Ajker Patrika

স্কুলের টিফিনের বিরতির সময়ও শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান তিনি

মো. ইব্রাহিম, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ২১: ২০
স্কুলের টিফিনের বিরতির সময়ও শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান তিনি
সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় চরজাঙ্গালিয়া কে হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানকার সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি সকালে ও বিকেলে বিভিন্ন ব্যাচে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান তিনি। এমনকি স্কুলের টিফিনের বিরতির সময়ও স্কুলের পাশের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১টা ৫৭ মিনিটে ধারণ করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নির্ধারিত টিফিন বিরতির সময় বেলা ১টা থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। বিরতি শেষ হওয়ার পর বেলা ২টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে কোনো শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। অথচ এ সময় বিদ্যালয়ের পাশে একটি ভাড়া বাসায় ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছিলেন দেলোয়ার হোসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, সকালে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম স্কুলে দৌড় দেয় বাচ্চাগুলো। টিফিনের বিরতিতে একটু খাবে, খেলবে—সেই উপায় নাই তাদের। ওই সময়ও প্রাইভেট পড়তে হয়। অভিভাবকেরাও বাধ্য হয়ে মেনে নিয়েছেন বিষয়টা। শিক্ষার্থীপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেন এই শিক্ষক।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, বৃত্তি পরীক্ষা থাকায় তিনি টিফিন বিরতির সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। শুক্রবারও তিনি শিক্ষার্থীদের পড়ান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রাসেল বলেন, বিরতির সময়ে প্রাইভেট পড়ানো ঠিক নয়। তবে অভিভাবকদের অনুরোধে তিনি পড়ান। দেলোয়ার ভালো শিক্ষক।

স্কুলের পাশে ভাড়া বাসায় প্রাইভেট পড়ানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ছবি: আজকের পত্রিকা
স্কুলের পাশে ভাড়া বাসায় প্রাইভেট পড়ানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ছবি: আজকের পত্রিকা

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রান্তিক সাহা বলেন, ‘আমি শুনেছি, ওই শিক্ষক ইংরেজিতে ভালো হওয়ায় ঝরে পড়া ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পড়ান। তবে তিনি বাইরে কক্ষ ভাড়া নিয়ে পড়ান, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, স্কুল টাইমে প্রাইভেট পড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করার বিষয়ে এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত