Ajker Patrika

জাহাজভাঙা কারখানায় ৯ প্রাণহানি: ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ নেমেছে পরিবারগুলোতে

সবুজ শর্মা শাকিল, সীতাকুণ্ড
আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২০: ১৫
জাহাজভাঙা কারখানায় ৯ প্রাণহানি: ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ নেমেছে পরিবারগুলোতে
বাড়ির উঠানে রাখা হয়েছে দুই ভাই পলাশ জলদাস ও সানি জলদাসের মরদেহ। ছবি: আজকের পত্রিকা

আজ সকালে কাজে বের হতে চাননি মনসুর উদ্দিন। কিন্তু জাহাজভাঙা কারখানা থেকে বারবার ফোন করা হচ্ছিল তাঁকে। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেতে হলো সেখানে, যেখানে মৃত্যুর ভয়াল কালো থাবা ওত পেতে ছিল।

‘বাবা, আজ থেকে কে আমাকে বুকে জড়িয়ে নিবে, কে আমার সকল আবদার হাসিমুখে পূরণ করবে,’ নিহত মনসুর উদ্দিনের একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌসের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে চারপাশ।

পাশেই হতবিহ্বল অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন মনসুর উদ্দিন ও নাছির উদ্দিনের সত্তরোর্ধ্ব পিতা মোহাম্মদ সেকান্দর। তাঁর দুই পুত্রই ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। তাঁদের বিয়োগব্যথা তিনি কীভাবে সইবেন? পিতা হয়ে কীভাবে পুত্রের লাশ কাঁধে নেবেন—বলতে বলতেই তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা কারখানা ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিস্ফোরণ ও গ্যাস বিষক্রিয়ায় নিহত ৯ শ্রমিকের পরিবারেই এখন শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর শ্রমিকদের আর্তচিৎকার শুনে তাঁরা কারখানার সামনে ছুটে যান। স্থানীয় বাসিন্দারাও সেখানে জড়ো হন। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং সামান্য দুর্ঘটনা বলে সবাইকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

স্বজনদের ভাষ্য, ঘটনার এক ঘণ্টা পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হতাহত শ্রমিকদের উদ্ধার করেন।

ভাটিয়ারী শনি ঠাকুর বাড়ি-সংলগ্ন জেলেপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, নিহত পলাশ জলদাস ও সানি জলদাসের মরদেহ বাড়ির উঠানে রাখা হয়েছে। মরদেহ জড়িয়ে ধরে তাঁদের স্ত্রী, সন্তান, স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

পলাশ জলদাসের স্ত্রী ভৌমিকা জলদাস বলেন, তাঁর স্বামীই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর আয়ে পরিবারের ভরণপোষণের পাশাপাশি বৃদ্ধ মা-বাবার চিকিৎসার খরচও চলত। এখন কী করবেন, কোথায় দাঁড়াবেন—তা ভেবেই তিনি চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন।

পলাশ জলদাসের ৬৫-ঊর্ধ্ব পিতা হরেন্দ্র জলদাস বলেন, কাজে যাওয়ার আগে ছেলে তাঁকে বলেছিল, ফেরার পথে ওষুধ নিয়ে আসবে এবং রাতে একসঙ্গে বসে খাবে। তিনি বলেন, ‘আমার পলাশ আমার কাছে ফিরে এসেছে। তবে নিথর হয়ে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত