Ajker Patrika

পাহাড়ধসের ৯ বছর: পাহাড়ের গায়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস, দুর্ঘটনার শঙ্কা

  • কাপ্তাইয়ে ২০১৭ সালের এই দিনে ১৮ জন প্রাণ হারান
  • এখনো বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে শত শত পরিবার বসবাস করছে
ঝুলন দত্ত, কাপ্তাই ( রাঙামাটি)
পাহাড়ধসের ৯ বছর: পাহাড়ের গায়ে ঝুঁকিপূর্ণ
বসবাস, দুর্ঘটনার শঙ্কা
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কাপ্তাই ইউনিয়নের ঢাকাইয়া কলোনিতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে একাধিক পরিবারের বসবাস। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

২০১৭ সালের ১৩ জুন। রাঙামাটির কাপ্তাইবাসীর জন্য এটি ছিল এক বিভীষিকাময় দিন। আগের দিন মধ্যরাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। টানা বর্ষণে তখন ঘরবন্দী মানুষ। সকালে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে থাকে পাহাড়ধসে হতাহতের মৃত্যুর খবর। ওই দিনের পাহাড়ধসে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণ হারায় ১৮ জন।

তবে আজকের সেই দিনের ঝুঁকি ও শঙ্কা ৯ বছরেও কাটেনি। ভয়াবহ ওই ঘটনার পরও বন্ধ হয়নি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস। এখনো বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে শত শত পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। বিশেষ করে কাপ্তাই ইউনিয়নের ঢাকাইয়া কলোনিতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছে বহু পরিবার। এ ছাড়া ওয়াগ্গা ইউনিয়নের মুরালীপাড়া, রাইখালী ইউনিয়নের কারিগরপাড়া, তিনছড়ি, মিতিঙ্গাছড়িসহ দুর্গম অনেক জায়গায় বসবাস করছে অনেক পরিবার। তারা আছে ঝুঁকিতে। বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি হলে এই পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হলেও তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, ভয়াবহ সেই দিন সকালে প্রথম দুঃসংবাদটি আসে চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি থেকে। পাহাড়ধসে সেদিন ওই এলাকায় বসবাসরত নুরনবীসহ তাঁর ছেলের সন্তানসম্ভবা স্ত্রী এবং তাঁর শিশুপুত্র ঘটনাস্থলে মারা যায়। এরপর একে একে ওয়াগ্গার মুরালীপাড়া, রাইখালির কারিগরপাড়া এবং চিৎমরম থেকে পাহাড়ধস ও মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। সেদিনের পাহাড়ধসে কাপ্তাইয়ে প্রাণ হারায় ১৮ জন। পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যায় শত শত একর সবজিখেত, নষ্ট হয় বহু ঘরবাড়ি। এখনো দিনটির কথা স্মরণ করে শিহরিত হয় ওইসব এলাকার মানুষ।

কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ বলেন, ‘কাপ্তাই ইউনিয়নের ঢাকাইয়া কলোনি এলাকায় এখনো ঝুঁকিতে বাস করছে বহু মানুষ। যখন অতিবৃষ্টি হয়, তখন পাহাড়ধসের আশঙ্কায় তাঁরা নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে আসে। যদি এসব লোককে স্থায়ীভাবে কোনো জায়গায় পুনর্বাসন করা যেত, তাহলে সমস্যার সমাধান হতো।’

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, ‘ভয়াবহ পাহাড়ধসের সময় আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলাম। এখনো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অনেকে বসবাস করছেন। বিশেষ করে ঢাকাইয়া কলোনির বাসিন্দারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন। তাঁদের স্থায়ী কোনো বন্দোবস্তের জন্য বর্তমান সরকার চেষ্টা করবে বলে আশা করছি।’

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হানুল ইসলাম বলেন, কাপ্তাই ইউনিয়নের ঢাকাইয়া কলোনিসহ উপজেলার রাইখালী ও ওয়াগ্গা ইউনিয়নে এখনো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাঁরা বসবাস করছেন, তাঁদের ডেটাবেজ করা হবে। তাঁরা ভূমিহীন কি না সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

রায়হানুল ইসলাম আরও বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ইতিমধ্যে আমরা এসব এলাকায় গিয়ে জনগণকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার জন্য অনুরোধ করেছি। বিশেষ করে অতিবৃষ্টি হলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকে। তখন আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের কাছের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসি এবং তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করি। যদি ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীরা দুর্যোগের আগে নিরাপদ স্থানে চলে আসেন, তাহলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত