Ajker Patrika

শরীয়তপুরে মরিচখেতে পাওয়া ককটেলে উড়ে গেল শিশুর হাত

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ২৯ মে ২০২৬, ১৭: ০৮
শরীয়তপুরে মরিচখেতে পাওয়া ককটেলে উড়ে গেল শিশুর হাত
মরিচখেতে কুড়িয়ে পাওয়া ককটেল বিস্ফোরণে শিশু ক্ষতবিক্ষত। ছবি: আজকের পত্রিকা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় মরিচখেতে কুড়িয়ে পাওয়া একটি পরিত্যক্ত হাতবোমা (ককটেল) বিস্ফোরণে রাহাত মাদবর (১০) নামের এক শিশুর ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই ঘটনায় তার শরীরের বিভিন্ন অংশও গুরুতর ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিসংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে কেউ পরিকল্পিতভাবে এই বোমা ফেলে রাখতে পারে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জাজিরা উপজেলার চরধুপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে। আহত রাহাত চরধুপুর গ্রামের সামসু মাদবরের ছেলে।

সকালে রাহাত বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় চাষ করা খেতে মরিচ তুলতে যায়। সেখানে পড়ে থাকা ককটেলসদৃশ একটি বস্তু দেখে কৌতূহলী হয়ে হাতে নেয়। নাড়াচাড়া করার একপর্যায়ে বিকট শব্দে সেটি বিস্ফোরিত হয়।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই রাহাতের ডান হাতের কবজি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বাঁ হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ স্প্লিন্টারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় রাহাতকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার করেন।

আহত রাহাতের পরিবার দাবি করছে, এটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বা সামাজিক বিরোধ থাকতে পারে।

আহত শিশুর চাচা বাবুল মাদবর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিরোধ চলছে। আমাদের ধারণা, কেউ শত্রুতাবশত ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে সেখানে হাতবোমাটি ফেলে রাখতে পারে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।’

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ বা স্থানীয় অন্য কোনো পক্ষের তাৎক্ষণিক বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে জাজিরা থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশুটি কুড়িয়ে পাওয়া ককটেলটি কৌতূহলবশত খোলার চেষ্টা করছিল। ঠিক তখনই এটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে তার দুই হাতের কবজি পর্যন্ত অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওসি বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। ঠিক কী কারণে ও কীভাবে সেখানে হাতবোমাটি এল, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত