
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সারিবদ্ধ আটটি কফিন। প্রতিটিতে শায়িত একেকজন প্রবাসী। কিছুদিন আগেই তাঁরা হাসিমুখে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। সন্তানের কপালে চুমু দিয়ে, স্ত্রীকে সন্তানের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন। মা-বাবার কাছে আরজি ছিল, ‘নিজের খেয়াল রেখো।’ কিন্তু আজ তাঁরা নিথর। গত শনিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তাঁদের মরদেহ। রাত ৯টা ২০ মিনিটে স্বজনদের কাছে কফিনগুলো হস্তান্তর করা হয়।
৮ অক্টোবর ওমানের ধুকুম প্রদেশের সিদরা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন আট প্রবাসী। তাঁদের মধ্যে সাতজনই সন্দ্বীপের, একজন রাউজানের। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে অর্থনৈতিক সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে পরিশ্রম করতেন। কথা ছিল উপহারভর্তি ব্যাগ নিয়ে দেশে ফিরবেন। কিন্তু ফিরলেন কফিনে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন আমিন মাঝি (৫০), মো. সাহাবুদ্দিন (২৮), মো. বাবলু (২৮), মো. রকি (২৭), মো. আরজু (২৬), মো. জুয়েল (২৮), মোশারফ হোসেন রনি (২৬) ও মো. আলাউদ্দিন। প্রথম সাতজন সন্দ্বীপের, আলাউদ্দিন রাউজানের। সবার পরিবারে বুকফাটা আর্তনাদ। সারিকাইত ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আরজুর বাড়ির পথে দূর থেকেই শোনা যায় কান্নার রোল। আরজুর তিন বছরের মেয়ে আনিসাকে নিয়ে বিলাপ করতে করতে আনিসার দাদা শহীদুল্লাহ বলছিলেন, ‘ও এখন কাকে বাবা ডাকবে?’
একই এলাকার মো. বাবলুর দুই সন্তান। চার বছরের ছেলে ও তিন বছরের মেয়ে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় তাঁর স্ত্রী। মো. সাহাবুদ্দিনের ১৪ মাসের মেয়ে, মো. রকির চার মাসের ছেলে নুর ইয়ামীন। রকির বাবা ইব্রাহীম জানান, দুর্ঘটনার আগে ভিডিও কলে রকি ছেলের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ইয়ামীন বাবার ডাক আর শুনবে না।
গতকাল সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সন্দ্বীপের এনাম নাহার মোড়সংলগ্ন পূর্ব সন্দ্বীপ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সাত প্রবাসীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই জানাজায় চোখের পানিতে সাত রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানায় এলাকাবাসী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা বলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আকস্মিক মৃত্যুতে সন্দ্বীপবাসী শোকাহত। এই শোক প্রকাশের কোনো ভাষা নেই। এই আর্তনাদের কোনো উত্তর নেই।
সন্দ্বীপ নাগরিক সমাজের সভাপতি অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান জানান, সাহাবুদ্দিন ও বাবলু ছিলেন এক আত্মা। একসঙ্গে পড়াশোনা, বেড়ে ওঠা। গত ২১ সেপ্টেম্বর একই ফ্লাইটে ওমানে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনাও তাঁদের আলাদা করতে পারেনি।
দুর্ঘটনার এক দিন আগে ফেসবুকে সন্দ্বীপে লাশবাহী স্পিডবোট চালুর খবর দিয়েছিলেন আমিন মাঝি। কিন্তু নিয়তির পরিহাস, তাঁরই লাশ বহন করে এল সেই স্পিডবোট। তাঁর বাবা আলী কব্বর জানান, মেয়ের বিয়ে দিতে দেশে ফেরার কথা ছিল আমিনের। কিন্তু এলেন লাশ হয়ে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, একটি লরির সঙ্গে মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ মাস বয়সী একটি শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনায় শিশুটির মায়ের একটি হাত ভেঙে গেছে। অপর নিহত নারীর নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তবে তাঁর বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর হবে।
৫ মিনিট আগে
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দেড় মাসের মেয়েকে নিয়ে কারাগারে যাওয়া ঢাকা যুব মহিলা লীগের কর্মী শিল্পী বেগমকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার একটি আদালত।
১ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি খেয়াঘাটের দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির নেতা-কর্মীদের মারামারি হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে
ঢাকার আশুলিয়া থেকে গতকাল সোমবার রাতে আন্তজেলা ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পালিয়ে গেছে আরও অন্তত ছয়জন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি খেলনা পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে