লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতাসহ আহত ৩, ককটেল বিস্ফোরণ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন বিএনপি নেতা এবাদ উল্যা গাজী (৬৬), জাহিদুল ইসলাম (১৫) ও খোরশেদ আলম (৩৪)। তাঁদের মধ্যে এবাদ উল্যা গাজী ও জাহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে খোরশেদ আলম উপেজলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সুজন (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। তাঁর বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়েছে। সুজনের ভাষ্য, তিনি ঢাকার বায়তুল মোকাররম এলাকায় ফুটপাতে টুপি বিক্রি করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রাতেই খাসেরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার জন্য তাঁরা বিবাদমান প্রতিপক্ষ শামীম গাজীর পক্ষকে দায়ী করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শামীম গাজীকে গত সোমবার রাতে পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম সুজন দাবি করেন, এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে সেখানে আনা হয়েছে। আসিফ নামের এক ব্যক্তি এবাদ উল্যা গাজীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁকে সেখানে নিয়ে যান। আসিফ ঢাকায় ফুটপাতে তাঁর সঙ্গে টুপি বিক্রির ব্যবসা করেন বলেও দাবি করেন সুজন। তিনি বলেন, শামীম গাজী কিংবা এবাদ উল্যা গাজীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সঞ্জয় দাস বলেন, আহত দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সুজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয় লোকজন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।








