Ajker Patrika

ঢামেকে পুলিশ-এনএসআই যৌথ অভিযান, ৪৫ দালাল আটক

ঢামেক প্রতিবেদক
ঢামেকে পুলিশ-এনএসআই যৌথ অভিযান, ৪৫ দালাল আটক
ফাইল ছবি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ৪৫ জন দালালকে আটক করেছে পুলিশ। পরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের যাচাই-বাছাই করে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেন। আটককৃতদের মধ্যে ৫ জন নারী।

হাসপাতালের ২ নম্বর ভবনে আজ সোমবার সকালে এই অভিযান চালায় এনএসআই ও শাহবাগ থানা-পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল চক্র বহুদিন ধরে রোগীদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছিল। নানা কৌশলে তাদের বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে নিয়ে যেত তারা। রোগীদের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিত।

পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ আলম বলেন, সাদা পোশাকে নজরদারির পর আজ সকালে এনএসআই ও শাহবাগ থানা-পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ৪৫ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৫ জন নারী। তাদের আটকের পর শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের রমনা বিভাগের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের শাস্তি দেন ম্যাজিস্ট্রেট।

ডিএমপির উপ-কমিশনার আরও বলেন, আটক ৪৫ জনের মধ্যে ১৯ জন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি। তাঁদের হাসপাতালে ভিজিটের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। সেটি সোম ও বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার পর। কিন্তু আজ সোমবার তাঁরা সেই সময়ের আগেই হাসপাতালে ঢুকেছিলেন। সে জন্য তাদেরও আটক করা হয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের আটকের খবরে শাহবাগ থানার সামনে জড়ো হন তাঁদের শতাধিক সহকর্মী ও কোম্পানির কর্মকর্তারা। সহকর্মীদের ছাড়ানোর জন্য তারা তদবির করতে থাকেন। সেখানে কথা হয় ফার্মাসিউটিক্যালস্ রিপ্রেজেনটেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের (ফারিয়া) সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল ভিজিটে আমাদের সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবারের ভিজিটেই ছিলেন আমাদের রিপ্রেজেনটেটিভ। সেখান থেকে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। এটির প্রতিবাদ করছি আমরা।’

হাসপাতালে ভিজিটের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে সপ্তাহের প্রতিদিনই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতালের ওয়ার্ড, চিকিৎসকের কক্ষে দেখা যায়। রোগীদের প্রেসক্রিপশন হাত থেকে টেনে নিয়ে ছবি তুলতেও দেখা যায় হরহামেশা। এ বিষয়ে তাঁদের কোনো দিক নির্দেশনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কোম্পানির ওষুধের বিষয়ে চিকিৎসকেরা যখন ডাকেন তখন তাদের সাথে দেখা করতেই রিপ্রেজেনটেটিভ ডাক্তারের রুমে যেয়ে থাকেন। আর রোগীদের প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এমনটি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত