Ajker Patrika

ইনানীতে গ্যাসের আগুনে থার্মোজেনিক, ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পরে সিদ্ধান্ত: পেট্রোবাংলা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২৩: ৫৮
ইনানীতে গ্যাসের আগুনে থার্মোজেনিক, ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পরে সিদ্ধান্ত: পেট্রোবাংলা

কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানীতে নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসে আগুন লাগার ঘটনা পর্যবেক্ষণে গেছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সংস্থাটির পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানিয়েছেন, ইনানীতে নির্গত হওয়া এই গ্যাসে থার্মোজেনিক রয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসের সঙ্গে কিছুটা তেলের মিশ্রণ বা উচ্চ হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজ শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইন্স) প্রকৌশলী মো. শোয়েবের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পরিদর্শন শেষে প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভা করা হয়েছে। সভায় বাপেক্সের কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপককেও রাখা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগুনের উৎস ও আশপাশের এলাকাকে বিভিন্ন নিরাপত্তা অঞ্চলে ভাগ করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ইনানীতে নির্গত হওয়া এই গ্যাসে থার্মোজেনিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার এই পরিচালক। তিনি বলেন, ‘আগুনের সঙ্গে তেল আসছে। এই স্তরে বাংলাদেশে সাধারণত গ্যাস পাওয়া যায় না। আমাদের যেসব স্থানে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে, তা দুই থেকে পাঁচ কিলোমিটার নিচে। কোনো ক্ষেত্রে দেড় কিলোমিটারও আছে।’ প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই গ্যাসের সঙ্গে কিছুটা তেলের মিশ্রণ বা উচ্চ হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি রয়েছে।

এ প্রকৌশলী সতর্ক করে বলেন, নির্গত এই গ্যাসের আগুন কোনোভাবেই জোর করে নেভানো যাবে না। গ্যাস বের হওয়ার পথও কোনোভাবে বন্ধ করা যাবে না। যদি জোরপূর্বক আগুন নেভানো বা পথ বন্ধের চেষ্টা করা হয়, তবে গ্যাস ভূগর্ভে জমে উচ্চচাপের সৃষ্টি করবে এবং এর ফলে চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বড় ধরনের ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে শোয়েব বলেন, বাপেক্সের টিম নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করবে কী ধরনের সম্ভাবনা আছে। তারপর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকৌশলী মো. শোয়েব আরও বলেন, আগুনের উৎস একটি অগভীর গ্যাসের মজুত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের শিখার রং দেখে গ্যাসের সঙ্গে তেল বা কনডেনসেট থাকারও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্যাসের প্রকৃতি ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এই প্রক্রিয়া মেনে করা হয়।

এদিকে আজ সকাল থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। জননিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টায় উখিয়ায় ইনানীর ছোট সেতু-সংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বাড়িতে নলকূপ স্থাপনের সময় গ্যাসের এই আগুন জ্বলে ওঠে। ওই দিন রাতেই ঢাকা থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে আসে। তারা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত