Ajker Patrika

রাজধানীর বর্জ্য অপসারণে অবহেলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ মে ২০২৬, ২১: ৩৮
রাজধানীর বর্জ্য অপসারণে অবহেলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার
ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানী ঢাকায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণে অবহেলা ও গাফিলতির বিষয়টি স্বচক্ষে দেখার পর কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের সময় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে ঘাটতি ধরা পড়ায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুজন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে (আঞ্চলিক প্রধান) তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত (ওএসডি) করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বিকেল ৪টা থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য অপসারণের বাস্তব চিত্র ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মৃধা এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে জানান, রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণে চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপরই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

শাস্তির মুখোমুখি হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন—মো. সাদেকুর রহমান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, অঞ্চল-৫, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

কাজী সালেহ মুস্তানজির, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, অঞ্চল-১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

উভয় কর্মকর্তাই সরকারের উপসচিব পদমর্যাদার। স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, বর্জ্য অপসারণে গাফিলতি বরদাশত না করার পূর্বঘোষণা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন শতভাগ বর্জ্য অপসারণের জন্য যথাক্রমে ১২ ও ৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে আজ সকাল ও দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বহু এলাকায় কোরবানির বর্জ্য, পশুর রক্ত ও উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটির অন্তত ২৯টি স্থানে বর্জ্য অপসারণের কাজ অসমাপ্ত পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে উত্তর সিটির ১৮টি ও দক্ষিণ সিটির ১১টি এলাকা রয়েছে। এসব স্থানে পশুর খুর, হাড়, শিং ও বর্জ্যের কারণে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যা ঈদের আনন্দের মাঝে নগরবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

উত্তর সিটির যেসব এলাকায় বর্জ্য দেখা গেছে: মিরপুর-১১ সাংবাদিক আবাসিক এলাকা, মিরপুর-১০ গোলচত্বর-সংলগ্ন এলাকা, সেনপাড়া পর্বতা, পূর্ব মনিপুর, শাহজাদপুর, গুলশান ও বনানীর কয়েকটি সড়ক।

দক্ষিণ সিটির যেসব এলাকায় বর্জ্য দেখা গেছে: ধানমন্ডি, জিগাতলা, হাজারীবাগ, গণকটুলী, চকবাজার, বকশীবাজার ও নাজিরাবাজার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বর্জ্য অপসারণের বাস্তব অবস্থা দেখতে আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নিজে গাড়ি চালিয়ে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসভবন থেকে বের হন। এরপর তিনি গুলশান-১, হাতিরঝিল, রামপুরা রোড, মালিবাগ হয়ে বাসাব সড়কপথ ধরে ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যান।

পরে তাঁর গাড়ি কমলাপুর স্টেডিয়াম, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, যাত্রাবাড়ী মোড়, ধোলাইখাল, শহীদ ফারুক সড়ক, দয়াগঞ্জ, নারিন্দা, রায়সাহেব বাজার, নয়া বাজার, বংশাল রোড, গুলিস্তান, শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরিদর্শনের শেষভাগে তিনি নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, কলাবাগান, মিরপুর রোড ও জিগাতলা হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও মহাখালী সড়ক ঘুরে ফিরে আসেন।

উভয় সিটি করপোরেশনের দাবি, বর্জ্য অপসারণের কাজ অত্যন্ত জোরদারভাবে চলছে এবং বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ইতিমধ্যে ল্যান্ডফিলে ডাম্প করা হয়েছে। আজ সকালে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অস্থায়ী পশুর হাট পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ‘নগরবাসীর স্বস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব বর্জ্য অপসারণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অবৈধভাবে বা রাস্তা দখল করে যারা হাট পরিচালনা করেছে, তদন্তসাপেক্ষে সেই ইজারাদারদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও কালো তালিকাভুক্ত করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ডিএসসিসির তথ্যমতে, ঈদের দিন থেকে আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৯ হাজার ৬৪১ টন কোরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ডাম্প করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সরানো হয়েছে ৪ হাজার ৮২৭ টন বর্জ্য।

ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ঈদের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৬ দশমিক ৪৮ টন এবং আজ বেলা ২টা পর্যন্ত আরও ৩ হাজার ৩৯৫ দশমিক ৬৯ টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে স্থানান্তর করা হয়েছে।

দুই সিটিই দাবি করেছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত জনবল, পরিচ্ছন্নতা সরঞ্জাম ও বিশেষ তদারকি দল সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত