Ajker Patrika

চবির সিনেটে ৫০৩ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন, গবেষণায় নির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই

চবি প্রতিনিধি 
চবির সিনেটে ৫০৩ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন, গবেষণায় নির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই
গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় সিনেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

দীর্ঘ তিন বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৩৬তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার প্রাক্কলিত রাজস্ব বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৪৮৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকার সংশোধিত রাজস্ব বাজেট অনুমোদন করা হয়।

নতুন বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে। তবে গবেষণা খাতে নির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় সিনেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব এবং দুপুর ২টায় দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন, আয়-ব্যয়ের হিসাব, বাজেট ও উন্নয়ন কার্যক্রম অনুমোদন করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে সিনেটররা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, আবাসিক হলের সংখ্যা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন।

বাজেটের ৫৮ শতাংশ বেতন-ভাতা খাতে

অনুমোদিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে ২৯৩ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মোট ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার রাজস্ব বাজেটের প্রায় ৫৮ শতাংশই এ খাতে ব্যয় হবে।

এ ছাড়া পরিবহন ভাড়া বাবদ ২ কোটি ২৫ লাখ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেট নথি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবলও বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কর্মরত শিক্ষক ছিলেন ৯৭৭ জন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ সংখ্যা ১ হাজার ১৬ জনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। একই সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৯৮ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৫৪ জন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জনবল বৃদ্ধির প্রভাবও বাজেটে পড়েছে।

গবেষণায় নির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই

২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটে গবেষণা খাতে নির্দিষ্ট কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে বাজেট বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, গবেষণা খাতের বরাদ্দ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে গবেষণা খাতে ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। এবারের সিনেট অধিবেশনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও গবেষণার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেন সিনেটররা।

সিনেট অধিবেশনে সরকার মনোনীত পাঁচ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ছবি: আজকের পত্রিকা
সিনেট অধিবেশনে সরকার মনোনীত পাঁচ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

টিএসসি নির্মাণে ৫০ কোটি টাকার ডিপিপি

চলতি অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) নির্মাণের লক্ষ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক হলের সংখ্যা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবিও সিনেট অধিবেশনে উঠে আসে।

তবে পরবর্তী সমাবর্তন আয়োজন ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের জন্য এবারের বাজেটে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।

মূলধন খাতে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম

বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি, যানবাহন, তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম ও অন্যান্য স্থায়ী সম্পদ কেনার জন্য মূলধন অনুদান খাতে ২৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এ খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা ছিল ৬৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। ফলে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দে ঘাটতি রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট রাজস্ব আয়ের বড় অংশ ইউজিসির অনুদান থেকে আসবে। পাশাপাশি নিজস্ব আয় থেকেও অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অপচয় কমিয়ে বাজেট বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিন বছর পর সিনেট অধিবেশন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই। দীর্ঘ বিরতির পর শনিবার ৩৬তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হলো। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী বছরে অন্তত একবার সিনেট অধিবেশন আয়োজনের বিধান রয়েছে।

সিনেটে ছিলেন না ছাত্র প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ১২টি ক্যাটাগরিতে মোট ১০২টি সদস্যপদ রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি পদ থাকলেও এসব পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এবারের সিনেট অধিবেশনেও কোনো ছাত্র প্রতিনিধি অংশ নিতে পারেননি।

চাকসুর প্রতিনিধিদের পর্যবেক্ষক হিসেবে অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে অধিবেশন শুরুর আগেই চাকসু এক বিবৃতিতে অধিবেশন প্রত্যাখ্যানের কথা জানায়। বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত শিক্ষকদের উপস্থিতি এবং জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভূমিকার অভিযোগ থাকা শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত সিনেট অধিবেশনে তারা অংশ নেবে না।

অধিবেশনে সংসদ সদস্যসহ সিনেটররা

সিনেট অধিবেশনে স্পিকার মনোনীত পাঁচ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ সিনেট সদস্যরা অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত