Ajker Patrika

১১টি পলিথিনে ভরা হয়েছে নারীর লাশ, এখনো উদ্ধার হয়নি মাথা ও পা

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০০: ৫২
১১টি পলিথিনে ভরা হয়েছে নারীর লাশ, এখনো উদ্ধার হয়নি মাথা ও পা
ফরিদা বেগম। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সকাল থেকে নিখোঁজ এক নারীকে হত‍্যার পর লাশ টুকরা করে পলিথিনে ভরে বস্তাবন্দী অবস্থায় ঘরের পেছনে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ভাড়াটে লাইলী বেগমকে স্থানীয়রা আটক করে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকার দেবিদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে লাশ টুকরা টুকরা করে ১১টি পলিথিনে প্যাকেট করে বস্তাবন্দী অবস্থায় ঘরের পেছনে ফেলে রাখে ঘাতকেরা।

হত‍্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের বাসার ভাড়াটে লাইলী বেগমকে (৩৫) বিক্ষুব্ধ লোকজন আটক করে ধোলাই দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা দিতে গেলে সেখানেও বিক্ষুব্ধ লোকজন অবস্থান নেন। পরে ঘণ্টাখানেক পর বিপুলসংখ্যক পুলিশ এসে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।

নিহত গৃহবধূ ফরিদা বেগম (৫৫) দেবিদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়াবাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার (৬৫) স্ত্রী। স্বামী মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন এবং দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তিনি স্বামীর বাসায় ভাড়াটেদের নিয়ে একাই থাকতেন।

স্থানীয়রা জানান, নিহত গৃহবধূ ফরিদা বেগম নিজ বাসায় একা থাকতেন। প্রায় ৩০ বছর পূর্বে তাঁরা মোহনা আবাসিক এলাকায় বাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছিলেন। স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন এবং দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে একাই বসবাস করতেন ফরিদা বেগম। বাড়ির অন্য একটি ঘর ভাড়া দেওয়া হয় লাইলী আক্তারের কাছে। শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যায় ফরিদা বেগমের লাশ বস্তাবন্দী অবস্থায় ঘরের পেছনে খুঁজে পান।

স্বজনেরা জানান, সকাল থেকেই ফরিদা বেগমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ডায়াবেটিসের কারণে প্রতিদিন হাঁটতে বের হতেন। তাই তাঁর স্বজনেরা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি খোঁজ নেন। পরে না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করেন। থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ নেয়নি বলেও তাঁর স্বজনেরা জানিয়েছেন। পরে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাসার পেছনে পলিথিনের কয়েকটি প্যাকেটে তাঁর খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ জানিয়েছেন, লাইলী বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফরিদা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর সঙ্গে সহযোগী স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল এবং ইমনসহ কয়েকজনের নাম বলেন।

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা বেগমের টুকরা করা লাশের কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পা এবং মাথা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আটক লাইলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। যাচাই-বাছাই করে বাকি আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত