Ajker Patrika

বগুড়ার ধুনট ও সারিয়াকান্দি নদীবন্দর ঘোষণা, গেজেটে সীমানা নির্ধারণ

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ২১: ৫০
বগুড়ার ধুনট ও সারিয়াকান্দি নদীবন্দর ঘোষণা, গেজেটে সীমানা নির্ধারণ
সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদী পরিবেষ্টিত এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নদী বন্দর ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার ধুনট ও সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদী পরিবেষ্টিত এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নদীবন্দর ঘোষণা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের টিএ শাখা থেকে প্রকাশিত বিশেষ গেজেটে দুই নদীবন্দরের সীমানা নির্ধারণ করা হয়। নদীবন্দর দুটির সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ)।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ছন্দা পাল স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ধুনট ও সারিয়াকান্দি যমুনা নদীবন্দরের সীমানা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার নদীবন্দর-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দুটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্নিবাড়ী ইউনিয়নের চরকুমারপাড়া মৌজায় মথুরাপাড়া ঘাটের (দেবডাঙ্গা) দক্ষিণে যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ে কর্নিবাড়ী ইউনিয়নের নারাণপাড়া মৌজার মূলবাড়ী পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ধুনট উপজেলা নদীবন্দরের দক্ষিণ সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া মৌজায় ঢেকুরিয়া হাটসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত। উত্তর দিকে যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের চৌবেড় মৌজার বৈশাখীর চরসহ শহড়াবাড়ি নৌঘাট পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গেজেটভুক্ত এই সীমানার মধ্যে বিদ্যমান চন্দনবাইশা নৌঘাট ও শহরাবাড়ী নৌঘাটসহ সব খাল ও ঘাট এখন থেকে নদী বন্দরের আওতাভুক্ত থাকবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নৌপথের আধুনিকায়ন, জেটি নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে যাত্রী সাধারণের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে।

নদীবন্দর ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী, নৌযান চালক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।

ধুনট উপজেলা উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, `ধুনট ও সারিকান্দিকে নদীবন্দর ঘোষণা করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল। এই বন্দর দুটি চালু হলে চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে। বিশেষ করে নৌপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন অনেক সহজ এবং সাশ্রয়ী হবে। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য আমরা বগুড়ার ধুনট-শেরপুর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ও সোনাতলা-সারিয়াকান্দি আসসেন সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।'

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, `আজ দুপুরে সরকারিভাবে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি হাতে পাওয়া গেছে। তবে বন্দর সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএকে। তারা কত দিনের মধ্যে এর কার্যক্রম শুরু করবেন, সে সম্পর্কে অফিশিয়াল কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।'

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত