Ajker Patrika

খাগড়াছড়িতে টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনে ১৩ ঘণ্টা, ঘরে অনাহারে ছিল শিশুরা

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৫ মে ২০২৬, ০০: ৫৭
খাগড়াছড়িতে টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনে ১৩ ঘণ্টা, ঘরে অনাহারে ছিল শিশুরা
খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে টিসিবির পণ্য কিনতে এসে ভোগান্তির শিকার ক্রেতা। ছবি: আজকের পত্রিকা

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার চার ইউনিয়নে প্রায় ৬ হাজার মানুষের কাছে টিসিবি পণ্য বিক্রি করছে মেসার্স মাহি ট্রেডিং। সোমবার (৪ মে) সকাল ৯টা থেকে সদর ইউনিয়নের ১ হাজার ৯১৯ জন উপকারভোগী কার্ডধারীর মধ্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির কথা। কিন্তু পণ্য বিক্রি শুরু করে বেলা ৩টা থেকে। আর রাত ১০টা পর্যন্ত মাত্রা ১ হাজার মানুষের কাছে পণ্য বিক্রি করে। পণ্য না নিয়ে খালি হাতে ফেরত যায় ৯ শতাধিক মানুষ।

১২-১৩ ঘণ্টা সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘরে শিশুসন্তান রেখে আসা অনেক নারীকে লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রানির প্রতিবাদ করতে দেখা যায়।

রাজপাড়ার উমাচিং মারমা ও মংরি মারমা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টায় গিয়ে রাত সোয়া ১০টায় ৬৪৫ টাকার প্যাকেজে ৫ কেজি চাল, ২ লিটার তেল, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি, ১ প্যাকেট ডিটারজেন্ট, ১টি গায়ের সাবান এনেছি। কিন্তু ঘরে চাল, ডাল না থাকায় সকালে রান্না হয়নি। সন্তানেরা আজ না খেয়ে ছিল!’

দেরির বিষয়ে জানতে চাইলে টিসিবি ডিলার এস এম মামুন আকবর বলেন, ‘উপজেলার ৪ ইউনিয়নে মোট উপকারভোগী ৫ হাজার ৯৩৭ জন। সোমবার সদর ইউনিয়নের ১ হাজার ৯১৯ জনের মধ্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও গত রোববার তিনটহরী ইউনিয়নে কিছু পণ্য অবিক্রীত থেকে যায়। ফলে সোমবার সকালে ওখানে বিক্রি করতে গিয়ে এখানে আসতে দেরি হয়। তা ছাড়া নেট সমস্যায় আমরা ভোগান্তিতে পড়ি। এতে টিসিবি পণ্য উপকারভোগীরা কষ্ট পেয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে অবশিষ্ট ভোক্তাদের দেওয়া হবে।’

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ট্যাগ অফিসার বা দায়িত্বশীল মাহমুদ হাসান জানান, ডিলারের কম্পিউটার ত্রুটি বা যান্ত্রিক সমস্যা হওয়ার বিষয়টি আগেভাগে ভোক্তাকে অবহিত না করায় ভোক্তারা চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। ভবিষ্যতে আর যেন এমন ভোগান্তি না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে ডিলারকে সতর্ক করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত