
খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে জামায়াতের ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করার পর থেকে এ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে দলের ভেতরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী কৃষ্ণ নন্দী নিজের ব্যবসা সামাল দিতে ‘জামায়াতের ঘাড়ে বসেছেন’।
খুলনা-১ আসনে বটিয়াঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির শেখ আবু ইউসুফকে প্রার্থী ঘোষণা করছিল দল। গত বুধবার এই প্রার্থিতা পরিবর্তন করা হয়। ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী। তিনি দাবি করেছেন, ২০০৩ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে তিনি জড়িত। তবে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সরকার পতনের পর তাঁর বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে ডুমুরিয়ার চুকনগর এলাকার এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কৃষ্ণ নন্দী আওয়ামী লীগের লোক। সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ডান হাত ছিলেন তিনি। ব্যবসা থেকে আয়ের বড় অংশ আওয়ামী লীগের জন্য ব্যয় করতেন। তিনি কীভাবে জামায়াতের সঙ্গে গেলেন বুঝি না।’
এদিকে নির্বাচনী মাঠ তৈরিতে কৃষ্ণ নন্দীকে নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। এর মধ্যে রয়েছে, তিনি ডুমুরিয়ার বাসিন্দা নন। এলাবাসীর সঙ্গে তিনি পরিচিতও নন।
অন্যদিকে কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী দেওয়ায় জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মীই মেনে নিতে পারছেন না। জামায়াতকে ঐক্যবদ্ধ করা তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ।
বটিয়াঘাটা কলেজের এক শিক্ষক বলেন, ‘আজ পত্রিকায় দেখলাম কৃষ্ণ নন্দী নামের একজনকে জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে। তাঁর বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে। তিনি তো এ এলাকার বাসিন্দা নন, তিনি এসে কী করবেন?’
কৃষ্ণ নন্দী জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর বটিয়াঘাটা কৈয়া বাজার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবেন।
তথ্য বলছে, দাকোপ দেশের একমাত্র হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ উপজেলা। এখানে ৫৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ বাসিন্দাই হিন্দু। এ ছাড়া খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী আছে ২ দশমিক ১২ শতাংশ। ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ বাসিন্দা ইসলাম ধর্মের অনুসারী। আর বটিয়াঘাটা উপজেলার ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাসিন্দা হিন্দুধর্মের। সব মিলিয়ে এই আসনে হিন্দু ও খ্রিষ্টান ভোটার বেশি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করলেও হিন্দু ও খ্রিষ্টানদের ভোট জামায়াতের পক্ষে টানা খুবই কঠিন।
সূত্র জানায়, হিন্দু-অধ্যুষিত এই আসনে ১৯৯৬ সালে নির্বাচন করেন জামায়াত নেতা আবু ইউসুফ। পরের পাঁচটি নির্বাচনে জামায়াত আর প্রার্থী দেয়নি। তিন দশক পর আবার সেখানে আবু ইউসুফকে প্রার্থী দিলেও পরে পরিবর্তন করে দেয় কৃষ্ণ নন্দীকে। এ নিয়ে দলটির তৃণমূল পর্যায়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে আবু ইউসুফ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। তাঁর পক্ষে আমি প্রচারণা শুরু করেছি।’
জানতে চাইলে বটিয়াঘাটা উপজেলার এক মাদ্রাসাশিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মাওলানা আবু ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এলাকায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সব বয়সের মানুষ তাঁকে সম্মান করে। কাজটি ঠিক হয়নি। আমরা কোনো অন্য ধর্মাবলম্বীর পক্ষে কাজ করব না।’
বিএনপির ডুমুরিয়ার এক নেতা বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট ক্ষুব্ধ জনতা তার ঘরবাড়িতে আগুন দেয়। চুকনগরে মোটরসাকেলের শোরুমসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। আর নিজেকে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষার জন্যই এখন জামায়াতের ঘাড়ে বসেছে তিনি।
খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, ‘জামায়াত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। আর এর অংশ হিসেবে একজন হিন্দুকে মনোনয়ন দিয়েছে। হিন্দুবিদ্বেষী জামায়াতের হঠাৎ হিন্দুপ্রীতি কেন, তা জনগণ জানে। ভন্ড জামায়াতকে এ দেশের মানুষ বয়কট করবে।’

গাইবান্ধায় এবার নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে ছাপরাঘরে কিংবা খোলা আকাশের নিচে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরও কিছু বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
বগুড়া জেলা পুলিশের বিভিন্ন বিল-ভাউচারে জালিয়াতির নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এই জালিয়াতির ঘটনায় গঠন করা তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া টিএ বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ ইতিমধ্যে তিন কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ ঘটনায় বগুড়া জেলা পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কর্মরত প্রায় ৩০ সদস্যের নাম তদন্তে এসেছে।
৫ ঘণ্টা আগে
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের চারটি পৃথক স্থানে প্রায় ২০০ মিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কাঁচকোল বাজার ও পুঁটিমারি এলাকার মাঝামাঝি স্থানে বাঁধে নতুন করে ৩৫ মিটার ধস সৃষ্টি হয়।
৫ ঘণ্টা আগে
বিদ্যালয়ের মাঠের উত্তর দিকে একতলা ভবন। পূর্ব পাশে আরেকটি দোতলা ভবন। মাত্র ৫২ শতক জমির ওপর দুটি ভবন নির্মাণের কারণে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি ছোট হয়ে গেছে। গত সোমবার কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের কাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই চিত্র দেখা যায়।
৫ ঘণ্টা আগে