
বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীরই থাকে। তবে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সেটি যে শহরে অবস্থিত, সেই শহর সম্পর্কেও আগে থেকে ধারণা থাকা জরুরি। কারণ, একটি শহরের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ, কর্মসংস্থানের সুযোগ, জীবনযাত্রার মান এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা—এসব একটি আদর্শ উচ্চশিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলে। এটি বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) প্রকাশ করেছে বিশ্বের সেরা শিক্ষাবান্ধব শহরের নতুন তালিকা। কিউএস বেস্ট স্টুডেন্ট সিটিজ র্যাঙ্কিংস ২০২৭-এ টানা দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জাপানের টোকিও। ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন। এর অবস্থান তৃতীয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের ঢাকা এবার কিছুটা পিছিয়েছে। গত বছর শহরটির অবস্থান ছিল ১৩৬তম। এবার নেমে এসেছে ১৪১তম স্থানে।
সিউলের সাফল্যের পেছনে রয়েছে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণার সুযোগ এবং স্নাতকদের জন্য শক্তিশালী চাকরির বাজার। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছেও শহরটি এখন অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। এসব কারণে টানা দ্বিতীয় বছর শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিউল। টোকিওও পিছিয়ে নেই। কর্মসংস্থানের সুযোগের সূচকে এটি বিশ্বের সেরা শহর। পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশ, উন্নত জীবনযাত্রা ও উচ্চমানের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে টোকিওর আকর্ষণ ক্রমেই বাড়ছে। ইউরোপের সেরা শিক্ষাবান্ধব শহর হিসেবে লন্ডন এবারও তৃতীয় স্থানে রয়েছে। গত বছরের মতোই তার অবস্থান অপরিবর্তিত।
এবারের তালিকায় সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শক্ত অবস্থান। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন এক ধাপ এগিয়ে চতুর্থ হয়েছে। সিডনিও এক ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে উঠেছে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর চার ধাপ এগিয়ে ১১তম, বেইজিং ১৯ ধাপ এগিয়ে ১২তম এবং তাইপেই ১২ ধাপ এগিয়ে ১৪তম স্থানে রয়েছে। কুয়ালালামপুর আট ধাপ এগিয়ে ১৫তম হয়েছে। জাপানের কিয়োটো উঠে এসেছে ১৬তম স্থানে। আর হংকং আগের মতোই রয়েছে ১৭তম অবস্থানে। কিউএসের মতে, বিশ্বের শীর্ষ ২০ শিক্ষাবান্ধব শহরের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্ব এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের। এটি উচ্চশিক্ষার মানের পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং স্নাতকদের কর্মসংস্থানে অঞ্চলটির ক্রমবর্ধমান শক্তিরও প্রতিফলন। বিশেষ করে মালয়েশিয়া ও আসিয়ানভুক্ত কয়েকটি দেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নতুন গন্তব্য হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ইউরোপ এখনো উচ্চশিক্ষার অন্যতম শক্তিশালী অঞ্চল। তবে এবারের তালিকায় কয়েকটি শহরের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে গেছে। ফ্রান্সের লিঁও ১৭ ধাপ পিছিয়ে ৭১তম স্থানে নেমেছে। অস্ট্রিয়ার গ্রাজ ১৮ ধাপ পিছিয়ে যৌথভাবে ১২৪তম হয়েছে। আর ফ্রান্সের মঁপেলিয়ে ১৩ ধাপ পিছিয়ে অবস্থান করছে ১৪৭তম স্থানে। এসব পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশ্বজুড়ে শিক্ষাবান্ধব শহরগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা এখন আগের চেয়ে আরও তীব্র।
চীনের শহরগুলোও এবারের তালিকায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। দেশটির মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে বেইজিং, যার অবস্থান ১২তম। সাংহাই দুই বছরে ২৫ ধাপ এগিয়ে ২১তম হয়েছে। নানজিং এক বছরে ১০ ধাপ এবং দুই বছরে মোট ২৮ ধাপ এগিয়ে পৌঁছেছে ৫৯তম স্থানে। আর গুয়াংজু ২৪ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৯৫তম অবস্থানে উঠে এসেছে।
বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষার মানচিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। নতুন নতুন শহর এগিয়ে আসছে, বাড়ছে প্রতিযোগিতা। ফলে বিদেশে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, শহর নির্বাচনও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
বিশ্বের সেরা ১০ শিক্ষাবান্ধব শহর
র্যাঙ্ক শহর দেশ
১ সিউল দক্ষিণ কোরিয়া
২ টোকিও জাপান
৩ লন্ডন যুক্তরাজ্য
৪ মেলবোর্ন অস্ট্রেলিয়া
৫ (যৌথ) মিউনিখ জার্মানি
৫ (যৌথ) সিডনি অস্ট্রেলিয়া
৭ প্যারিস ফ্রান্স
৮ বার্লিন জার্মানি
৯ ভিয়েনা অস্ট্রিয়া
১০ জুরিখ সুইজারল্যান্ড

বাংলাদেশে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে স্নাতকোত্তর করার সিদ্ধান্ত নিই। তখন করোনা মহামারি চলছিল। সেই সময়কে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজিতে স্নাতকোত্তর শুরু করি।
১ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বৈঠকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও
১৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা শেষে তরুণদের কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের চিহ্নিত করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার গঠিত একটি পর্যালোচনা কমিশন।
১৮ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে রচনা, কবিতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, বিশেষ মোনাজাত এবং শহীদ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদানের আয়ো
২ দিন আগে