
‘দেশে ফিরলেন ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী’—এমন একটি দাবি গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই তিনি দেশে ফিরলেন।
আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছবি, ভিডিও ও ফটোকার্ড নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অনেকেই তথ্যটিকে সত্য ধরে নিয়ে নানা রাজনৈতিক মন্তব্য করছেন।
আলোচিত দাবিতে কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে, এখানে, এখানে।
শেয়ার করা এক পোস্টে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘গণআন্দোলনের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী... আবার নিজ দেশে ফিরেছেন! ঠিক একই কায়দায় ভারতে বসে শেখ হাসিনা হুংকার দিচ্ছেন...।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘দেশে ফিরছেন তথাকথিত ছাত্র আন্দোলনে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী... বাংলাদেশও দেখবে এমন চিত্র ইনশাআল্লাহ...।’
অন্য এক ব্যবহারকারী ভিডিও তৈরি করে দাবি করেন, নেপালের জেনজি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফিরে এসেছেন, এবার শেখ হাসিনার ফেরার পালা।
প্রচারিত দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রচারিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেস দলের সভাপতি শের বাহাদুর দেউবা। তিনি সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে চিকিৎসা শেষে গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
নেপালের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নেপালে ফিরে দেউবা মহারাজগঞ্জে তাঁর জন্য আগে থেকেই ভাড়া করা বাসায় অবস্থান করছেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার কথা বলে সিঙ্গাপুরে যান তিনি।
তবে আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে শের বাহাদুর দেউবাকে নেপালের ‘ছাত্র আন্দোলন’ বা ‘জেন-জি আন্দোলন’-এ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া তাঁর গণ-আন্দোলনের মুখে ভারত পালিয়ে যাওয়ার কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শের বাহাদুর দেউবা ২০২১ সালের ১৩ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত নেপালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আর ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের (জেন-জি) আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। পরবর্তীতে চলতি বছরের মার্চে গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হলেও, বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে কাঠমান্ডুতেই অবস্থান করছেন।

‘ছাত্র বা জেনজি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন’—দাবিটি সঠিক নয়। মূলত, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পাঁচ মাস বিদেশে অবস্থান শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার নেপাল ফেরার ঘটনাকে ভুয়া দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন, আই এম ভেরি ভেরি কনফিডেন্ট’—এটি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উদ্ধৃতি দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
‘যে শিক্ষার্থী ১১ সাবজেক্টে এ প্লাস পায় সে এক সাবজেক্টে কীভাবে ফেইল করে? এই সরকার পরিকল্পিতভাবে জাতিকে মেধাশূন্য করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে এমন অবিচার করছে’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
‘এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে শিক্ষার্থীরা’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
৩ দিন আগে
‘ইউনুস ও বিএনপির ব্যর্থতায় আওয়ামী লীগ আজ গণমানুষের দল। ঠেকানোর সাধ্য আমাদের নেই’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উদ্ধৃতি দাবিতে এমন ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
৩ দিন আগে