
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বাঘাইছড়ি, বরকল, বড় হরিণা এবং বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জেলার ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮২০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে বিলাইছড়ি উপজেলার দূরবর্তী ফারুয়া ইউনিয়ন। দুর্গম এ অঞ্চলে বন্যাকবলিত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
রাইংখং নদীর তীব্র স্রোত এবং নৌপথে উপড়ে পড়া বড় বড় গাছের গুঁড়ি ও জাঁক ভেসে আসায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নৌকা নিয়ে ওপরে ওঠা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. নুয়েন খীসা বলেন, `আমরা চেষ্টা করছি দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দেওয়ার। একাধিক মেডিকেল টিম কাজ করছে। এখনো বড় ধরণের কোন রোগের প্রাদুর্ভাব নেই।'
বাঘাইছড়িতে বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও আতঙ্ক কাটেনি। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরামে বৃষ্টি হলেই বাঘাইছড়ির নদীগুলোতে দ্রুত পানি বেড়ে যাচ্ছে।
আকাশে মেঘের ঘনঘটা রয়ে গেছে এবং জেলাজুড়ে এখনো থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত চলছে।
আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আসা মানুষের মধ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সড়ক বিভাগ সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছে।
সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাঙামাটি-রাজস্থলী এবং খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কে পাহাড় ধস ও কালভার্ট ডুবে যাওয়ায় সড়ক স্বাভাবিক করা যায়নি।
এ ছাড়া রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে যাওয়ায় দুই জেলার মধ্যে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, `প্রাকৃতিক প্রতিকুলতার মাঝেও সড়ক সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সড়কের উপর যেখানে সেখানে পাহাড় ধস হচ্ছে। সেই মাটি সরিয়ে যান চলাচল সচল রাখার চেষ্টা করছি আমরা। তবে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কটি সচল হতে সময় লাগবে।'
রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, `সব আশ্রয় কেন্দ্রে দুবেলা খাবার ও এক বেলা নাস্তা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোন অভিযোগ নেই। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের সহযোগিতা করছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কাছে ৪০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সব কটি সরকারি বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।'

প্রতিষ্ঠার সাত দশকেও পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহির্বিভাগে নির্মাণ করা হয়নি বিশ্রামাগার। ফলে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাঁর স্বজনেরা। রোগী নিয়ে বহির্বিভাগের সামনে গাদাগাদি করে, কখনো খোলা মাঠে বা গাছতলায় বসে থাকতে হয় স্বজনদের।
৬ মিনিট আগে
পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যমান কক্সবাজার পৌরসভাকে সম্প্রসারণ করে রামু ও কক্সবাজার সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের কিছু এলাকা অন্তর্ভুক্ত করে বৃহত্তর নগর প্রশাসন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৪ মিনিট আগে
নাটোরের গুরুদাসপুরে খেলার মাঠ উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল শুক্রবার উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী হাট মাঠে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনিছুর রহমান।
২৩ মিনিট আগে
জনবলসংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, অপারেশন থিয়েটার না থাকাসহ নানা সমস্যায় ধুঁকছে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীরা। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে তাদের জেলা শহরে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের সময় ও অর্থ—দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
২৭ মিনিট আগে