Ajker Patrika

ফিলিস্তিনপন্থী মিছিলে চীনা অর্থায়নের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের পর তদন্তে যুক্তরাজ্য

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ২৭
ফিলিস্তিনপন্থী মিছিলে চীনা অর্থায়নের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের পর তদন্তে যুক্তরাজ্য
সম্প্রতি কোড পিংক লন্ডনের হোয়াইটহলে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল এবং একটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটির বাইরে বিক্ষোভের আয়োজন করে। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও মিছিলে চীনা অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) বিষয়টির তদন্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্রেও একই অভিযোগে একটি ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ও এর অর্থদাতাদের নিয়ে তদন্ত চলছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দা টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে ‘কোড পিংক’ নামের একটি বামপন্থী নারীবাদী সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তদন্ত শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সংগঠনটি লন্ডনের হোয়াইটহলে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল এবং একটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটির বাইরে বিক্ষোভের আয়োজন করে।

দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ উল্লেখ করে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে আসছে কোড পিংক। সম্প্রতি সংগঠনটি তাদের কর্মীদের নিয়ে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) বাইরে বিক্ষোভ করে। পাশাপাশি ব্রিটিশ নেতারা ‘জায়নবাদের কাছে বিক্রি’—এমন অভিযোগও করেছে সংগঠনটি।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। ভিন্ন রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হুমকি থেকে দেশ ও গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষাকে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রযুক্তি খাতের ধনকুবের নেভিল রয় সিংহাম। তিনি কোড পিংককে কয়েক মিলিয়ন ডলার অর্থ দিয়েছেন। সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী জোডি ইভান্স।

মার্কিন কংগ্রেসের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটি এবং দেশটির বিচার বিভাগ সিংহামের অর্থায়ন ও চীনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে। কমিটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নেভিল রয় সিংহামের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যুক্তরাজ্যে কোড পিংকের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থাকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড (প্রায় আড়াই লাখ পাউন্ড) অর্থ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি তাঁর অর্থ ব্যবহার করে চীনপন্থী প্রচারণা চালিয়েছেন এবং বেইজিংয়ের স্বার্থ এগিয়ে নিতে কাজ করেছেন।

চীন পশ্চিমাদের বিভিন্ন সংবেদনশীল সামাজিক ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে বিভাজন তৈরি এবং তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক যুদ্ধ’ চালাতে চায়—এমন উদ্বেগের মধ্যেই এই তথ্য সামনে এল।

ইন্টার-পার্লামেন্টারি অ্যালায়েন্স অন চায়না বা চীনের বিষয়ে আন্তঃসংসদীয় জোটের (আইপিএসি) প্রতিনিধি লুক ডি পালফোর্ড এই তদন্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাজ্য চীনের রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে প্রায় প্রতিরক্ষাহীন অবস্থায় রয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি বিদেশে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এক বিশাল কৌশল নিয়ে কাজ করছে।’

তবে যুক্তরাজ্যে কোড পিংকের জ্যেষ্ঠ সংগঠক সুজি গিলবার্ট বেইজিংয়ের হয়ে কোনো প্রচারণায় যুক্ত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কোড পিংক একটি যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী মানবিক সংগঠন।

অন্যদিকে, মার্কিন তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান জেসন স্মিথ বলেন, ‘আমাদের তদন্তে এটি স্পষ্ট যে, সিংহামের টাকা এবং প্রভাব কেবল আমেরিকার সীমানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। এই অর্থ কেবল যুক্তরাষ্ট্রে নয়, যুক্তরাজ্যসহ বিদেশেও বিভিন্ন প্রচারণায় ব্যবহৃত হচ্ছে।’ এ ছাড়া মার্কিন বিচার বিভাগ সিংহামের চীন-যোগাযোগের বিষয়ে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তদন্ত শুরু করেছে।

অবশ্য নেভিল রয় সিংহাম চীনের হয়ে কাজ করার সব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন। ২০২৩ সালে প্রথম এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের নির্দেশ মেনে চলি না। আমার সব সিদ্ধান্ত ও কাজ আমার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত