসারী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মূল্য চোকাতে হতে পারে।
ইরানে গণবিক্ষোভের ওপর সাম্প্রতিক সরকারি দমনপীড়নের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে অপসারণের সময় এসেছে। এরপর ট্রাম্প সরকার মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, সহায়ক যুদ্ধবিমান এবং অতিরিক্ত থাড ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করার এই প্রস্তুতির মধ্যে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে পরবর্তী আক্রমণ গত বছরের জুনে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে চালানো হামলার চেয়ে অনেক ভয়াবহ হবে।
মার্কিন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, একটি পছন্দসই চুক্তির জন্য ইরানকে তার পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে হবে। একই সঙ্গে গুটিয়ে আনতে হবে তার আঞ্চলিক প্রভাববলয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তেহরানের মনে বরাবরই গভীর অবিশ্বাস রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এ ধরনের সর্বোচ্চ মাত্রার দাবি তোলা হলে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কমিশনের সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সেই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে চাপাচাপি করাকে তেহরান বিবেচনা করবে ‘লাল রেখা’ হিসেবে। এটি অতিক্রম না করাই ভালো হবে।
এর মানে অবশ্য এই নয় যে একটি স্থায়ী কূটনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছেই। তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মাত্রার এই দাবিকে তার শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তনের সম্ভাব্য হুমকি হিসেবেই ব্যাখ্যা করছে। ট্রাম্প নিজে এবং ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ‘যুদ্ধবাজ’ মনোভাবের নেতারা অনেকবারই তেহরানের শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটানো নিয়ে কথা বলেছেন। এই প্রেক্ষাপটে আরেকটি মার্কিন হামলাকে ইরানের জন্য ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবেই দেখা হবে। এ কারণে তারা আর সংযম দেখাতে উৎসাহিত বোধ না-ও করতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের প্রভাব মূলত নির্ভর করবে আক্রমণের ধরন, মাত্রা এবং লক্ষ্যবস্তুর ওপর। ট্রাম্প সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযানের পক্ষে। এর মধ্যে সম্ভবত থাকবে ইরানের নেতৃত্বের সক্ষমতা হ্রাস করা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সামরিক ঘাঁটি, আইআরজিসি নিয়ন্ত্রণাধীন আধা সামরিক বাহিনী বাসিজ ইউনিট এবং পুলিশ স্টেশনগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করার চেষ্টা থাকবে এর মধ্যে।
সামরিক উপায়ে শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়ার মার্কিন চেষ্টা নিঃসন্দেহে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে এবং আঞ্চলিকভাবে বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনবে। মার্কিন হামলা ইরানের ধর্মভিত্তিক শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূতকরণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি তা আইআরজিসি কর্তৃক দেশের পুরো ক্ষমতা দখল বা এমনকি অভ্যন্তরীণ সংঘাতের দিকেও নিয়ে যেতে পারে দেশটিকে। গত বছরের মতো আক্রমণ করা হলে জনগণ আবার সেভাবে জাতীয় পতাকা নিয়ে দেশের সমর্থনে পথে নামতে পারে। বিভিন্ন কারণে তারা শাসক পরিবর্তনের তৎপরতাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। প্রথমত, ইরানি জনগণ সিরিয়া এবং লিবিয়ার মতো পরিস্থিতির ভয় পায়, যেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থারই পতন ঘটবে। দ্বিতীয়ত, দেশটিতে পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে পারে এমন নির্ভরযোগ্য মধ্যপন্থী বিরোধী শক্তি এখনো নেই। তৃতীয়ত, ইরানে জনগণের মধ্যে জোরদার আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংহতি রয়েছে।
ইরানে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সামরিক বাহিনী এবং আইআরজিসি বাহিনী সুসংগঠিত এবং নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিশেষ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের কাছ থেকে যথেষ্ট সম্পদ পায়। তা ছাড়া, সরকারের প্রতি সমাজের একটা উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন রয়ে গেছে। বিশেষ করে কর্মজীবী শ্রেণির, যাদের সরকারি মহল অনেক সময় ‘বিপ্লবী’ বলে অভিহিত করে থাকে। ইরানের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা শেষ পর্যন্ত সফল হলে এটি দেশশাসনে উত্তরাধিকারের সংকট তৈরি করতে পারে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে। আরও গভীর হতে পারে শাসকগোষ্ঠীর অভ্যন্তরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামরিক-নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে। আইআরজিসির হাতে প্রচুর ক্ষমতা সন্নিবেশিত থাকার কারণে একটি সামরিক-প্রাধান্যপুষ্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা বাড়বে।
ইরানকে ভূ-রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার জন্য গৃহযুদ্ধ শুরু করার চেষ্টাও চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গত মাসে টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজের মতো কিছু মার্কিন নেতা ও কর্মকর্তা ইরানি বিক্ষোভকারীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার আহ্বান পর্যন্ত জানিয়েছিলেন। এর পরের ধাপ হতে পারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও অস্ত্র সরবরাহ করা। তাদের মধ্যে রয়েছে মুজাহেদিন-ই খাল্ক (এমইকে), সশস্ত্র কুর্দি গোষ্ঠী পার্টি অব ফ্রি লাইফ অব কুর্দিস্তান (পিজেএকে); তেলসমৃদ্ধ খুজেস্তান প্রদেশের বিচ্ছিন্নতা সমর্থনকারী আরব জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আল-আহওয়াজিয়া; সশস্ত্র গোষ্ঠী জইশ আল-আদল ইত্যাদি।
ওয়াশিংটনের ক্রমাগত উত্তেজনাকর বক্তব্য এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কর্মকাণ্ডের ইতিহাসের মুখে ইরান দৃশ্যত কথিত ‘খ্যাপা লোকের নীতি’ গ্রহণ করেছে: একই সঙ্গে সমঝোতা আর সংঘর্ষের ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে তারা। সম্প্রতি সর্বোচ্চ নেতা খামেনির গরম ভাষণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার একটি কাঠামো গড়ে তোলার আগ্রহের মধ্যে এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। খামেনি তাঁর ভাষণে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ইরানের ওপর সামরিক আক্রমণ ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’ সৃষ্টি করবে। ইরান যে যেকোনো মূল্যে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা ঠেকিয়ে দেওয়াকে প্রধান অগ্রাধিকার মনে করে, সেটাই বোঝানো হয়েছে এ নীতির মধ্য দিয়ে। এমনকি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিণতির ঝুঁকি নিয়ে হলেও।
ইরান বলে দিয়েছে, হামলা হলে তারা প্রতিশোধ নেবে। তার মধ্যে তাদের আঞ্চলিক মিত্র বাহিনীগুলোর সহায়তা থাকবে। এটি ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তা অঞ্চলজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক মন্দার সূত্রপাত করবে। তা ছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে ইরান জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে বা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা করলে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের দাম বাড়বে। জ্বালানির পেছনে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে দেশে দেশে বেড়ে যাবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ।
তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক অভিযান কেবল ইরানের জন্যই নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস দেখিয়েছে এখানে সংঘাত একবার শুরু হলে তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলে। অনেক সময় এমন কিছু ঘটে যা আগে থেকে অনুমান করাও যায় না।
(আল জাজিরা অনলাইনে প্রকাশিত লেখাটি ইংরেজি থেকে অনূদিত)

কত কিছুই না ঘটছে চারপাশে! চাঁদাবাজি-হাদিয়ার আক্রমণে জনগণ যখন দিশেহারা, তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারার চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ। সে রকমই একটা কাণ্ড ঘটেছে রাজশাহীতে। সুকৌশলে দখলদারির এমন নমুনা আগেও হয়তো দেখা গেছে, কিন্তু এ সংস্কৃতির কি কোনোই পরিবর্তন হবে না?
৪ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে এখন ভূমিকম্প চলছে। সেই ভূমিকম্পের উৎস যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত এক ব্যক্তি। এমন ভূমিকম্পে এর আগেও একাধিকবার কেঁপে উঠেছে বিশ্ব। প্রথমবার ভূমিকম্পটা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের কারণে। তবে সেই ভূমিকম্প ভয়ানকভাবে বিশ্বটাকে নাড়িয়ে দেয় ২০১০ সালে ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন নথি ফাঁস করে।
৪ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের অন্তহীন রক্তক্ষয় ও বারুদের গন্ধমাখা বাতাসের গভীরের রাজনীতিকে, নিও-রিয়ালিজম বা নব্য-বাস্তববাদ বা কাঠামোগত বাস্তববাদের আয়নায় দেখলে এক রূঢ় ও নির্মম সত্যের মুখোমুখি হতে হয়। কেনেথ ওয়াল্টজ মনে করতেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি কোনো আবেগের জায়গা নয়, বরং এটি নিরেট কাঠামো বা সিস্টেমের খেলা।
৪ ঘণ্টা আগে
ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ২১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, চীনের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বাংলাদেশকে বোঝাবেন। তদুপরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ যাতে বাড়তি অস্ত্র ক্রয় করে এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক...
২ দিন আগেআবু তাহের খান

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ২১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, চীনের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বাংলাদেশকে বোঝাবেন। তদুপরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ যাতে বাড়তি অস্ত্র ক্রয় করে এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা যাতে আরও বৃদ্ধি পায়, সে নিয়েও তিনি কাজ করবেন বলে জানান। তাঁর এ বক্তব্য বস্তুত রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার অব্যবহিত পরে গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন সিনেটের শুনানিতে দেওয়া বক্তব্য ও অঙ্গীকারেরই পুনরাবৃত্তি। গত ২৩ অক্টোবরের শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে তাঁর অন্যতম দায়িত্ব হবে চীনের মোকাবিলায় বাংলাদেশকে কাজে লাগানো। অন্যদিকে সিনেটের ওই সভাতেই রিপাবলিকান দলীয় সিনেটর পিট রিকেটস দেশটির ‘থিংক টুয়াইস অ্যাক্টে’র উদ্ধৃতি দিয়ে ক্রিস্টেনসেনকে এই মর্মে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেলে ওই অ্যাক্টের বিধান প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি চীনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বাড়ানো ও অন্যান্য সামরিক সহযোগিতা কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিতে পারবেন। ক্রিস্টেনসেনও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের পর রিকেটসের দেওয়া ওই সব পরামর্শ নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।
মূলত চীনকে বিবেচনায় রেখে সম্প্রতি প্রণীত মার্কিন ‘থিংক টুয়াইস অ্যাক্ট’ সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগত মিত্র অনুসন্ধানপূর্বক মিত্রদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সেখানে অস্ত্র বিক্রি বাড়ানোর বিষয়ে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে, যে ক্ষেত্রে তাদের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের জন্য যতটা আনন্দের, বাংলাদেশের জনগণের জন্য ততটাই উদ্বেগের। আর ২১ জানুয়ারির সংবাদ সম্মেলনে ক্রিস্টেনসেনের দেওয়া বক্তব্যের পর সে উদ্বেগ কতটা বিষাদে পরিণত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তদুপরি বিষয়টি অধিকতর উৎকণ্ঠাপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এ কারণে যে এসব এমন একটি সময়ে ঘটছে, যখন বাংলাদেশে কোনো নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে নেই এবং সামনে যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, সেটিইবা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা-ও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এমনই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তথা ঢাকায় নিযুক্ত নতুন রাষ্ট্রদূত যদি বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের বোঝাতে সক্ষম হন যে চীনসহ অন্য সবাইকে ভুলে গিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, যুদ্ধবিমান ইত্যাদি কিনে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করাটাই সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত, তাহলে তাতে মোটেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যে দেশের ২৮ শতাংশের বেশি মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে, যেখানে দারিদ্র্যসীমার ওপরে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষের জীবনমান এখন পর্যন্ত দারিদ্র্য পর্যায় থেকে খুব বেশি ওপরে নয় এবং যে দেশে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্য পরিসরে কমার পর অকার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে আবার তা বাড়তে শুরু করেছে, সে দেশের জন্য সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়াস অনেকটাই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নয় কি? অথচ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র সাজতে গিয়ে তাদের প্ররোচনায় বাংলাদেশ এখন অনেকটা সেদিকেই এগোচ্ছে, যা অদূর ভবিষ্যতে এ দেশকে ইউক্রেন বা পাকিস্তানের পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, দেশের অধিকাংশ মানুষকে কষ্ট ও ভোগান্তিতে রেখে সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির মতো সম্পদ-সামর্থ্য কি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রয়েছে?
বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লিখিত বর্ণনামতে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পূর্ণতই জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধার ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের নিজের যেমন এগুলো মেনে চলার কথা, তেমনি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহী অপরাপর দেশও সে অনুযায়ী এ দেশের সঙ্গে আচরণ করবে—সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের থিংক টুয়াইস অ্যাক্টের বিধিবিধান, মার্কিন সিনেটরের পরামর্শ কিংবা নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক বক্তব্য কি বাংলাদেশ সংবিধানের ওই অঙ্গীকারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক রক্ষা করবে অথবা করবে না, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দারিদ্র্যবিমোচন নাকি অস্ত্র কেনাকে অগ্রাধিকার দেবে, কিংবা অন্যান্য বিষয়ে এ দেশ কী নীতি গ্রহণ করবে—সেসব একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার।
কিন্তু তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র যে এসব বিষয়ে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিতে বা বোঝাতে চাইছে, সেটি স্পষ্টতই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। আশা করব, একটি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের অবন্ধুত্বসুলভ ও অকূটনৈতিক আচরণ থেকে বিরত থাকবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান অনির্বাচিত সরকার এবং ভবিষ্যতে যারা নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবে, তারা সবাই অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা বা রক্ষার ক্ষেত্রে সংবিধান প্রদত্ত এ নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলবে বলে আশা রাখি। শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নিজেকে বা নিজেদেরকে বহিঃরাষ্ট্রের প্রতিনিধি না ভেবে এ দেশের জনগণের স্বার্থের প্রতিভূ ভাবুন। তাহলেই একদিকে দেশ যেমন রক্ষা পাবে, অন্যদিকে তেমনি আত্মরক্ষার জন্য ক্ষমতায় থাকা কাউকে বিশেষ দায়মুক্তির উপায়ও অনুসন্ধান করতে হবে না।
প্রচলিত কূটনৈতিক নিয়ম ও প্রথা মেনে কোনো দেশের রাষ্ট্রদূতের পদে একজনের মেয়াদ শেষে আরেকজন আসবেন—এটাই স্বাভাবিক; এবং সাধারণ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এটিকে আলাদা চোখে দেখার বা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এমনই এক সময়ে ও পরিস্থিতিতে এবং এমন সব বক্তব্য ও অভিপ্রায় নিয়ে যোগদান করলেন যে তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারা যাচ্ছে না। তদুপরি অতিপ্রকাশ্যে উচ্চারিত তাঁর নানা বক্তব্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্যও অত্যন্ত অমর্যাদাকর। কারণ, বাংলাদেশ তার নিজস্ব অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আঞ্চলিক স্বার্থে কখন কার সঙ্গে কী সম্পর্ক গড়ে তুলবে, সেটি একান্তই তার নিজস্ব এখতিয়ারাধীন বিষয় (চীনের পক্ষে ওকালতি করা হচ্ছে না এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে অমর্যাদাকর কোনো উপাদান থাকলে সেটিও পরিত্যাজ্য)। সে ক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশ যদি বিশেষ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে ‘বোঝানোর’ দায়িত্ব গ্রহণ করতে চায়, তাহলে সেটি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়, সম্মানজনক তো নয়ই।
এ সূত্রে রাষ্ট্রদূত মহোদয়কে বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করি, এ ধরনের পরামর্শ কি যুক্তরাষ্ট্রের একজন রাষ্ট্রদূত জার্মানি, রাশিয়া কিংবা ভারতকে দিতে পারবেন? যদি না পারেন, তাহলে বাংলাদেশকে তা দেওয়ার কথা ভাবছেন কোন কারণে? এ দেশে এই মুহূর্তে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় নেই বলে কিংবা আগামী সরকার একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় যাবে ধরে নিয়ে তাদের সম্ভাব্য দুর্বলতার কথা ভেবে? মাননীয় রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ যেমন গৃহযুদ্ধের বিরুদ্ধে দীর্ঘকালীন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণও তেমনি নয়া ঔপনিবেশিক শাসন, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম ও ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছে। অতএব চলুন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মমতার ভিত্তিতে গড়ে তুলি। এবং সে ক্ষেত্রে কাউকে মোকাবিলা করার নীতির ভিত্তিতে নয়, বরং সবাইকে ধারণ করে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার নীতিই হোক আমাদের সবার কূটনীতি ও অন্যান্য রাষ্ট্রিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি।
উল্লেখ্য, ঢাকার চীনা দূতাবাস ইতিমধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং গোপন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেছে। চীনা দূতাবাসের ওই বক্তব্যের ভালোমন্দ মূল্যায়নের দায়িত্ব আমাদের নয়, মার্কিন দূতাবাস তথা যুক্তরাষ্ট্রের। বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এখানে শুধু এইটুকু বলব, উল্লিখিত দুই দেশের মধ্যকার দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ যেন কারও পক্ষে ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।
লেখক: সাবেক পরিচালক, বিসিক, শিল্প মন্ত্রণালয়

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ২১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, চীনের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বাংলাদেশকে বোঝাবেন। তদুপরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ যাতে বাড়তি অস্ত্র ক্রয় করে এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা যাতে আরও বৃদ্ধি পায়, সে নিয়েও তিনি কাজ করবেন বলে জানান। তাঁর এ বক্তব্য বস্তুত রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার অব্যবহিত পরে গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন সিনেটের শুনানিতে দেওয়া বক্তব্য ও অঙ্গীকারেরই পুনরাবৃত্তি। গত ২৩ অক্টোবরের শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে তাঁর অন্যতম দায়িত্ব হবে চীনের মোকাবিলায় বাংলাদেশকে কাজে লাগানো। অন্যদিকে সিনেটের ওই সভাতেই রিপাবলিকান দলীয় সিনেটর পিট রিকেটস দেশটির ‘থিংক টুয়াইস অ্যাক্টে’র উদ্ধৃতি দিয়ে ক্রিস্টেনসেনকে এই মর্মে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেলে ওই অ্যাক্টের বিধান প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি চীনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বাড়ানো ও অন্যান্য সামরিক সহযোগিতা কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিতে পারবেন। ক্রিস্টেনসেনও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের পর রিকেটসের দেওয়া ওই সব পরামর্শ নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।
মূলত চীনকে বিবেচনায় রেখে সম্প্রতি প্রণীত মার্কিন ‘থিংক টুয়াইস অ্যাক্ট’ সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগত মিত্র অনুসন্ধানপূর্বক মিত্রদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সেখানে অস্ত্র বিক্রি বাড়ানোর বিষয়ে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে, যে ক্ষেত্রে তাদের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের জন্য যতটা আনন্দের, বাংলাদেশের জনগণের জন্য ততটাই উদ্বেগের। আর ২১ জানুয়ারির সংবাদ সম্মেলনে ক্রিস্টেনসেনের দেওয়া বক্তব্যের পর সে উদ্বেগ কতটা বিষাদে পরিণত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তদুপরি বিষয়টি অধিকতর উৎকণ্ঠাপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এ কারণে যে এসব এমন একটি সময়ে ঘটছে, যখন বাংলাদেশে কোনো নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে নেই এবং সামনে যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, সেটিইবা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা-ও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এমনই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তথা ঢাকায় নিযুক্ত নতুন রাষ্ট্রদূত যদি বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের বোঝাতে সক্ষম হন যে চীনসহ অন্য সবাইকে ভুলে গিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, যুদ্ধবিমান ইত্যাদি কিনে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করাটাই সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত, তাহলে তাতে মোটেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যে দেশের ২৮ শতাংশের বেশি মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে, যেখানে দারিদ্র্যসীমার ওপরে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষের জীবনমান এখন পর্যন্ত দারিদ্র্য পর্যায় থেকে খুব বেশি ওপরে নয় এবং যে দেশে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্য পরিসরে কমার পর অকার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে আবার তা বাড়তে শুরু করেছে, সে দেশের জন্য সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়াস অনেকটাই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নয় কি? অথচ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র সাজতে গিয়ে তাদের প্ররোচনায় বাংলাদেশ এখন অনেকটা সেদিকেই এগোচ্ছে, যা অদূর ভবিষ্যতে এ দেশকে ইউক্রেন বা পাকিস্তানের পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, দেশের অধিকাংশ মানুষকে কষ্ট ও ভোগান্তিতে রেখে সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির মতো সম্পদ-সামর্থ্য কি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রয়েছে?
বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লিখিত বর্ণনামতে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পূর্ণতই জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধার ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের নিজের যেমন এগুলো মেনে চলার কথা, তেমনি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহী অপরাপর দেশও সে অনুযায়ী এ দেশের সঙ্গে আচরণ করবে—সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের থিংক টুয়াইস অ্যাক্টের বিধিবিধান, মার্কিন সিনেটরের পরামর্শ কিংবা নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক বক্তব্য কি বাংলাদেশ সংবিধানের ওই অঙ্গীকারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক রক্ষা করবে অথবা করবে না, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দারিদ্র্যবিমোচন নাকি অস্ত্র কেনাকে অগ্রাধিকার দেবে, কিংবা অন্যান্য বিষয়ে এ দেশ কী নীতি গ্রহণ করবে—সেসব একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার।
কিন্তু তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র যে এসব বিষয়ে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিতে বা বোঝাতে চাইছে, সেটি স্পষ্টতই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। আশা করব, একটি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের অবন্ধুত্বসুলভ ও অকূটনৈতিক আচরণ থেকে বিরত থাকবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান অনির্বাচিত সরকার এবং ভবিষ্যতে যারা নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবে, তারা সবাই অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা বা রক্ষার ক্ষেত্রে সংবিধান প্রদত্ত এ নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলবে বলে আশা রাখি। শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নিজেকে বা নিজেদেরকে বহিঃরাষ্ট্রের প্রতিনিধি না ভেবে এ দেশের জনগণের স্বার্থের প্রতিভূ ভাবুন। তাহলেই একদিকে দেশ যেমন রক্ষা পাবে, অন্যদিকে তেমনি আত্মরক্ষার জন্য ক্ষমতায় থাকা কাউকে বিশেষ দায়মুক্তির উপায়ও অনুসন্ধান করতে হবে না।
প্রচলিত কূটনৈতিক নিয়ম ও প্রথা মেনে কোনো দেশের রাষ্ট্রদূতের পদে একজনের মেয়াদ শেষে আরেকজন আসবেন—এটাই স্বাভাবিক; এবং সাধারণ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এটিকে আলাদা চোখে দেখার বা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এমনই এক সময়ে ও পরিস্থিতিতে এবং এমন সব বক্তব্য ও অভিপ্রায় নিয়ে যোগদান করলেন যে তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারা যাচ্ছে না। তদুপরি অতিপ্রকাশ্যে উচ্চারিত তাঁর নানা বক্তব্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্যও অত্যন্ত অমর্যাদাকর। কারণ, বাংলাদেশ তার নিজস্ব অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আঞ্চলিক স্বার্থে কখন কার সঙ্গে কী সম্পর্ক গড়ে তুলবে, সেটি একান্তই তার নিজস্ব এখতিয়ারাধীন বিষয় (চীনের পক্ষে ওকালতি করা হচ্ছে না এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে অমর্যাদাকর কোনো উপাদান থাকলে সেটিও পরিত্যাজ্য)। সে ক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশ যদি বিশেষ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে ‘বোঝানোর’ দায়িত্ব গ্রহণ করতে চায়, তাহলে সেটি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়, সম্মানজনক তো নয়ই।
এ সূত্রে রাষ্ট্রদূত মহোদয়কে বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করি, এ ধরনের পরামর্শ কি যুক্তরাষ্ট্রের একজন রাষ্ট্রদূত জার্মানি, রাশিয়া কিংবা ভারতকে দিতে পারবেন? যদি না পারেন, তাহলে বাংলাদেশকে তা দেওয়ার কথা ভাবছেন কোন কারণে? এ দেশে এই মুহূর্তে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় নেই বলে কিংবা আগামী সরকার একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় যাবে ধরে নিয়ে তাদের সম্ভাব্য দুর্বলতার কথা ভেবে? মাননীয় রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ যেমন গৃহযুদ্ধের বিরুদ্ধে দীর্ঘকালীন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণও তেমনি নয়া ঔপনিবেশিক শাসন, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম ও ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছে। অতএব চলুন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মমতার ভিত্তিতে গড়ে তুলি। এবং সে ক্ষেত্রে কাউকে মোকাবিলা করার নীতির ভিত্তিতে নয়, বরং সবাইকে ধারণ করে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার নীতিই হোক আমাদের সবার কূটনীতি ও অন্যান্য রাষ্ট্রিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি।
উল্লেখ্য, ঢাকার চীনা দূতাবাস ইতিমধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং গোপন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেছে। চীনা দূতাবাসের ওই বক্তব্যের ভালোমন্দ মূল্যায়নের দায়িত্ব আমাদের নয়, মার্কিন দূতাবাস তথা যুক্তরাষ্ট্রের। বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এখানে শুধু এইটুকু বলব, উল্লিখিত দুই দেশের মধ্যকার দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ যেন কারও পক্ষে ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।
লেখক: সাবেক পরিচালক, বিসিক, শিল্প মন্ত্রণালয়

কত কিছুই না ঘটছে চারপাশে! চাঁদাবাজি-হাদিয়ার আক্রমণে জনগণ যখন দিশেহারা, তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারার চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ। সে রকমই একটা কাণ্ড ঘটেছে রাজশাহীতে। সুকৌশলে দখলদারির এমন নমুনা আগেও হয়তো দেখা গেছে, কিন্তু এ সংস্কৃতির কি কোনোই পরিবর্তন হবে না?
৪ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে এখন ভূমিকম্প চলছে। সেই ভূমিকম্পের উৎস যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত এক ব্যক্তি। এমন ভূমিকম্পে এর আগেও একাধিকবার কেঁপে উঠেছে বিশ্ব। প্রথমবার ভূমিকম্পটা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের কারণে। তবে সেই ভূমিকম্প ভয়ানকভাবে বিশ্বটাকে নাড়িয়ে দেয় ২০১০ সালে ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন নথি ফাঁস করে।
৪ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের অন্তহীন রক্তক্ষয় ও বারুদের গন্ধমাখা বাতাসের গভীরের রাজনীতিকে, নিও-রিয়ালিজম বা নব্য-বাস্তববাদ বা কাঠামোগত বাস্তববাদের আয়নায় দেখলে এক রূঢ় ও নির্মম সত্যের মুখোমুখি হতে হয়। কেনেথ ওয়াল্টজ মনে করতেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি কোনো আবেগের জায়গা নয়, বরং এটি নিরেট কাঠামো বা সিস্টেমের খেলা।
৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এমন পর্যায়ে যে যুদ্ধের আগুন লেগে যাওয়ার জন্য একটি স্ফুলিঙ্গ দরকার মাত্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী অভূতপূর্ব রকম সমরশক্তি জড়ো করেছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনের ‘গানবোট ডিপ্লোমেসির’ ওপর নির্ভরতা যুদ্ধের ঝুঁকি স্পষ্টতই বাড়িয়ে দিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে