ডিএস পুলের পদোন্নতি নিয়ে প্রাণিসম্পদে কারসাজির অভিযোগ
• অনিয়ম ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ
• একাধিকবার নামের তালিকা কাটাছেঁড়া করার অভিযোগ
• নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আমার জানা নেই: ডিজি

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ডিএস পুলের (উপসচিব পদে পদোন্নতি) জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবিত কর্মকর্তাদের নামের তালিকায় জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন ও কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. শাহজামান খান বিসিএস (প্রাণিসম্পদ) ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে নিজ পছন্দের জুনিয়র কর্মকর্তাদের নাম প্রস্তাব করেছেন। তা ছাড়া মেধাতালিকা অনুসরণ করেও মন্ত্রণালয়ে নাম পাঠানো হয়নি।
তবে অধিদপ্তরের ডিজি বলেছেন, যথাযথ নিয়ম মেনেই মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিসিএস (পশুসম্পদ) ক্যাডার কর্মকর্তাদের আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অধিদপ্তরে গত ৯ সেপ্টেম্বর চিঠি পাঠানো হয়। আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের সর্বশেষ সময়সীমা ছিল গত ২৮ সেপ্টেম্বর। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজি চিঠির বিষয়টি সবার নজরে আনেন গত ২৭ সেপ্টেম্বর। ওই দিন চিঠিটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটেও দেওয়া হয়।
কর্মকর্তারা বলছেন, কম সময়ে অনেক কাগজপত্র জমা দেওয়ার বিষয় থাকায় অনেকে আবেদন করতে পারেননি। তবু যাঁরা মন্ত্রণালয় থেকে কারও মাধ্যমে খবর পেয়েছেন, তাঁরা আবেদন করতে পেরেছেন। এই আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৫০ জন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত ১ অক্টোবর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে ১০ জন কর্মকর্তার তালিকা পাঠান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, প্রথমে মন্ত্রণালয়ে যে তালিকা পাঠানো হয়েছিল, তা একাধিকবার কাটাছেঁড়া করে দুটি নাম বাদ দিয়ে নতুন করে দুটি নাম যুক্ত করা হয়েছে।
প্রথম তালিকায় নাম ছিল, পরে বাদ পড়েছেন—এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সব খবর পেয়েছি। অধিদপ্তরের কর্তারা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো নাম পরিবর্তন করেছেন।’
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, কাটাছেঁড়ার পর নতুন তালিকায় রফিকুল ইসলাম নামের এক কর্মকর্তার নাম পাঠানো হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর ডিএস পুলের জন্য পাঠানো প্রস্তাবিত নামের তালিকায় আমার নাম ছিল। তখন তালিকায় আমার আগে সিরিয়ালে থাকা চারজনের পদোন্নতি হয়েছে। এ বছর প্রথম তালিকায় এক নম্বরে আমার নাম থাকার কথা ছিল, সেটা দেয়নি।’ তিনি দাবি করেন, তাঁর রাজনৈতিক ত্যাগের কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। এ কারণে পরে তালিকায় তাঁর নাম যুক্ত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ডিএস পুলের পদায়নের বিষয়ে প্রাণিসম্পদের পাঠানো তালিকা নিয়ে অনেক লুকোচুরি চলছে। নামের তালিকা থেকে বাদ পড়া অনেক যোগ্য কর্মকর্তা প্রাণিসম্পদের ডিজির বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য প্রাণিসম্পদের আগ্রহী কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মেধা, দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে ডিএস পুলের জন্য নাম প্রস্তাবের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জ্যেষ্ঠদের বাদ দিয়ে নিজের পছন্দের জুনিয়র কর্মকর্তাদের নাম পাঠিয়েছেন।
এই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ৩৩তম ব্যাচের নির্দিষ্ট একজন জুনিয়র কর্মকর্তাকে সুবিধা দিতে উপসচিব পদের যাবতীয় শর্ত পূরণকারী ৩১তম বিসিএস ক্যাডারের পুরো ব্যাচকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ৩৩তম ব্যাচের ওই কর্মকর্তার আগে মেধানুক্রম থাকা কাউকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, বর্তমানে ৩০তম বিসিএস ব্যাচের ১৮০ জন কর্মকর্তার মধ্যে তিনজন ও ৩৩তম বিসিএস ব্যাচের ১৭০ জন কর্মকর্তার মধ্যে সাতজনের নাম সুপারিশ করা হয়েছে। আর ৩১তম বিসিএস ব্যাচের ৩৮ জন কর্মকর্তার কারও নামই সুপারিশ করা হয়নি।
অধিদপ্তর সূত্র বলেছে, বর্তমানে ৩০ ও ৩১তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ষষ্ঠ গ্রেডে কর্মরত। সে হিসাবে ৩৩তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের পঞ্চম গ্রেডে সুপারিশ করা ক্যাডার সার্ভিস নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, ‘ডিএস পুলের বিষয়ে নিয়ম মেনে যথাসময়ে ১০ জনের নামের তালিকা প্রস্তাবনা আকারে পাঠিয়েছি। নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আমার জানা নেই। এটা মন্ত্রণালয়ের বিষয়।’









