Ajker Patrika

যেসব পুরুষকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছে ইসলাম

তাসনিফ আবীদ
যেসব পুরুষকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছে ইসলাম
প্রতীকী ছবি

ইসলামি জীবনব্যবস্থায় পারিবারিক ও সামাজিক পবিত্রতা রক্ষায় বিয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সীমারেখা টেনে দেওয়া হয়েছে। একজন মুসলিম নারীর জন্য সব পুরুষকে বিয়ে করা বৈধ নয়। নির্দিষ্ট কিছু নিকটাত্মীয় রয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ইসলামি শরিয়তে হারাম বা নিষিদ্ধ। এই নিষিদ্ধ ব্যক্তিদেরই শরিয়তের পরিভাষায় ‘মাহরাম’ বলা হয়।

ইসলামের আলোকে নিষিদ্ধ পুরুষেরা

পবিত্র কোরআনের বর্ণনা ও ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন নারীর জন্য ১৪ জন পুরুষের সঙ্গে বিয়ে হারাম। এই পুরুষদের তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. রক্তের সম্পর্কের মাহরাম (৭ জন)

রক্তের সম্পর্কের কারণে একজন নারী নিচের সাতজনকে কখনো বিয়ে করতে পারবেন না:

  1. বাবা: নিজের জন্মদাতা পিতা (দাদা, নানা ও তাঁদের ঊর্ধ্বতন সবাই এর অন্তর্ভুক্ত)।
  2. ছেলে: নিজের গর্ভজাত সন্তান (ছেলের ঘরের নাতি ও মেয়ের ঘরের নাতিও এর অন্তর্ভুক্ত)।
  3. ভাই: নিজের সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় (সৎমায়ের ছেলে) ও বৈপিত্রেয় (সৎবাবার ছেলে) ভাই।
  4. চাচা: বাবার নিজের ভাই এবং বাবার বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই।
  5. মামা: মায়ের নিজের ভাই এবং মায়ের বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই।
  6. ভাতিজা: আপন বা সৎভাইয়ের ছেলে ও তাঁদের পরের প্রজন্মের পুত্রসন্তানেরা।
  7. ভাগনে: আপন বা সৎবোনের ছেলে ও তাঁদের পরের প্রজন্মের পুত্রসন্তানেরা।

২. স্তন্যদান বা দুধ-সম্পর্কীয় মাহরাম (২ জন)

দুধ সম্পর্কের কারণে রক্ত সম্পর্কের মতোই বিয়ে হারাম হয়ে যায়। এই তালিকায় রয়েছেন:

  1. দুধভাই: যে ছেলে একই মায়ের দুধ পান করেছেন।
  2. দুধছেলে: যে ছেলেকে ওই নারী নিজে স্তন্যদান করেছেন। (উল্লেখ্য, দুধপিতা, দুধচাচা বা দুধমামার সঙ্গেও বিয়ে হারাম।)

৩. বৈবাহিক-সম্পর্কীয় মাহরাম (৫ জন)

বিয়ের মাধ্যমে আত্মীয়তার কারণে নিচের ব্যক্তিদের বিয়ে করা হারাম হয়ে যায়:

  1. শ্বশুর: স্বামীর পিতা, দাদা ও নানা (যত ওপরের হোক)।
  2. মেয়ের জামাই: নিজের মেয়ের স্বামী বা নাতনির স্বামী।
  3. সৎবাবা: মায়ের ওই স্বামী, যাঁর সঙ্গে মায়ের দাম্পত্যসম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে।
  4. সৎছেলে: স্বামীর অন্য স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান।
  5. দুধমেয়ের জামাই: যে মেয়েকে ওই নারী দুধ পান করিয়েছেন, তাঁর স্বামী।

দুলাভাই, দেবর বা ভাশুরের সঙ্গে সাময়িকভাবে বিয়ে হারাম হওয়ায় অনেকে মনে করেন তাঁরা মাহরাম এবং তাঁদের সঙ্গে দেখা করা জায়েজ। কিন্তু ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, তাঁরা ‘গায়রে মাহরাম’। অর্থাৎ, তাঁদের সঙ্গে বিয়ে সাময়িকভাবে হারাম হলেও (যেমন: বোন বেঁচে থাকা অবস্থায় দুলাভাইকে বিয়ে করা যায় না) তাঁরা মাহরাম নন।

তাই দেবর, ভাশুর, দুলাভাই ও কাজিন ভাইদের (চাচাতো, মামাতো, ফুফাতো, খালাতো ভাই) সামনে পর্দা করা ফরজ।

ইসলামে এই বিধানগুলো দেওয়া হয়েছে পারিবারিক পবিত্রতা রক্ষা ও বংশীয় সম্পর্কের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত