Ajker Patrika

ঈদে কোটি টাকার গরু বিক্রির আশা গৃহবধূ ইলার

ঝালকাঠি প্রতিনিধি  
ঈদে কোটি টাকার গরু বিক্রির আশা গৃহবধূ ইলার
নিজের খামারে গরুর গায়ে হাত বুলান ফারিয়া আক্তার ইলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি এলাকার গৃহবধূ ফারিয়া আক্তার ইলা। মাত্র তিন বছর আগে শখের বশে একটি গরু পালন করা শুরু করেন তিনি। সেই ছোট উদ্যোগই এখন পরিণত হয়েছে একটি বাণিজ্যিক খামারে। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ৬৪টি গরু। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৩০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে, ইতিমধ্যে কয়েকটি বিক্রিও হয়েছে। এবার ঈদে প্রায় এক কোটি টাকার গরু বিক্রির আশা করছেন তিনি।

২০২৩ সালে বাবার বাড়িতে একটি গরু দিয়ে খামারের কার্যক্রম শুরু করেন ইলা। শুরুতে আত্মীয়স্বজনের সমালোচনা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হলেও তিনি থেমে যাননি। প্রবাসী স্বামী মো. সুমন খানের সহযোগিতায় নিজের দৃঢ় মনোবল ও পরিশ্রমে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন ‘ফাহিয়ান এগ্রো ফার্ম’।

বর্তমানে তাঁর খামারে ফাইটার, শাহিওয়াল, ওয়েস্টার্ন ফ্রিজিয়ানসহ বিভিন্ন জাতের গরু আছে। গরুর পাশাপাশি হাঁস, মুরগি, কবুতর ও ছাগলও রয়েছে এবং ছোট পরিসরে মাছ চাষও করছেন তিনি। এতে স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে খামার এলাকায় দেখা যায়, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারের দৈনন্দিন কার্যক্রম নিজেই তদারকি করেন ইলা। গরুর খাদ্য ব্যবস্থাপনায় দেশীয় পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—গরুকে খড়, ঘাস ও দানাদার খাদ্য দেওয়া হচ্ছে।

ইলা বলেন, ‘শখের বসে একটি গরু দিয়ে শুরু করেছিলাম। তখন অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। একজন নারী হিসেবে খামার পরিচালনা করতে গিয়ে নানা সমালোচনার মুখে পড়েছি। তবে আমি থেমে যাইনি।’

ইলা জানান, প্রবাসী স্বামীর সহযোগিতা ও পরিবারের সমর্থনই তাঁকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা খামারে আসেন এবং গরু ক্রয় করেন।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে খামারে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ইলা। তিনি বলেন, ‘এবার কোরবানির জন্য ৩০টি গরু প্রস্তুত করেছি। এর মধ্যে কয়েকটি ইতিমধ্যে বিক্রি হয়েছে। ক্রেতারা খামারে এসে গরু দেখছেন, আবার বিক্রির জন্য কিছু গরু বিভিন্ন হাটেও নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, ঈদের আগেই অধিকাংশ গরু বিক্রি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এবার প্রায় এক কোটি টাকার গরু বিক্রি। ভবিষ্যতে খামার আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

খামারে কর্মরত শ্রমিকেরা জানান, এখানে গরুগুলোকে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে লালন-পালন করা হয়। কাজের মাধ্যমে তাঁরা নিয়মিত আয় করছেন এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে পারছেন। ইলার উদ্যোগে স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

রাজাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ফারিয়া আক্তার ইলা একজন পরিশ্রমী ও সফল নারী উদ্যোক্তা। দেশীয় পদ্ধতিতে গরু পালন করে তিনি সফলতা অর্জন করেছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত