Ajker Patrika

পড়তে-লিখতে পারছে না উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন মার্কিন শিক্ষক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৪৯
পড়তে-লিখতে পারছে না উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন মার্কিন শিক্ষক
কান্নায় ভেঙে পড়া সেই শিক্ষক দারিয়াস উইলিয়ামস। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দুর্বলতা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এক শিক্ষক। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাত্র চারটি শব্দ দিয়ে একটি অসম্পূর্ণ বাক্য শেষ করতে দেওয়ার পরও যখন তারা তা করতে পারেনি, তখন আবেগ সামলাতে পারেননি হিউস্টন ইনডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হুইটলি হাইস্কুলের শিক্ষক দারিয়াস উইলিয়ামস। তাঁর দাবি, শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থী পড়তে ও লিখতে পারছে না। যদিও তারা কথা বলতে, যুক্তি দিতে এবং নিজেদের যুক্তির পক্ষে সাফাই দিতে সক্ষম।

স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার দুপুরের খাবারের বিরতিতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে উইলিয়ামস বলেন, স্কুলের দ্বিতীয় দিনের প্রথম ক্লাসই তিনি শেষ করতে পারেননি শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতার দুরবস্থা দেখে। তিনি বলেন, ‘আমি মাত্র তিন ঘণ্টার একটি ক্লাস শেষ করেছি, আর সত্যি বলতে, ক্লাসের মাঝখানেই আমি ভেঙে পড়েছিলাম।’

মার্কিন নিউ এডুকেশন সিস্টেমের (এনইএস) ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন বিভাগের এই শিক্ষক জানান, তিনি তাঁর দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুটি অনুচ্ছেদ পড়তে দিয়েছিলেন। এরপর একটি বাক্য সম্পূর্ণ করতে বলেন, যে বাক্যটি তিনি প্রায় পুরোপুরিই তাদের জন্য লিখে দিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেই কাজটুকুও করতে পারেনি।

উইলিয়ামস বলেন, ‘আমি মূলত তাদের জন্য বাক্যটিই প্রায় সম্পূর্ণ করে দিয়েছিলাম। এরা ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী, আর তারা চারটি শব্দও বসিয়ে বাক্যটি শেষ করতে পারেনি। চারটি শব্দ!’ তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য কাজটি আরও সহজ করতে তিনি প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছিলেন এবং সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বিষয়টি চিহ্নিত ও বিশ্লেষণ করেছিলেন। এমনকি সমস্যা সমাধানের আগেই তিনি তাদের উত্তরও দিয়ে দিয়েছিলেন। এরপরও শিক্ষার্থীরা কাজটি সম্পন্ন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের পরিস্থিতিটা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম, আমরা একসঙ্গে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছি। সমস্যার সমাধান করার আগেই আমি তাদের উত্তর দিয়ে দিয়েছিলাম, তারপরও তারা সেটা করতে পারেনি। সমস্যাটা কোথায়, আমি জানি না। সত্যিই জানি না।’

এরপর আরও হতাশ হয়ে উইলিয়ামস বলেন, ‘এটা তো মাত্র দ্বিতীয় দিন, অথচ আমার এমন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আছে যারা ঠিকমতো পড়তেই পারে না। আর এমন শিক্ষার্থীও আছে যারা লিখতে পারে না। তারা লিখতে পারে না।’ এ সময় ভিডিওতে তাঁর চোখ লাল হয়ে যায় এবং গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক দক্ষতার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা কথা বলতে পারে, যুক্তি দিতে পারে এবং নিজেদের যুক্তির পক্ষে সাফাইও দিতে পারে। কিন্তু সেই দক্ষতাগুলো লিখিত ভাষায় প্রয়োগ করতে পারছে না।

উইলিয়ামস ‘আমাদের তরুণ কৃষ্ণাঙ্গ ছেলেরা, আমাদের তরুণ বাদামি-চামড়ার ছেলেরা, আমাদের তরুণ কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েরা এবং আমাদের তরুণ বাদামি-চামড়ার মেয়েরা...’ বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এরপর ভিডিওটি শেষ হয়ে যায়।

ভিডিওটি প্রকাশের পর উইলিয়ামসকে নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়। সমালোচকদের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতার সমস্যা নিয়ে মন্তব্য করার মতো যথেষ্ট যোগ্যতা তাঁর রয়েছে কি না। উইলিয়ামস শিক্ষকতার পাশাপাশি খণ্ডকালীন রান্নাবিষয়ক কনটেন্টও তৈরি করেন। গত এপ্রিলে তিনি বার্কলে কলেজ অব মিউজিক থেকে অর্জন করা তাঁর দ্বিতীয় ব্যাচেলর ডিগ্রি প্রদর্শন করেন। পরে জানান, তিনি আমেরিকান কলেজ অব এডুকেশনে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন এবং সেখানে কারিকুলাম অ্যান্ড ইনস্ট্রাকশন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

এ ছাড়া তাঁর কাছে টেক্সাস অঙ্গরাজ্য ও টেক্সাস এডুকেশন এজেন্সিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের একাধিক সার্টিফিকেশন রয়েছে বলেও জানান তিনি। এক ফলো-আপ ভিডিওতে উইলিয়ামস বলেন, ‘আমার সব সার্টিফিকেশনই ঠিকঠাক আছে।’

সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের মধ্যে যারা আমার তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের পড়ানো নিয়ে কোনো আপত্তি বা সমস্যা মনে করেন, দায়িত্বটা আপনারা নিন। আপনারা সার্টিফিকেশন নিন, এই উচ্চবিদ্যালয়গুলোতে ঢুকুন, একটা শ্রেণিকক্ষ নিন, প্রতি পিরিয়ডে ২২ জন শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়ান, তারপর দেখি আপনারা কতটা ভালো করতে পারেন।’

নিউইয়র্কেও ইংরেজিতে দুর্বল ফল

উইলিয়ামসের শ্রেণিকক্ষে ভেঙে পড়ার ঘটনাটি এমন একসময়ে সামনে এল, যখন এর কয়েক দিন আগেই নিউইয়র্ক সিটির তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির অধিকাংশ শিক্ষার্থী গত শিক্ষাবর্ষে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ আর্টস পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে বলে প্রকাশ করা হয়। এ সপ্তাহে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা দপ্তর প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় শ্রেণির ৫৭ শতাংশ, চতুর্থ শ্রেণির ৫২ শতাংশ এবং পঞ্চম শ্রেণির ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এই বিষয়ে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।

পরীক্ষার আওতাভুক্ত চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৪৮ শতাংশ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ আর্টস দক্ষতার মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে। শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, আগের বছরের তুলনায় এই হার ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ ৫ শতাংশ কমেছে।

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত