Ajker Patrika

উদয়ন স্কুলে এআই দিয়ে ছাত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় ১০ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

ঢাবি প্রতিনিধি
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ২১: ১৬
উদয়ন স্কুলে এআই দিয়ে ছাত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় ১০ শিক্ষার্থীকে শাস্তি
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীর ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিকৃত করা, অশালীন বার্তা পাঠানো ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় ১০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সকালে তারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জমায়েতের চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখে। পরে তালা ভেঙে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ করে তারা। এ সময় ‘হয়রানিমুক্ত স্কুল চাই’, ‘মেয়েদের নিরাপত্তা চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, ভুক্তভোগী ও প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ করা, ক্লাসে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা শিক্ষার্থীদের পুনর্বহাল এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম মুনিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে হওয়ায় বিদ্যালয় প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। অভিযোগ জানাতে গিয়েও তারা প্রতিকার পায়নি। উল্টো প্রতিবাদী ১০ শিক্ষার্থীকে আলাদা কক্ষে আটকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া এবং ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগের পক্ষে ডিজিটাল প্রমাণ থাকা একটি মুঠোফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী ছাত্রী বলে, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছে। সম্প্রতি তার আপত্তিকর ছবি তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সে বিব্রত ও আতঙ্কিত। আরেক ছাত্রী বলে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে তাদের অশালীন বার্তা পাঠিয়েছে এবং হুমকি দিয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মো. জামিল হোসেন বলে, গত ৭ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সহকারী প্রক্টর বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। পরদিন ১০ শিক্ষার্থীকে আলাদা কক্ষে আটকে রেখে তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়। পরে অভিভাবকদের প্রতিবাদের মুখে তাদের আলাদা কক্ষে পরীক্ষা নেওয়া হলেও শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এতে পূজার ছুটিসহ প্রায় ২৫ দিন তারা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়।

এ ঘটনায় বিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টরকে নিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে রাখা হয়েছে। তাদের শিখন ঘাটতি পূরণ করা হবে। তদন্ত কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তির বিষয়টি তিনি উপাচার্যকে জানাবেন। তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের অবিচার হতে দেব না। এখানে কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, গত ৭ অক্টোবর তাঁর ছেলেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী মারধর করে। এতে তাঁর ছেলে আহত হয়। এ ঘটনায় পরদিন তিনি বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হলে তিনি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তাঁর দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে তাঁর ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বর্তমানে ছেলেকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নই। স্কুল কর্তৃপক্ষই বিষয়টি দেখবে। তবে সেখানে যাতে কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের পাঠিয়েছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত