Ajker Patrika

ছাত্রদল নেত্রীর কাছে থাপ্পড় খেয়ে পদত্যাগ জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক নাঈমের

জবি প্রতিনিধি‎‎
ছাত্রদল নেত্রীর কাছে থাপ্পড় খেয়ে পদত্যাগ জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক নাঈমের
জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম। ছবি: সংগৃহীত

‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আজ ‎সোমবার জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। তবে তা এখনো গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভিপি।

‎গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে ক্রীড়া সম্পাদক নাঈমকে থাপ্পড় মারেন ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলী। ঘটনাটি মুহূর্তেই ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে নাঈম পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

‎‎ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে নাঈম কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং অভিযুক্ত ছাত্রদল নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে জকসুর পক্ষ থেকে দুই দফা আলটিমেটাম দেওয়া হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত সাদিয়া সুলতানা নেলীকে সাময়িক বহিষ্কার করে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে।

গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন। তবে বহিষ্কারের পরদিনই আজ সোমবার তাঁকে ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

‎‎পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে নাঈম বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাটি আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। ক্যাম্পাসে এলেই সেই ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত মনে পড়ে। নিজের কাছে নিজেকে ছোট মনে হয়। এই মানসিক চাপ নিয়ে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছিল না বলেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

নাঈম অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা প্রথমে আশাব্যঞ্জক মনে হলেও পরে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা পুরো বিষয়টিকে বিভ্রান্তিকর করে তুলেছে। যদি বহিষ্কারের পরও সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে সেটি আদৌ বহিষ্কার কি না, এই প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

‎‎নাঈম দাবি করেন, জকসুর পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দুটি দাবি জানানো হয়েছিল—অভিযুক্ত ব্যক্তির স্থায়ী বহিষ্কার এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনা। কিন্তু প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্যই সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা পরে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

‎এদিকে পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো পদত্যাগের খবরটি পুরোপুরি সঠিক নয়। নাঈম একটি আবেদন জমা দিয়েছেন ঠিকই, তবে সেটি এখনো গ্রহণ বা অনুমোদন করা হয়নি। তিনি এখনো জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবেই বহাল আছেন।

‎‎জকসুর এজিএস মাসুদ রানা এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘একদিকে বহিষ্কার, অন্যদিকে পরীক্ষা এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

উত্তপ্ত কলকাতা: মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান, বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ

তামিলনাড়ুতে থালাপতি বিজয়ের উত্থানের ইঙ্গিত, কেরালায় শেষ দুর্গ হারাচ্ছে বাম

যেসব পুরুষকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছে ইসলাম

অপরাধীরা বেপরোয়া, পুলিশে অস্বস্তি অভিযান নিয়ে

রেকর্ড ৮০০ কোটি ডলার ‘উত্তরাধিকার কর’ দিল স্যামসাং পরিবার, বাংলাদেশেও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত