Ajker Patrika

নোয়াখালীর সেনবাগে দুই পাড়ার সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৩২, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর-লুটপাট

নোয়াখালী প্রতিনিধি
আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, ১৭: ২৬
নোয়াখালীর সেনবাগে দুই পাড়ার সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৩২, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর-লুটপাট
এই সংঘর্ষের জেরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে অর্ধশতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের এসআই, এএসআইসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে অর্ধশতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

গতকাল শুক্রবার রাত ১০টা থেকে আজ ভোর পর্যন্ত ছাতারপাইয়া বাজারে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমানের ছোট ভাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা আবুল খায়ের এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেনের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর থেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে বিভিন্ন সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গতকাল সন্ধ্যায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে রাত ১০টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ ছাতারপাইয়া বাজারে মুখোমুখি হয়। কিছুক্ষণ পর তাদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় বাজারে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

খবর পেয়ে প্রথমে সেনবাগ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এতে পুলিশের একজন এসআই ও একজন এএসআই আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আহত পুলিশ সদস্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, আবুল খায়ের ও ইসমাইলের মধ্যে চলমান বিরোধে সংঘর্ষ হলেই সেটি পাড়ায়-পাড়ায় বিভক্ত হয়ে যায়। তাঁদের দুজনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাতারপাইয়া পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ার ব্যবসায়ীরা বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষে জড়ায় এই দুই গ্রুপ। তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করতে স্থানীয় প্রশাসন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, চলমান এই বিরোধের কারণে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আজ সন্ধ্যার পর বা যেকোনো মুহূর্তে আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। বাজারে অতিরিক্ত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের দাবি করেছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবুল খায়ের ও ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সেনবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো পক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ আহতের ঘটনায় একটি মামলা করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত