Ajker Patrika

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক, আলোচনায় প্রাধান্য পেল যেসব

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক, আলোচনায় প্রাধান্য পেল যেসব
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শনিবার রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হলো বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা। শনিবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ১০টায়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের পটভূমিতে এটি দলটির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় সভা।

দলীয় ও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বৈঠকে মূলত চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলের জাতীয় কাউন্সিল, সাংগঠনিক বর্তমান পরিস্থিতি এবং নেতা–কর্মীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উপায়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সদস্য জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু করা যেতে পারে, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটির কয়েক সদস্য চলতি বছরের শেষের দিকে এই নির্বাচন শুরু করার পক্ষে মত দেন। তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট কোনো মাস এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

আলোচনার একপর্যায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেনের ‘আগামী সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে’-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য টেবিলে তোলেন দুই-একজন সদস্য। তবে বিএনপি চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত অন্য সদস্যরা বিষয়টি নাকচ করে দেন। অধিকাংশ সদস্যই মন্তব্য করেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। তাই এখন থেকেই কেন্দ্র ও তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রস্তুতি শুরু করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। বৈঠকে দুজন সদস্য দলের জাতীয় কাউন্সিল করার বিষয়টি উত্থাপন করলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আশ্বস্ত করে বলেন, ‘দলের কাউন্সিল অবশ্যই হবে।’

অধিকাংশ সদস্য চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই কাউন্সিল সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া যেসব জেলা বা অঙ্গ-সংগঠনের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের পক্ষেও মতামত উঠে আসে।

বৈঠকে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বেকারত্ব কমিয়ে আনার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং সারা দেশে খাল পুনঃখননসহ যেসব কাজ ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো আগামী দিনে কীভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়েও কথা বলেন নেতারা।

বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দলের নেতা–কর্মীরা চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে গেছেন। অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন, অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের কীভাবে আবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হলে তারেক রহমানসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা জানান, যাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা আছে, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

তবে বৈঠকে এও স্পষ্ট করা হয় যে, আওয়ামী লীগের আমলের মতো শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বা ইতিহাস দেখে কাউকে চাকরি দেবে না বিএনপি। মেধা ও যোগ্যতাই হবে মূল মাপকাঠি।

এ ছাড়া দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

দলীয় সূত্র বলছে, সরকার গঠনের পর সবাই রাষ্ট্রীয় ও নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অনেক দিন পর স্থায়ী কমিটির আনুষ্ঠানিক বৈঠক হলো। দেশের সমসাময়িক রাজনীতি ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত এই বৈঠক হবে।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর চলতি বছরের ৪ এপ্রিল ও ১৭ মে কমিটির আরও দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই হিসেবে এটি ছিল স্থায়ী কমিটির তৃতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত